ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

গতকাল ২২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে জামাত-শিবিরের নেতৃত্বে যে ধ্বংষযজ্ঞ চলেছে যা পুরোটাই আমাদের দেশবিরোধী। জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরোনো শকুন… রুদ্র মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর সেই ক্ষোভ, সেই কবিতার অমর পংক্তিমালা আজ আবার আমার সত্যি হয়ে ধরা দিল। আজ আর একবার আমার চোখ ভিজে গেল। ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করার যে অন্যতম একটি দাবী প্রজন্ম চত্বর সহ সকল মানবতাবাদী দেশপ্রেমিক বাংগালীর সেটাকে ভুল পথে প্রবাহিত করে সাধারণ ধর্মভীরু বাংগালীর মনে সুকৌশলে প্রজন্ম চত্বরের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে একাত্বরের দালাল আর তাদের দোসররা। আর সেই সাথে নব্য রাজাকারেরা। তারা আজ ৭সাংবাদিককে গুলিবিদ্ধ করেছে,৫০জনেরও বেশি সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে আহত করেছে। এটা গণতন্ত্রের উপর একটা বড় আঘাত। কোন গণতান্ত্রিক দেশের গণতান্ত্রিক মানসিকতার দল এটা করতে পারেনা। কিন্তু আজ জামাতের ইন্ধনে সোটা হয়েছে।

আজ আমার পতাকা, আমার শহীদ মিনারকে আক্রান্ত করা হয়েছে। এটার দ্বারা এই শকুনেরা আবার প্রমাণ করলো যে, ওরা বাংলাদেশের নয় ওরা পাকিস্তনের। ওরা বাঙ্গালী নয়, পাকিস্তানি। নইলে ওরা আমাদের জাতিয় সত্তাকে এভাবে ধুলায় মিশাতে পারতো না। সারা বিশ্বে যে পতাকা আমাদের বাঙ্গালী জাতি হিসাবে পরিচয় করিয়ে দেয় সেই পতাকাকে ক্ষত বিক্ষত করতে পারতোনা কিছুতেই। আমার মুখের ভাষার মর্যাদা জড়িয়ে আছে যে শহীদ মিনারে সেটাকে এভাবে আক্রান্ত করতে পারতো না। ইসলাম তো শান্তির কথা বলে। আজ তারা এই হামলার দ্বারা কোন শান্তির বার্তা বয়ে নিয়ে আসল? বরং তারা হত্যা আর ধ্বংষযজ্ঞের নতুন বার্তাইতো বয়ে নিয়ে আসল বলে মনে করি। প্রজন্ম চত্বরে আন্দোলনকারীদের নাস্তিক আখ্যায়িত করা হচ্ছে। যদিও আমি জানি যে নাস্তিকেরা কখনো কারো ধর্মকে আক্রান্ত করেনা, আক্রান্ত করে অতিধার্মকেরা। যারা তার ধর্মের মূল চেতনাকেই বুকে ধারণ করেনা। ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে। তাই কবি কাজী নজরুলের সেই বিখ্যাত উক্তিকে স্মরণ না করে পারছিনা যে, ” আমি সেইসব অতিধার্মিক যাদের দ্বারা অন্য ধর্ম আক্রান্ত হয়, তাদের ঘৃনা করি। বরং এর চেয়ে অনেক বেশি ভালোবাসি নাস্তিকদের, যার দ্বারা কোন ধর্ম বা ধর্মীয় জনগোষ্ঠী আক্রান্ত হয়না।”

আর সেই সাথে আমি দৃঢ়তার সাথে এটা বলতে পারি যে, প্রজন্ম চত্ত্বরে অবস্থানরত মুসলমানরাই প্রকৃত মুসলমান। কারণ তাদের এই আন্দোলন একটা অন্যতম অহিংস আন্দোলন। ইসলাম যে শান্তির কথা বলে
তারা সেই শান্তি বুকে ধারণ করে এবং সেই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য লড়ছে। আর এটাই কাল হয়ে দাড়িয়েছে আমাদের (সম্মানিত!!!) ধর্মব্যবসায়ীদের। আর তাইতো তারা উঠে পরে লেগেছে এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য। নানারকম কুৎস্যা রটাচ্ছে অনলাইন আর বিভিন্ন টেলিভিশন টক শো তে। ধিক্কার জানাই এইসব ব্যবসায়ীদের, যারা ধর্ম আর ক্ষমতা নিয়ে সওদা করছে।

আজ আরো একটি বিষয় আমাকে ব্যথিত করেছে। প্রধান বিরোধী দলের মহামান্য ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এক বক্তব্যে বলেছেন যে, ধর্মীয় মুসল্লী আর তাদের অনুরাগীদের উপর আঘাত অগণতান্ত্রিক। তিনি এটার নিন্দা জানিয়েছেন। অথচ, শহীদ মিনার আর আমাদের জাতীয় পতাকাকে আক্রান্ত করার বিষয় নিয়ে (আমার এই পোষ্ট লেখাকালীন পর্যন্ত) কোন মন্তব্যই করেননি। তাহলে আমি আমাদের ঐ মহামান্য নেতাকে কি বলবো? উনার কানে কি এই খবরটি পৌঁছায় নি, নাকি জামাতের কাছ থেকে রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্য উনি ব্যাপারটা এড়িয়ে গেছেন? আমি অবশ্যই দ্বিতীয়টিই ধরে নেব। কারণ এখনো জামাত ১৮দলের একটি শরীক দল। তাছাড়া প্রজন্ম চত্বরের সাথে তাদের সংহতি প্রকাশ করতেও দেখিনি। উল্টা আজ বিএনপি এর এক মহিল সংসদ সদস্য আজ আরটিভি এর একটি টক-শো তে খুব গর্বের সাথে বলেছেন যে, বর্তমান আন্দোলন নিয়ে তার দলের যে অবস্থান সেটার জন্য সে তার দলকে স্যালুট করে। যেখানে সারা জাতি আজ জেগে উঠেছে, সেখানে প্রধান বিরোধী দলের অবস্থা যদি এই হয় তাহলে আমরা তাদের কাছ থেকে আর কি আশা করতে পারি?যদিও প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলন কোন রাজনৈতিক স্বর্থ হাসিলের জন্য নয়, এটা জাতির কলঙ্ক মোচনের আন্দোলন। জনতা যার সৃষ্টি করেছে, আর জনতার জয় হবেই। সেখানে সরকার কিংবা বিরোধীদল কারো সমর্থন মুখ্য নয়। ২২ ফেব্রুয়ারির আলোকে শুধু এটা বলতে চাই যে, কেন বিরোধী দলীয় মহাসচিব আমাদের জাতিয়সত্তার অবমাননা নিয়ে একটি কথাও বললেন না? যারা আজ এই ঘৃন্য কাজ করেছে, তারা রাজনীতি আর ক্ষমতা তো দূরের কথা আমার মতে এই দেশেই তাদের অবস্থান করার অধিকার নাই। কারন, আজ তারা আমাদের সমস্ত সত্তা মুছে ফেলার জন্য যে কতোটা সচেষ্ট সেটা আর একবার প্রমাণ করল। আর পরোক্ষভাবে বিরোধীদলীয় মহাসচিব সেটাকে সাপোর্ট করে সেও সোই একই পথের পথিক হলো। ধিক্কার জানাই এই অপ রাজনীতির। যেখানে দেশের সম্মনের চেয়ে, ক্ষমতার লোভ অনেক বড় হয়ে দাড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ, বিভিন্ন টিভি সংবাদ।