ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

৫ ফেব্রুয়ারী শুরু হওয়া গনজাগরনের প্রধান দাবী সকল রাজাকারের ফাঁসি সহ, জামাত শিবিরের রাজনীতি বন্ধ করা। এ ২টি দাবী হচ্ছে ৬দফা দাবির মধ্যে অন্যতম দাবী। আমাদের মাননীয় প্রধান মন্ত্রী নিহত ব্লগার রাজীব হায়দারের বাসায় গিয়ে জামাত রাজনীতি বন্ধ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্তও করেছিলেন। কিন্তু এর পড় আর এ বিষয়ে কার্যকারী কোন কথা প্রধানমন্তীর মুখে শুনিনি। বরং তিনি এরপর বলেছেন যে, এটা নিষ্পত্তি করা হবে আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে। অথচ, জঙ্গী তৎপরতা বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের যে আইন রয়েছে, যার দ্বারা তারা হিযবুত তাহরীর এর রাজনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ করেছিল, সেই একই আইনের দ্বারা জামাত রাজনীতি বন্ধ করা সম্ভব বলে অনেক বিশিষ্ট আইনজ্ঞ সহ বিশিষ্ট জনের মত। যদি সেটা সম্ভব হয়েই থাকে, তাহলে সরকার কেন এত দ্বিধা করছে? কিসের এত ভয় তাদের। সরকারকে এটা ভুলে গেলে চলবে না যে, এই জনগণ যুদ্দাপরাধীদের বিচারের প্রত্যাশা নিয়েই ২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগকে ভোট দিয়েছিল। আর সেআ কাঙ্ক্ষিত দাবী পূরণে সরকার যখন ব্যর্থ হল (কাদের মোল্লার রায়ের মাধ্যমে), তখন জনতা আর একবার জেগে উঠল শাহবাগ চত্বরে। সরকারকে এটা জানান দিল যে, ২০০৮ এর নির্বাচনে আমাদের দাবী আমরা ভুলে যাইনি। অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি বিধানের মাধ্যমেই আমাদের দাবীর পূর্ণতা পাবে। আর তাই জনতা এবার জেগে উঠল প্রজন্ম চত্বরে।

আর তাই, আমি সরকারকে অনুরোধ করবো, জামাত নিষিদ্ধেও এই জনতা বদ্ধপরিকর। এদের এই প্রতিবাদী আওয়াজকে অবহেলা করার যেমন কোন উপায় নেই, তেমনি অতি সত্বর জামাত নিষিদ্ধের কার্য়করী পদক্ষেপ নিয়ে এই সন্ত্রাসী সংগঠনটিকে বিলীন করে দিতে হবে। সেটা যত তাড়াতাড়ি হবে, ততই দেশের মঙ্গল। কারণ, জামাত নিষিদ্ধের সাথে সাথেই সরকারের সকল দ্বায়িত্ব শেষ হয়ে যাবে না। রাজনৈতিক দল হিসেবে এদেরকে বিলীন করার সাথে সাথে অর্থনৈতিক-সামাজিক সকল ভাবেই এদেরকে বর্জন করতে হবে। আর তাছাড়া এদেরকে দল হিসাবে বিলীন করলেও এরা যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোন দলের সাথে মিশে গিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা লুটতে না পারে সে ব্যবস্থাও সরকারকেই নিতে হবে। অনেক পথই পাড়ি দিতে হবে সরকারকে, আমাদেরকে।

পরিশেষে বলতে চাই যে, ১৯৭১ এর আমাদের মুক্তিযুদ্ধটা বিশ্বের প্রধান ক্ষমতাধর দেশসহ অনেক দেশই চায়নি। তারপরও যুদ্ধ হয়েছিল, আমরা আমাদের স্বাধীর বাংলাদেশ পেয়েছি, আমাদের পতাকা পেয়েছি। আর তাই, আমাদের এই দেশ আর আমাদের এই পতাকার মান সমুন্নত রাখতে আজ প্রজন্স চত্বরে গনজাগরন ঘটেছে। তাই, ১৯৭১ এ আমার সব বাধা, সব বহির্বিশ্বের চাপ পেড়িয়ে জয়ী হয়েছিলাম। আমাদের চরম আকাঙ্ক্ষা আর সাহসিকতার জন্য। আজও এ দুয়ের সমন্বয় হয়েছে,তাই শুধুমাত্র সরকারের সাহসিক পদক্ষেপ আর সদিচ্চার মাধ্যমেই জামাত শিবির রাজনীতি খুব তাড়াতাড়ি বন্ধ করে দেয়া সম্ভব। তাই সরকারের কাছে আবারো অনুরোধ, জনগণকে বোকা বানানোর কোন চেষ্টা যেন আপনাদের নাথেকে। কারণ, সব রাজনৈতিক দলের মাঝে ব্যক্তিগতভাবে আমি আপনাদের উপর বেশি ভরসা করি। তাই জামাত বন্ধে যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ নিন।