ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

আমাদের নিত্য নৈমত্ত্যিক সামাজিক, রাজনৈতিক জীবনে নানারকম অসংগতির অভাব নেই আজকাল। একটু চোখ খুলে তাকালেই চারদিকে হাজারো অসংগতি আমাদের প্রায়ই বিব্রত করে। কখনো কখনো হতাশ করে, জাগিয়ে তুলে নানারকম অনুভূতি, অভিব্যক্তি। এমনই হাজারো হতাশ করে দেয়া চলমান ঘটনার মাঝে একটা বিষয় আমাকে বহুদিন ধরে খুব বেশি ভাবিয়ে তুলছে।আর সেটা হলো বর্তমান অধুনিক জীবনে আমাদের ভাষার ব্যবহার। আমি আসলে বলতে চাচ্ছি আমাদের মাতৃভাষার ব্যবহার।

আধুনিক নাগরিক জীবনে বিনোদনের বহু মাধ্যমের মাঝে একটি হচ্ছে এফএম রেডিও। আমাদের দেশে যখন এফএম রেডিওর যাত্রা শুরু, তখন থেকেই আমি এফএম রেডিও প্রোগ্রাম শুনতাম, এবং প্রথম দিকে আমার খুব ভালো ও লাগতো। কিন্তু আস্তে আস্তে এই মাধ্যমটি আমাকে দারুনভাবে হতাশ করেছে। আর সেটার অন্যতম কারন হলো আমাদের মাতৃভাষাটার অপব্যবহার। আর এই অপব্যবহারের মাত্রা যত বাড়তে লাগলো, ততই আমি এর থেকে দূরে সরে যেতে লাগলাম। আমি জানি, আমার মত একজন শ্রোতা না থাকলে কোন রকম কোন ক্ষতিই হবেনা এই বিনোদন মাধ্যমটির। তবুও আমি সেটা শোনা বন্ধ করে দিয়েছি কয়েক বছর আগেই।

গতকাল হঠাৎ আমার ছোট বোন তার পছন্দের এক অভিনেতা এক এফএম রেডিও চ্যানেলে আসবে শুনে চ্যানেলটি অন করলে, আমি কয়েকি মিনিট শোনার পর দুঃখিত, লজ্জিত আর সেই সাথে শংকিত হলাম। এতো আরো খারাপ অবস্থা। আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না, ওখানে জনৈক নারী আরজে কি বাংলা ভাষার প্রতিনিধিত্ব করছে নাকি ইংরেজি ভাষার? কথার ৮০% ইংরেজি আর ২০% বাংলায়। তার শ্রোতাগণ কি বাংলা ভাষাভাষীর নাকি ইংরেজি ভাষাভাষীর?  একি হাল করছে ওরা বাংলা ভাষার? আমার প্রিয় মাতৃভাষা বাংলাকে তো ওরা দুমড়ে মুচড়ে ধ্বংস করার যজ্ঞে নেমেছে যেন। আর সাথে যে ইংরেজী উচ্চারণ, সেটাও খুবই দুঃখজনক। যাই হোক, আমি আমার বাংলা ভাষার অপব্যবহার নিয়ে দুঃখিত আর শংকিত হচ্ছি। কোন একসময় আমি শব্দের উচ্চারণ আর ব্যবহারের উপর একটা কোর্স করেছিলাম। যেখানে কোন এক শিক্ষক বলেছিলেন, যখন তুমি কারো উদ্দেশ্যে কিছু বলবে তখন তোমাকে অবশ্যই তোমার সামনে বসে থাকা ব্যক্তির মানসিকতা অথবা, তোমার শ্রোতাদের মনের চাহিদা, অবস্থান কল্পনায় হলেও প্রতিস্থাপন করে নিতে হবে। যাতে কিছুতেই এমন কিছু তুমি বলে না বসো যে, সেটা তার পরিবেশ কিংবা মানসিক চাহিদার বাইরে যায় এবং কোন রকমেরই অসংগতি যেন প্রকাশ না পায়। হ্যাঁ, তুমি অবশ্যই এর বিপরীতভাবে তখনই কথা বলতে পারবে, মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করতে পারবে। আর সেটা তখন, যখন তুমি কিছু সুন্দর সৃষ্টি করতে চাইবে, প্রগতীশীল আর সচেতনমুলক কিছু করবে তখন।

তো কাল আমি অনুষ্ঠানটি শুনে শংকিত এই কারণে যে, এইসব ভাষার অপব্যবহারকারী আরজে গোষ্ঠী তাদের অনুষ্ঠান শোনার জন্য একটি অতিআধুনিক শ্রোতাগোষ্ঠী তৈরী করে নিয়েছে। আর যে গোষ্ঠীটি ভাষার এই অপব্যবহারে অতি উৎসাহী। হয়তো এদের কাছে এটাকেই সঠিক মনে হচ্ছে। আর এমনটা চলতে থাকলে আমাদের বাংলা ভাষা আর বাংলা ভাষা থাকবে না, এটা ভীন গ্রহের এ্যালিয়ন এর ভাষা হয়ে যাবে। তাই ভাষার এই অধঃপতন ঠেকাতে সমাজের সুশীল আর নিতিনির্ধারকদের এখনই সচেতনভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানো উচিত।একটা নির্দিষ্ট নিতীমালা করা উচিত অনুষ্ঠান প্রচার আর ভাষার ব্যবহারের উপর। নইলে যে মাতৃভাষার জন্য এত ত্যাগ তিতীক্ষা, এত জীবন দান সবই বৃথা হয়ে যাবে।

আর তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করছি।