ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

একটি বিষয় প্রথমেই পরিস্কার করে নেয়া দরকার – আমি কোনও রাজনৈতিক দলের বা ব্যক্তির পক্ষে/ বিপক্ষে এই বিশ্লেষণটি করছি না, আমি করছি ইসলামের পক্ষে, শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তোষ অর্জনের লক্ষে। বাংলাদেশের কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার ন্যূন্যতম সমর্থন নেই। কেননা এদের সংবিধান , দর্শন, মতবাদ ভিন্ন হতে পারে কিন্তু এদের কার্যকলাপ এ কোনও পার্থক্য নেই। এদের রাজনীতির মূল উদ্দেশ এ পর্যন্ত শুধুমাত্র ‘অর্থ ও ক্ষমতার’ মধ্যেই সীমাবদ্ধ সে ইসলামের নামেই হক অথবা সেকুলারএর নামে । অর্থ ও ক্ষমতার জন্য এসব দল সব আদর্শ বিসর্জন দিতে রাজি।

আমি বিশ্লেষণ করতে চাই মতবাদ , দর্শন, আদর্শ – যেসবের উপর ভিত্তি করে এখন বাংলাদেশ ও সারা পৃথিবীতে বিতর্ক চলছে। আমি পছন্দ করতাম এই বিষয় এ আলদা ভাবে লিখতে কিন্তূ এই মুহূর্তে সন্মানিত সাংবাদিক ‘প্রবীর বিধান’ সম্প্রতি ‘জামায়াত নিষিদ্ধ হোক, ধ্বংস হোক‘ শিরোনামে যে পোস্টটি লিখেছেন তার আলোকে বিশ্লেষণ করাকেই বেশি প্রাসঙ্গিক মনে করছি।

পোস্টটির হেডলাইন দেখে খুব একটা অবাক হইনি কিন্তু পোস্টটি পড়ে, লেখকের যুক্তি দেখে খুবই অবাক হলাম। ঠিক বুঝলাম না জামাতকে আক্রমণ করার এত কিছু থাকতে লেখক কেন আক্রমণ করে বসলেন জামাতের ‘সাংবিধানিক দর্শন/মতবাদ ‘ কে। জামাত তার নিজের দর্শন/সংবিধান কতটুকু মেনে চলে যা নেয়া ব্যপক সন্দেহ রয়েছে ; অন্তত তাদের বহু কার্যকলাপ তাদের সংবিধানের সাথে সংগুটিপূর্ণ নয়। এটা শুধু জামাত নয় , আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ব্যাপারেও শতভাগ প্রযোজ্য। সমস্যা হল জামাতের সংবিধানে যা আছে তা মূলত ইসলামিক দর্শন থেকে নেয়া , এগুলো জামাত এর আবিস্কৃত মতবাদ বা দর্শন নয়। সুতরাং এসব আদর্শ /মতবাদকে আক্রমণ করা মানে ইসলামের মতবাদকে আক্রমণ করা। আসুন দেখা যাক কী আছে এই সংবিধানে এবং ইসলাম এর মূল দর্শন এর সাথে এর সামঞ্জস্য কতটুকু :

”জামায়াতের মহান উদ্দেশ্য বাংলাদেশে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, কারন যেহেতু–
”১) আল্লাহ ব্যতীত নিখিল সৃষ্টির কোন ইলাহ নাই এবং নিখিল বিশ্বের সর্বত্র আলাহর প্রবর্তিত প্রাকৃতিক আইনসমূহ একমাত্র তাঁহারই বিচক্ষণতা, শ্রেষ্ঠত্ব ও সার্বভৌমত্বের সাক্ষ্য দান করিতেছে;”
– ইসলাম এর মূল দর্শনের সাথে শতভাগ সামঞ্জস্যপূর্ণ, সব মুসলমান এটি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে এবং এটি বাধ্যতামূলক (ফরজ) ।

”২) আল্লাহ মানুষকে খিলাফতের দায়িত্ব সহকারে পৃথিবীতে প্রেরণ করিয়াছেন এবং মানব রচিত মতবাদের অনুসরণ ও প্রবর্তন না করিয়া একমাত্র আলাহ প্রদত্ত জীবন বিধানের অনুসরণ ও প্রবর্তন করাকেই মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করিয়া দিয়াছেন;”

