ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

বাংলাদেশ এবং ভারতে প্রসাধনীর মার্কেট জমজমাট। এসব মার্কেটে রং ফর্সাকারী ক্রিমের কদর একটু বেশি। নিজেকে ঊজ্জ্বল রূপে দেখতে কে না চায়। ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী ব্রান্ডেরও অভাব নেই। বোটানিক তেমনি একটি ব্রান্ড, যারা স্বল্প সময়ে ব্যপক সাড়া পেয়েছিল ক্রেতা-ভোক্তাদের কাছ থেকে। কিন্তু শাক দিয়ে মাছ কতদিন ঢেকে রাখা যায়। সম্প্রতি মোবাইল কোর্ট কেরানীগঞ্জে বোটানিক এ্যারোমার কারখানায় হানা দেয়, বেরিয়ে আসে দ্রুত কার্যকারী এ ক্রিমের গোপন রহস্য।

জানা গেছে, বোটানিক এ্যারোমার মালিক দুইভাই মাত্র দুই-তিন বছর আগেও একটি কসমেটিক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করত। উৎকোচ দিয়ে বিএসটিআইয়ের অসৎ কর্মকর্তাদের কাছে প্রশংসাপত্র নিতে বেশি বেগ পেতে হয়নি। দেশের মানুষ বিএসটিআইয়ের প্রত্যয়নের ওপর গভীর আস্থা রাখলেও সে বিশ্বাসে ছাই পড়েছে বোটানিক এ্যারোমার ঘটনায়। তারা ফেরারনেস ক্রিম, ব্ল¬াক ডায়মন্ড ক্রিম, নাইট কুইন ক্রিম, জেন্টস স্পট আউট ক্রিমসহ হরেক নামের প্রসাধনী বাজারজাত করে। এসব পণ্যে সুগন্ধী ছাড়া আর সব উপকরণ ছিল অভিন্ন। এতে মেশানো হতো মার্কারি, হাইড্রোকুইনন ও স্টেরয়েডসহ নানা ধরনের ক্ষতিকর উপাদান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে কিছুটা ফর্সা হলেও এর ব্যবহারে ত্বকের ক্যান্সার হওয়ারও আশঙ্কা থাকে। ত্বক আরও বিবর্ণ হয়ে যাওয়া সহ নানা ধরনের বিপদ ঘটতে পারে এসব তথাকথিত রং ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহারে। আমাদের দেশে যেসব ত্বক ফর্সাকারী হারবাল প্রসাধনী বিক্রি হয় তার শতকরা ৯৯ ভাগই ক্রেতাদের ঠকিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে। প্রসাধন ও ওষুধের নামে ‘হারবাল প্রতারকদের’ প্রতারণা থামাতে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। বাজেয়াপ্ত করা হোক, বোটানিক এ্যারোমা প্রতারণার মাধ্যমে দেশবাসীর যে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে সেগুলো।

সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিয়েই চলছিল মানুষের সর্বনাশ ঘটানো এ ব্যবসা। বিএসটিআয়ের যেসব অসৎ কর্মকর্তা এর সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আমাদের সকলের।