ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

পরের সমালোচনায় ব্যস্ত বাঙালি। আমার এ কথায় কেউ কেউ কষ্ট পেলেন নিশ্চয়? বিশেষ করে যারা অন্যের সমালোচনা করে নিজেকে খুব মস্ত বলে জাহির করতে চান বা বিশেষ কোন ফাইদা লুটতে চান!!? আবার কোন কোন বন্ধু হয়ত আমাকে পাল্টা প্রশ্নছুড়ে বসবেন- ‘আমি’ত অন্যের সমালোচনা করিনা বরং প্রশংসাই করি, তাহলে আমারে কেন ছেড়ে কথা বললেন না?’(ঐযে বাঙালি শব্দটা ব্যবহার করেছি)

হায়!…….. হায়!!……… হায়!!!………. সতিই’ত… তাই, বড় অন্যায় করে ফেলেছি, সবাইকে ঢালাও ভাবে আমার এমনটি বলা মোটেই ঠিক হয়নি। আসলে হয়েছে কি, আজকাল এটা আমাদের একপ্রকার মুদ্রাদোষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা একজনের দোষ সবার ঘাড়ে চাপাতে বোধহয় পছন্দ করি। এই ধরুন, একজন পুলিশ অন্যায় করলে সকল পুলিশ, একজন আমলা ঘুষ নিলে সকল আমলা বা একজন রাজনীতিবীদ দুর্নীতি করলে সকল রাজনীতিবিদ………ইত্যাদি…. ইত্যাদি।

কী যা-তা বলছেন তখন থেকে, যে যার মত অন্যায় করে যাবে আর আমরা কিছুই বলতে পারবনা না? শুধু বোবার মত চেয়ে চেয়ে দেখব? আপনার একথা আমি মানতে পারলাম না। আপনি কি জানেন, অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে তারা সমান অপরাধী?

হাঁ, নিশ্চয় জানি। আপনার প্রত্যেকটা কথার পেছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে। আমরা মোটেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেব না, যথাসম্ভব প্রতিহত করার চেষ্টা করব। কিন্তু বন্ধু, প্রতিনিয়ত আমরা নিজেদের মধ্যে যে অন্যায়গুলো, খারাপ দিকগুলো বয়ে বেড়াচ্ছি- তার বিরুদ্ধে কি কোন পদক্ষেপ নিয়েছি?

‘এই ব্যাটা, তুই এত বড় বড় কথা কইস, তুই কি খুব সাধু হইসস?’ দেখলেন’ত আপনি রেগে গেছেন! এটা শুধু আপনার দোষ নয়। আমাদের দেশের বাতাসটাই কেমন যেন অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছে। কী রাজা-কী প্রজা, কী ধনী-কী ফকির সবার মধ্যে যেন মারমার-কাটকাট সম্পর্ক। কারো প্রতি কারো আস্থা নেই, দায়িত্ব নেই, শ্রদ্ধা নেই, ভালোবাসা নেই। যেটা করার আমার কোন যোগ্যতাই নেই, কেউ করলে আমি তার সমালোচনা করি। আবার আমি যেটা অর্জন করেছি, তার সমালোচকেরও অভাব নেই। কারণ সবাই’ত আমার মতই, তাই নয় কী?

তবে কি আমাদের সামনে শুধুই হতাশা? আমি বলব না। সময় এসেছে বদলাবার- নিজের এবং অন্যদের। আমরা নিজের সমালোচনা করি। অন্যের কথাকে গুরুত্ব দেই। কোন বিশিষ্ট ব্যাক্তি সম্পর্কে বলবার পূর্বে নিজের জ্ঞানের পরিধি সম্পর্কে অবহিত হই- বললেও বিনয়ের সঙ্গে বলি। সবার অর্জনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হই।