– এটি আরকটি গুরুত্তপূর্ণ ইসলামিক মতবাদ , একজন মুসলমান আল্লাহ ও তার রাসূল কে বিশ্বাস করার পর তার উপর আল্লাহর বিধান অনুজাই জীবন যাপন করা বাধ্যতামূলক। কোনও মতবাদ বা আইন যদি কুরান এর বিরোধিতা করে তাহলে মুসলমানদের ও সেই আইন বা মতবাদের বিরোধিতা করা বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। কারণ একজন মুসলমান সাক্ষ্য দান করে আলাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই (১) সুতরাং আল্লাহর আদেশ নিষেধ মানই একজন মুসলমানের পরম কর্তব্য ।

”৩) আল্লাহ তাঁহার প্রদত্ত জীবন বিধানকে বাস্তব রূপদানের নির্ভুল পদ্ধতি শিক্ষাদান ও উহাকে বিজয়ী আদর্শ রূপে প্রতিষ্ঠিত করিবার উদ্দেশ্যে যুগে যুগে নবী-রাসূলগণকে প্রেরণ করিয়াছেন;”
– ইসলাম নতুন কোনও ধর্ম নয়। যুগে যুগে মানুষকে তার সৃষ্টিকর্তার প্রতি ফিরে আসার জন্য মহান আল্লাহ নবী প্রেরণ করেছেন। পবিত্র কোরানে এসব নবীদের সংগ্রামের কথা উল্লেখ রয়েছে। মুসা (আ:) ও ঈসা (আ:) কেও আল্লাহ প্রেরণ করেছিলেন মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করার উদ্দেশে। কিন্তূ পরবর্তীতে মানুষ আবার তাদের ভুল পথে ফিরে গেছে।

”৪) বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসূলুলাহ (সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম) আলাহর সর্বশেষ নবী ও রাসূল এবং আলাহর প্রেরিত আল-কুরআন ও বিশ্বনবীর সুন্নাহই হইতেছে বিশ্ব মানবতার জীবনযাত্রার একমাত্র সঠিক পথ সিরাতুল মুস্তাকীম;”
-সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুলাহ (সালালাহু আলাইহি ওয়া সালাম) দ্বারা আল্লাহ তার ধর্মকে পরিপূর্ণ করেছেন এবং তা সমগ্র পৃথিবীর জন্য।

”৫) ইহকালই মানব জীবনের শেষ নয় বরং মৃত্যুর পরও রহিয়াছে মানুষের জন্য এক অনন্ত জীবন যেখানে মানুষকে তাহার পার্থিব জীবনের ভাল ও মন্দ কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিতে হইবে এবং সঠিক বিচারের পর জান্নাত বা জাহান্নাম রূপে ইহার যথাযথ ফলাফল ভোগ করিতে হইবে;”
– এটি একটি অতি গুরতপুর্ণ পয়েন্ট যা ওনেক মুসলমান ভুলে গেছে। ইসলাম শুধু মানুষের পার্থিব জীবনের সফলতার কথা বলে না , এই জীবন ইসলামের দৃষ্টিতে সব নয়। সুতরাং মৃত্যুর পরের মানুষের অনন্ত জীবনের সফলতার উপরি মানুষের আসল সফলতা নির্ভর করে। ইসলামই একমাত্র জীবন ব্যবস্থা যা মানুষের সীমিত পার্থিব জীবন ও অনন্ত আখিরতের জীবনের মধ্যে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখে। যা মানুষকে পৃথিবী ও তার পরের জীবনে প্রকৃত উন্নতি সাধন করতে সক্ষম করে।

”৬) আলাহর সন্তুষ্টি অর্জন করিয়া জাহান্নামের আযাব হইতে নাজাত এবং জান্নাতের অনন্ত সুখ ও অনাবিল শান্তি লাভের মধ্যেই মানব জীবনের প্রকৃত সাফল্য নিহিত;

