ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

একের পর এক ব্লগার হত্যা, নিতীনির্ধারকদের হত্যা পরবর্তি বিভিন্ন মন্তব্য আর হত্যাকান্ডগুলোর সঠিক তদন্ত না হওয়া এবং অপরাধীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকার কারনে প্রতিনিয়তই বেড়ে চলছে এসব অপরাধ। যার সর্বশেষ করুন পরিনতি আজ জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনের করুণ মৃত্যু।

হয়তো ভাগ্যের জোড়েই বেঁচে গেছেন শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর আহমেদুর রশীদ টুটুল সহ দুই ব্লগার রনদীপম বসু এবং তারেক রহিম। কিন্তু, আর কত চলবে এই নৃশংস হত্যাকান্ড? দুই বিদেশি হত্যা এবং সিয়াদের উপর হামলার পর এটা স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে আইন শৃংখলা পরিস্থতি খুবই নাজুক। গতকাল ৩১ অক্টোবর একটি শীর্ষ দৈনিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখলাম রাজধানীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ চেকপোষ্টে রাতে কোন পুলিশ নেই। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এই বাহিনী যে কতটা তৎপর (উদাসীন) সেটা ঐ দৈনিকটির প্রতিবেদনে স্পষ্ট। আর অফিসে ঢুকে প্রকাশক, ব্লগার হত্যা এবং হত্যাচেষ্টা সেই উদাসীনতার এ নজির, যা কখনোই কাম্য নয়। কিন্তু, আমাদের কাঙ্খিত কোন কিছুই এখন আর ঘটছেনা কোথাও। সব যেন বিচারহীনতার গভীর গহ্বরে আটকে গেছে।

সরকারের এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য মতে দেশে কোন আইএস সদস্য নেই। খুব ইচ্ছে হয় এই ভাষ্য বিশ্বাস করতে। কিন্তু সেটা যদি সত্যও হয় এবং আমরা যদি সেটা বিশ্বাস ও করি, তবুও কি এমন করুন বিপর্যয় থেকে আমরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে পারছি, পারছিনা। বরং মনে হচ্ছে আইএস না হোক হয়তো তার চেয়ে ভয়ংকর একটা গোষ্ঠী তৈরী হচ্ছে আমাদের সমাজে। যারা কত নির্দিধায় চাপাতি দিয়ে মানুষ হত্যা করে।

যেদিন ব্লগার রাজীব কে হত্যা করা হয়েছিল, সেদিন সেটা বিশ্বাস করতে খুব কষ্ট হয়েছিল। কারন, আমাদের দেশ এমন নিষ্ঠুর মানুষের আবাসস্থল হতে পারে সেটা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলামনা। অথচ তারপর তিনটা বছর পেরোনোর আগেই আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি সেই নিষ্ঠুর মানুষগুলোর অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে।

প্রতিটা অঘটনের পরই এটা মনে হতো এবার সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোন পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে, যা আর কোন অঘটন ঘটতে দেবেনা। কারন, সব মন্দ-ভালোর দোলাচলের মাঝে যতটুকু আশা সেটা এই সরকারের কাছেই প্রত্যাশা করছিলাম। প্রত্যাশা করছিলাম আর কোন এমন ঘটনা ঘটবেনা। প্রত্যাশা করছিলাম, সব হত্যাকান্ড গুলোর দ্রুত সুষ্ঠ তদন্ত এবং অপরাধীদেরর বিচারের মুখোমুখি করে জাতিকে এই ক্রান্তিলগ্ন থেকে বের করে আনবে। কিন্তু, প্রত্যাশার প্রাপ্তি না হয়ে উল্টা হতাশার অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। এমনটা চলতে থাকলে অশুভ শক্তি জিতে যাবে। তখন হাজারো চেষ্টা করেও আর ভুল শুধরানোর সময় পাওয়া যাবেনা। এমনিতেই বড্ড দেরী হয়ে গেছে। জাতিকে এই ক্রান্তি থেকে রক্ষা করতে দ্রুত কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহন করে আমাদের হারিয়ে যাওয়া ভরসার জায়গাটাকে ফিরিয়ে আনা খুবই জরুরী।