ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ব্যক্তিগত কিছু ঝামেলার জন্য আমাকে কিছুদিন ইন্টারনেটের মায়াজাল থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল বলে তাৎক্ষিক ভাবে ব্যাপারটা শেয়ার করা হয়নি। কিন্তু ব্যাপারটা আমার মনে এত বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যে সুেযাগ পাওয়া মাত্রই লিখতে বসলাম।

গত ৩রা জানুয়ারি এ ঘটে যাওয়া ছোট্ট একটি ঘটনা শেয়ার করবো। ঐদিন বেলা ১টা নাগাদ আমি সরকারী তিতুমীর কলেজে গেলাম আমার মাষ্টার্স এর সার্টিফিকেট তুলতে। ২০১১ এর মে মাসের পর এটা আমার প্রথম তিতুমীর কলেজে যাওয়া। আমি সার্টিফিকেট তুলতে যাওয়ার আগে আমার এক বন্ধৃকে ফোন করি, যে মহাখালী তে একটা অফিস এ চাকুরী করে। আমি আমার বন্ধুকে জানালামম যে অনেক দিন পর আমি যাচ্ছি, একা কেন যেন একটু আনইজি লাগছে। আর তাছাড়া ওর অফিসটাও কলেজের কাছেই। তো তাই আমি আমার ঐ বন্ধুকে ৩০মিনিট এন জন্য ডাকলাম। অফিস এ আমার সার্টিফিকেট তুলতে ১০ মিনিট এর মত সময় লাগলো। সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে বের হয়ে একটু এগিয়ে একটা জায়গার ৮/১০ জন ছাত্র-ছাত্রী কে বসে থাকতে দেখে আমরাও বসে পড়লাম আমার প্রাপ্ত নাম্বার নিয়ে কথা বলতে বলতে। বড়জোড় ২মিনিট হবে। হঠাৎ আমাদের সামনে ৫/৬ জন ছেলে এসে দাড়ালো। যাদের মধ্যে একজন কে দেখে আমার কাছে মনে হলো রীতিমত গুন্ডা। সেই ছেলেটি ই আমাদেরকে ধমক দিয়ে বলল “আপনারা এখান থেকে উঠেন তো। এটা আপনাদের বসার জায়গা নয়। এখানে আমরা ছাত্রলীগ নেতারা বসি।” আমার বন্ধু তখন তাকে স্বাভাবিকভাবে বলল, এখানে কি সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের বসার অধিকার নেই? তো ঐ নেতা বলল যে না। তাকে খুব উগ্র অবস্থায় বলল যে না। আমি তখন তাকে স্বাভাবিক ভাবে বলতে চাইলাম যে, আসলে আমরা ২/৪ মিনিট এর জন্য বসেছি, এখনি চলে যাব। আর আসলে সামান্য একটা বেদীতে বসলে এমন করা উচিত নয়। ছেলেটি চিৎকার করে বলে উঠল “আপনাদের কি আবার বলতে হবে যে এখান থেকে উঠে চলে যান”? আমার বন্ধুটি কিছু বলতে চাইলে আমি তাকে জোড় করে থামিয়ে দিলাম। কারন, আমার চোখের সামনে তখন ভেসে উঠছিল বিশ্বজিত দাস হত্যাকান্ডের প্রতিটি দৃশ্য।

আমার এখন বারবার শুধু এটাই মনে হয় এখন আমাদের ছাত্র নেতাদের দ্বারা সব ধরনের খারাপ কাজ করা সম্ভব। আর তাই আমি আমার বন্ধুর জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে তার বাকস্বধীনতাকে খর্ব করলাম। সাথে আমার নিজেরটাও। আমি তাদেরকে শুধু এইটুকু বলে আসলাম যে, আপনাদের মত বাজে কিছু লোকের জন্য পুরা দলটারই এত বদনাম এখন”। আর কিছু বললাম না। কিন্তু খুব আফসোস হচ্ছিল কেন আরো বেশি কিছু বলতে পারলাম না। এখনো খুব মেজাজ খারাপ হচ্ছে এটা ভেবে যে, কেন আমাদের নীতিনির্ধারকরা এমন অসভ্য, ক্ষমতালোভী আর বিশৃঙ্খলাসৃষ্টিকারীদের কে দলে স্থান দেয়। আর সময় নেই। এখনই যদি এইসব নেতৃত্ব নির্ধারনে সচেতন না হওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরো বেশি সমস্যা হবে। আজকের ছাত্রনেতাই আগামী দিনের জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী অথবা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী। সারা বিশ্বের কাছে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির প্রতিনিধি করবে আজকের ছাত্র নেতারাই। কিন্তু তারা যদি ছাত্রাবস্থায়ই ন্যূন্যতম উদারতা তথা ত্যাগের িনদর্শন দেখাতে না পারে, আগামীল বাংলাদেশ তাদের কাছে কি আশা করতে পারে? শুধুই কি লোক ঠকানো, ক্ষমতা দখল আর বর্হিবিশ্বে দেশের বদনাম ছড়ানো? আমরা তো এটা চাইনা। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোন রাজনীতি করিনা। কিন্তু মনে প্রানে একজন কে শ্রদ্ধার উচ্চতর আসনে বসিয়ে রেখেছি। যাকে নিয়ে কোন তর্ক করা যায়না বলে আমি মনে করি। সে বঙ্গবন্ধু। আর তার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে সবার আগে এই রকম বাজে নেতৃত্বকে ধুয়ে মুছে দিতে হবে। ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্ব সৃষ্টির জন্য সবার আগে বঙ্গবন্ধুর জীবনী ভালো করে রপ্ত করতে হবে। বিশেষ করে তার “অসমাপ্ত আত্মজীবনী” খুব ভালো করে পড়ে তার থেকে শিক্ষা নিতে হবে। বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে কিভাবে ত্যাগ স্বীকার করেছে প্রতিটি পদে পদে। আর বঙ্গবন্ধুর জীবনী থেকে যারা শিক্ষাগ্রহণ না করবে, বুঝতে হবে তারা কখনোই সত্যিকার ভাবে লীগ রাজনীতি পছন্দ করে না। শুধুমাত্র অর্থ আর ক্ষমতার লোভে তারা কোন একটা পক্ষ অবলম্বন করে। আর এমন রাজনীতিবিদদের দ্বারা কখনো জাতি ভালো কিছুই আশা করতে পারেনা। এরা নিজের স্বার্থ আদায়ের জন্য এমন কোন খারাপ কাজ নেই যা করতে পারেনা। তাই এমন রাজনীতিবিদদের প্রতি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে শুদ্ধতায় ধুয়ে দেওয়ার এখনি সময়। আরো দেরী করে ফেললে খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে। মাননীয় যোগাযোগ মন্ত্রীর সাথে আমিও পুরাপুরি একমত, এনালগ ছাত্রলীগ চাই। যা স্বাধীনতা পূর্ব সময় ছিল। যে ছাতোলীগের হাতে বহু স্বর্নোজ্জ্বল ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। দেশ অনেক কিছু অর্জন করেছে। েয ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দিক্ষীত ছিল। আমরা আবার সেই ছাত্রলীগ কে ফিরে পেতে চাই। যাদের হাত ধরেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। যা বর্তমান ছাত্রনেতাদের ৯৯% এর দ্বারা সম্ভব নয়। তাই এখনই সময়। প্লীজ একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে করজোড়ে মিনতি করছি, আমরা এমন ছাত্রলীগকে দেখতে চাইনা।