৭) আলাহর বিধান ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি দিক ও বিভাগে প্রতিষ্ঠিত করিয়াই মানুষ পার্থিব কল্যাণ ও আখিরাতের সাফল্য অর্জন করিতে পারে;”
– ইসলাম খুবই প্রকটিকাল ধর্ম । অন্ধবিশ্বাস/ কুসংস্কার এর জয়গা ইসলামে নেই। ইসলাম সমাজে শুধুমাত্র একটি অকার্যকর ধারনা হিসাবে কখনোই বিকাশ করতে পারেনা । যখন ব্যাক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র ইসলামের সঠিক বিধান অনুজাই পরিচালিত হবে তখনই সমাজে ইসলাম পরিপূর্ণতা পাবে এবং শুধুমাত্র তখনই ইসলামের সুফল মানুষ প্রতিটি ক্ষেত্রে পাবে। ইসলামের সংস্কার শুরু হয় ব্যাক্তি পর্যায় থেকে, শেষ হবে সমাজ, রাষ্ট্র ও পৃথিবীকে পরিবর্তনের মাধ্যমে।

৮) স্বাধীন বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ এবং বাংলাদেশের জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের মধ্য দিয়া বাংলাদেশ বিশ্বেও মানচিত্রে স্বাধীন সার্বভৌম জাতি-রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করিয়াছে; –সেহেতু এই মৌলিক বিশ্বাস ও চেতনার ভিত্তিতে ইসলামী সমাজ গঠনের মহান উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর এই গঠনতন্ত্র প্রণীত ও প্রবর্তিত হইল।
-আল্লাহর অশেষ রহমতে বাংলাদেশ পাকিস্তানী অত্যাচারী শাসন থেকে মুক্তি পেয়াছে। জালিমকে আল্লাহ কখনোই পছন্দ করেন না।

সুতরাং লেখকের জামাতকে ধ্বংস করার ইচ্ছা যদি উপরক্ত সংবিধান এর দর্শন /মতবাদের এর কারণে হয় তাহলে তার প্রতিবাদ একজন মুসলমান হিসাবে আমার করতে হচ্ছে। কেননা উপরুক্ত দর্শন/মতবাদ গুলো মূলত ইসলামের মতবাদ /দর্শন , জামাতের ব্যক্তিগত মতবাদ নয় । আর যদি লেখক জামাতের বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় এর ভূমিকা ও বর্তমান কার্যকলাপের জন্য এর ধ্বংস চাইতেন তাহলে কোনও আপত্তি নেই কারণ এগুলো সরাসরি জামাতের সাথে সম্পর্কিত । এসব বিষয়এ এখন বিচার চলছে । বাংলাদেশে হিংসাত্মক রাজনৈতিক কার্যকলাপে দিক থেকে কোনও দলই কোনও দলের চেয়া পিছিয়ে নেই।

জামাত কিংবা পাকিস্তান কেউই ইসলাম এর প্রতিনিধিত্ব ( রিপ্রেজেন্ট) করেনা। পাকিস্তানকে অনেকেই ‘ইসলামিক রাষ্ট্র এর মডেল হিসেবে দেখেতে পছন্দ করে কিন্তু বাস্তবে পাকিস্তান এর সাথে ইসলামের ব্যবস্থার কোনও সম্পর্ক নেই। পৃথিবী থেকে যথাযথ ইসলামিক রাষ্ট্র অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে, যখন খেলাফত ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে । সুতরাং পাকিস্তান বা জামাত কে দিয়ে ইসলামিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার দর্শন পরিমাপ করতে চেষ্টা করা ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার নিদর্শন ছাড়া আর কিছু নয় ।

পাকিস্তান বাংলাদেশের সাথে যে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে সেটার মূলে ছিল পাকিস্তানীদের ‘জাতিগত অহংকার’। এই বৈষম্য ইসলাম এর কারণে সৃষ্টি হইনি। পাকিস্তান যদি সত্যিকারের ইসলাম অনুসরণ করতো তাহলে বাংলার মানুষের উপর এরূপ নির্দয় জুলুম কোনদিন করতে পারতো না। ইসলামে জাতিগত অহংকার এর কোনও প্রশ্রয় নেই। বর্ণবাদ/ স্বাজাতিকতার এর বিরুদ্ধে ইসলাম তার শুরু থেকেই যুদ্ধ করে আসছে।

