ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাই একটি সুন্দর ঝকঝকে নতুন দিনের অপেক্ষায়। আর সকালের ঘুম ভাঙে নতুন কিছু স্বপ্ন, নতুন কিছু চাওয়া নিয়ে। গতকালের চেয়ে আজকের দিনটা আরো সুন্দর আরো সফলতম হবে আর আগামী দিনটি তার চেয়েও বেশী সুন্দর আর সফল। কিন্তু প্রতিদিন সূর্যাস্তের সাথে সাথে সকালের সব স্বপ্ন অন্ধকারে মিলিয়ে যায়, একরাশ হতাশা এসে ভর করে। তবুও আবার নতুন করে আশা জাগিয়ে আরেকটি সুন্দর দিনের প্রত্যাশা করি।

আর আজ যেন এই হতাশা আরো কয়েকগুন বেড়ে গেল। আর এই হতাশাটা আজ কিছুতেই পিছু ছাড়বে না। অনলাইনে আজকাল আমরা খুব সহজেই আমাদের মতামত প্রকাশ করে অন্তত কিছু লোককে সেটা জানাতে পারি। অনেকেরই আজকাল একটা বিশাল ফ্রেন্ডলিস্ট অথবা বিশাল সংখ্যার ফলোয়ার থাকে ফেইসবুক এ। যার মাধ্যমে সেটা আরো বেশি লোকের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। কিন্তু যখন দেখি যে একজন খুব পরিচিত মুখ যখন ধর্ষনের প্রতিবাদে কিছু লিখে নিজে অপমানিত, অপদস্থ হচ্ছে তখন সেটা খুবই দুঃখজনক একটি বিষয়। এমন একটি লেখায় ঐসব বাজে মন্তব্যকারীদের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আমি একটি মন্তব্য করতে গিয়ে দেখলাম যে ঐসকল বাজে মন্তব্যকারীরা আমাকেও অপদস্থ করার জন্য উঠে পরে লেগেছে। ঐসব মন্তব্যকারীদের প্রত্যেকজনের মাঝে যেন লুকিয়ে আছে একজন করে ধর্ষক। যেন নারী মানেই পরম ভোগের বস্তু।প্রত্যেক জনের মাঝে যেন হিংস্র পশু লুকায়িত। যদিও এদেরকে কোন পশুদের সাথে তুলনা করলে পশুদেরকেই অপমার করা হবে বলে আমি মনে করি।ধর্ষনের মত একটি পাশবিক ঘটনার প্রতিবাদে এই যদি হয় ফলাফল, তাহলে আমরা কোন অন্ধকারের দিকে ছুটে যাচ্ছি সেটা আরো গভীর ভাবে ভাবার সময় এসেছে।

খুব ব্যথিত হই এটা ভেবে যে, এমন নোংরা যাদের মানসিকতা, তাদের পরিবারের কি অবস্থা। এদের পরিবারগুলো কি এদের ন্যূনতম নৈতিক শিক্ষাও দিতে সমর্থ্য হলোনা? কেন হলোনা? কেন বাবা-মা তাদের সন্তানকে সবকিছুর আগে একজন ভালো মানুষ হওয়ার নৈতিক শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়? কেন এটুকু অন্তত শিক্ষা দেওয়া হয়না যে, তোমার দ্বারা কখনো কোন মানুষ যেন কোন রকম আক্রান্ত না হয়। বিশেষ করে কোন নারীর অসম্মান যেন কিছুতেই না হয়। এটুকু শিক্ষা অন্তত প্রতিটি মানুষের তার পরিবার থেকে পেয়ে আসা উচিত। আর যখন দেখি যে আমাদের যুব সমাজ, কখনো কখনো মধ্যবয়সী কিছু মানুষ (পড়ুন পশু) এমন ন্যক্কারজনক লেখা পোষ্ট করে অথবা মন্তব্য করে তখন আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধের যে ক্ষয়িষ্নু অবস্থা তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে।আর এমনটা চলতে থাকলে সেদিন আর বেশি দেরী নেই যেদিন বিশাল এই শিক্ষিত সমাজের অন্তরালে একটি ধর্ষক সমাই প্রতিষ্ঠা পাবে। আর এমনটা চলতে থাকলে কোন নারী কোন অবস্থানে, কোন জায়গায়, কোন সময়েই নিরাপদ থাকবে না।আর যুব সমাজকে এই অন্ধকার থেকে দূরে রাখতে সময় এসেছে পরিবারিক মূল্যবোধকে জাগ্রত করার, শক্তিশালী করার।

আমাদের যে বিশাল যুব সমাজ এর মধ্যে একটা বিশাল অংশ চেষ্টা করে যাচ্ছে সব অসুন্দর আর অশুভ শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার। কিন্তু, অধর্মের পক্ষে সবসময় লোক বেশিই থাকে।যদিও তাদের হার কখনো না কখনো অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। যেমন হিন্দু ধর্মের মহাভারতে এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ পাওয়া যায়। যেখানে অত্যাচারীরা একশত (১০০) ভাই ছিল, আর সেই সাথে ঐ যুগের বড় বড় সব যোদ্ধারাও ছিল তাদের পক্ষে। অপরপক্ষে, ধর্ম প্রতিষ্ঠাকারীরা ছিল পাঁচ (৫) ভাই আর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ছিল তাদের পক্ষে। আর জয় ঐ পাঁচ (৫) ভাইদেরই হয়েছিল। ঠিক তেমনি এযুগেও অত্যাচারীদের পরাজয় হবেই। হয়তো আরো কষ্ট করতে হবে প্রগতীশীল যুব সমাজকে।