ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

লেখার শুরুতেই আমাদের প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই অমর বানীর কথা মনে পড়ে গেল।

“বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর,
অর্ধেক তার আনিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর”।

বিজ্ঞান আর সভ্যতার চরমতম উন্নতির ফলস্বরূপ নারী যখন প্রতিটা বিষয়েই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে। নারীর উৎসাহ আর অনুপ্রেরণা নিয়ে পুরুষদের পরিপূর্ণ জীবন। আর এখন তো প্রত্যক্ষভাবে সব কিছুতেই নারীর অংশগ্রহণ।ঠিক তখনই এই সভ্য দুনিয়ার কিছু কিছু জায়গায় চলছে অসভ্যতা আর নোংরামির বর্বরতম খেলা। যার জ্বলন্ত প্রমাণ গত ৯ অক্টোবর পাকিস্তানে মালালা’র উপর বর্বরতম হামলা। একটি কিশোরী মেয়ের উপর এমন বর্বরোচিত হামলা হওয়ার পর অনেক মুখোশধারী ভদ্রলোকদের দেখছি মালালা’র কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করতে। শ্রদ্ধেয় হযরত ভাইয়ের লেখা মালালার কাছে খোলা চিঠি পড়ে খুবই ভালো লেগেছে। http://blog.bdnews24.com/johorot/127081. আর সেই সাথে হযরত ভাইয়ের লেখার প্রেক্ষিতে অন্য আর একজন ব্লগার এর মন্তব্য পড়ে হতাশ হয়েছি। যিনি বলেছেন যে, মালালা যা করেছে সেটা ঠিক করেনি। আমি ঐ জনৈক ভদ্রলোক এবং তার পাশাপাশি যারা তাকে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে সমর্থন করেন, তাদের কে বলিছ- কোন কাজটা ঠিক করেনি মালালা? নিজেকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে চেয়ে? একজন মানুষ হিসেবে সমাজ আর দেশের ভালো কামনা করে? তালেবানদের নিয়ম নীতিকে লঙ্ঘিত করে মালালা ভালো করেনি? যদি আপনারা সেটা মনে করেন, তাহলে আমি বলেবা আপনার দৃষ্টিতে “ঠিক করেনি” আরো বেশি করেই হতে থাকবে। মালালা তালেবানদের নিয়ম নীতি আর অরাজকতার বিরুদ্ধে ম্যাচ কাঠি জ্বালিয়ে দিয়েছ। মালালার প্রজ্জ্বলিত এই শিখায় জ্বলে পুড়ে নি:শ্বেষ হয়ে যাবে সমস্ত অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলা। সত্যের আলোয় উদ্ভাসিত হবে সারা পৃথিবী। যেখানে আর কোন মালালা’র জীবন বিপন্ন হবেনা।যেখানে মেয়ে হয়ে জন্ম নেবার জন্য সুস্থ আর স্বাভাবিক জীবন থেকে কেউ বঞ্চিত হবে না। যেখানে আর কোন ভদ্রবেশী বলতে পারবে না যে মালালারা ঠিক করেনি!!!একজন মালালার পথ ধরে এখন জন্ম নেবে আরো লক্ষ- কোটি মালালা। আমি আশা করব এখন থেকে পাকিস্তানে যত জন কন্যাশিশু জন্ম নেবে প্রত্যেকেই যেন একজন করে মালালা হয়ে জন্ম নেয়। যারা বর্তমান আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে বিশৃঙ্খল এই রাষ্ট্রটার সকল অন্ধকার আর অমানিশাকে দূর করে দিতে পারবে। আর একটি সভ্য রাষ্ট্র হিসাবে পাকিস্তান ও মাথা উচু করে দাঁড়াতে পরবে। আর সভ্য সুন্দর একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি নারীকে ও শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে হবে। মাথা উচু করে দাঁড়াতে হবে বর্বরতা আর অসভ্যতার বিরুদ্ধে।

যেসব ভদ্রলোক মালালার কাজ কে অন্যায় বলছেন, আমি তাদের কে বলছি, আপনারা আপনাদের বুকে হাত রেখে বলুন তো, আপনি চাইবেন আপনার মা, বোন, বধূ অশিক্ষার অন্ধকারে ডুবে থাকুক? অথবা সারাটা ক্ষন ঘরে সাজিয়ে রাখা দামী শো-পিস এর মত পরে থাকুক। যদি সেটা আপনি চেয়ে থাকেন তাহলে আমি বলবো নিজের চিন্তা চেতনাকে পাল্টান। শুধু মুখে মুখে প্রগতিবাদী হবেন না। আর যদি আপনি আপনার পরিবারের মেয়েদের শিক্ষা আর স্বাধীনতা দিয়ে থাকেন, তাহলে এটা আপনাকে মেনে নিতে হবে যে, মালালা’রা ও এই সভ্যতার অধিকারী। সুন্দর আর প্রগতিশীল জীবন ওদের ও কাম্য। এটা ওদের অধিকার। আর সেটা না পেয়ে ওরা যে প্রতিবাদ করছে সেটা ১০০% সঠিক। শুধু নিজের বেলায় সবটুকুই চাই, আর অন্যরা চাইরে স্বৈরাচারী এই মানসিকতা পরিহার করুন। একজন মালালার প্রজ্জ্বলিত শিখায় সকল গোড়ামি আর অন্যায় দূর হয়ে যাক এই কামনা করি। আর যখন আমি লেখাটা লিখছি তখন মালালা সম্ভবত যুক্তরাজ্যে পৌঁছে গেছে। সেখানে থেকে ওর উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে পরিপূর্ণ সুস্থতা কামনা করছি। বেঁচে থাকুক মালালা। বেঁচে থাকুক আমাদের সুন্দর স্বপ্ন। আর আশা করছি বাস্তবতার দূয়ারে আমাদের সে স্বপ্ন পৌঁছে যাবে খুব তাড়াতাড়ি।