ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

ছয় দফা আন্দোলনে শাহাবাগ প্রজন্ম চত্বরে শুরু হওয়া আন্দোলন গণজাগরণে পরিনত হয়েছে অনের আগেই এটা এখন পুরোনো খবর। দেশের সীমা ছাড়িয়ে এখন সারা বিশ্বের মানুষ জানে যে বাংলার তরুন সমাজ প্রয়োজনে কতটা জ্বলে উঠতে পারে। তারা তাদের অতীত ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে যুগে যুগে দাবি আদায় করছে। প্রতিদিন শাহাবাগ গিয়ে গিয়ে যখন আমি নিজেও এই মহান আন্দোলনে শামিল হই তখন এতটা ভালো লাগে যে আমিও এমন একটি ঐতিহাসিক আন্দোলনের ক্ষুদ্র অংশীদার হতে পারছি। আর যারা আমার পূর্ব পুরুষদের হত্যা করেছে, নির্যাতন করেছে তাদের প্রতি ঘৃনা প্রদর্শনের এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর কি হতে পারে?

আজ (১৫.০২.২০১৩) যখন কর্মসূচি পরিবর্তনের ঘোষনা তখন আমি জগন্নথ হলে। খবরটা পেলাম বাসায় এসে বিডিনিউজ এ ই । খুব আহত হয়েছিলাম, জানিনা কেন। মনে হচ্ছিল জামাতরা এটা শুনলে আনন্দিত হবে। ২৪ ঘন্টার বদলে ৭ঘন্টা ওদের বিরুদ্ধে শ্লোগান, ওরা ভাববে যে জনতা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। মাত্র কিছুক্ষণ পরই দেখলাম যে কর্মসূচি পরিবর্তিত হয়েছে। চলবে ২৪ঘন্টা। কারণ, আন্দোলনের উপর আঘাত এসেছে। আমাদের এক ব্লগার বন্ধু আহমেদ রাজীব হায়দার শুভকে মর্মান্তিক ভাবে খুন করা হয়েছে। যে লিখত জামাতদের বিপক্ষে। পৃথিবীর কোন দাবীই চরম ত্যাগের বিনিময়ে ছাড়া আদায় করা সম্ভব হয়নি। যখন প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের সময় কমিয়ে আনা হলো, ঠিক সেই সময়ই এই হত্যাকান্ড আর একবার আমাদের এই কথাই মনে করিয়ে দিল। আর সেই সাথে আগুন আবার জ্বলে উঠল, আর জানিয়ে দিল আমরা ভীত নই, আমরা চীর তারুন্যের বলে বলীয়ান। আমরা আমাদের দাবী পূরণ না করে ঘরে ফিরব না। চলবে আমাদের সংগ্রাম, প্রতিটা মুহূর্তের জন্য। আর আমিও মনে মনে অনেক খুশি হলাম। কারণ,,, আমার মনে হচ্ছে এবার জামাত ভয় পেয়েছে। আর তাই ওদের বিরুদ্ধে যারা কলম ধরছে কিংবা কি-বোর্ড নাড়াচাড়া করে ওরা তাদেরকে মেরে ফেলতে চাইছে। ভয় পেয়ে গিয়ে এরকম একজন/দুইজন ব্লগারকে হত্যা করে কি হবে? এই সব উদ্দর্প্ত ব্লগাররা যে উন্মাদনা, জামাতদের প্রতি-যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি যে ঘৃনার জন্ম দিতে পেরেছে সারা দেশ তথা দেশের বাইরের বাংগালীদের মনে সেটাকে হত্যা করবে কি দিয়ে? এখন আর শুধু শাহাবাগ নয় সারা দেশই প্রজন্ম চত্বর এর আলোয় আলোকিত। সারা বিশ্বের সব বাংগালীরা একই মন্ত্রে উজ্জীবিত। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি চাই। তাই জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন উপন্যাসেরর বিখ্যাত সেই সংলাপ আজ আমিও বলছি “কি স্যার, এটুকুতেই হাঁপিয়ে উঠলেন? আরেক ফাল্গুনে আমরা কয়েকগুন হবো”।

তাই আমিও জামাত-শিবিরদেরকে বলতে চাই এটুকুতেই ভয় পেলে চলবে কেন? জনতা তো প্রজন্ম চত্বরেই অবস্থান করছে। প্রয়োজনে তোমার দরজায় গিয়ে যেদিন করা নাড়বে সেদিন কি করবে?