একটি ব্যপার অনেকেই বুঝতে ব্যর্থ হয় যে ইসলাম শুধুমাত্র একটি ধর্ম নয়, এটি মুসলমানদের জন্য একটি সম্পূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। মানুষের ইচ্ছা মত এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করার কোনও সুযোগ নেই। এর মনে এই নয় যে মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞান এ উন্নতি করবেনা । কিন্তু কিছু মুখ্য বিষয় এ পরিবর্তনের কোনও সুযোগ নেই। একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে কোরআন ও হাদীস অনুসারে সব ব্যবস্থা ও সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। সুতরাং জামাত সম্পর্কে বা কোনও দল এর কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে ইসলামের মূল ভিত্তির বিরুদ্ধে কিছু বলা গ্রহণযোগ্য নয়।

‘এবার আসা যাক লেখকের দেয়া ওষুধ সম্পর্কে যা কিনা জামাত ধ্বংস / নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে ইসলামপন্থী দর্শন/মতবাদ ধ্বংস করার ফর্মুলা বলে মনে হচ্ছে; লেকখের মতে :

”প্রথমত, কঠোর আইন প্রনয়নের মাধ্যমে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে যেন কোন ধর্মাশ্রয়ী দল মাথা তুলতে না পারে।”

– ইসলামে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার কোনও সুযোগ নেই। বরং ইসলাম বলে দেয় ‘কিভাবে’ রাজনীতি করতে হবে এবং ‘কিভাবে রাষ্ট্র ব্যবস্থা’ পরিচালিত হবে । মুসলমানদের নেতা নির্বাচন আলোচনা -পরামর্শ করে করার নিয়ম রয়েছে কিন্তু সেই আমির বা নেতা শতভাগ ‘হিসাব দিতে বাধ্য’। দায়িত্বশীলতা ও সততা কে সর্বোচ্চ গুরত্ত দেয়া হয়েছে। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রা:) শাসন আমলে – প্রতিটি রাজ্যে গভর্নর নিয়োগ দেবার সময় ওমর (রা:) তাদের সম্পদের হিসাব রাখতেন। দায়িত্ব শেষ হবার পর তিনি তাদের সম্পদ আবার হিসাব করতেন , যদি করও সম্পদ তার বেতন ভাতা বাদ দেবার পর বেশি পাওয়া যেত তাহলে ওমর (রা:) ওই অতিরিক্ত সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা রাখতেন। কেননা ধরে নেওয়া হতো ওই সম্পদ গভর্নর তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপার্জন করেছে। আর গভর্নর দের ব্যবসার অনুমতি ছিলনা কেননা ওমর (রা:) ধারনা করেছিলেন ব্যবসা করলে গভর্নর তার ক্ষমতা দেয়া ব্যবসা প্রসার করতে পারে । কেন আমরা চাইবনা এরূপ শাসন ব্যবস্থা বাংলাদেশ এও হক?!! কিন্তূ ইসলামের শাসন ব্যবস্থা তখনই সফল হবে যখন মানুষ আল্লাহকে ভয় করবে এবং সত্যিকারভাবে ইসলাম এ প্রবেশ করবে , ওমর (রা:) মত।

”দ্বিতীয়ত, সংবিধান থেকে রাষ্ট্রধর্ম বাদ দিতে হবে।”
– বাংলাদেশ ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ হলেও ধর্মহীন দেশ নয়, এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম। সুতরাং গণতান্ত্রিক মূল দর্শন / প্রিন্সিপাল – ”সংখ্যাগরিষ্ঠই সঠিক” অনুযায়ী রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলে প্রবলেম কী?!! বাংলাদেশের ধর্ম নিরপেক্ষতা কী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে?! কিন্তু ইসলামিক রাষ্ট্রে সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তার উপর জোর দেয়া হয়েছে। ধর্মের ব্যাপারে কোনও বাধ্যবাদকটা নেই। ইতিহাস বলে ইসলাম অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি সবসময় সর্বোচ্চ সহনশীলতা প্রদর্শন করেছে।

”তৃতীয়ত, জামায়াতের নেতাদের বক্তব্য সম্বলিত বই ও পুস্তিকা পর্যালোচনা করে সেগুলোর মাধ্যমে দেশে ইসলামের নামে যেসব ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে সেগুলো জাতির সামনে তুলে ধরে সর্বজনগ্রাহ্য চিন্তাবিদদের মাধ্যমে সেসব ব্যাখ্যার অসাড়তা প্রমানে সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে।”

– এ বিষয়ে আমি একমত, কিন্তূ শুধু জামাত না সর্বোপরি এরূপ বিশ্লেষণ দরকার ! ইসলামের মুল ধারনা সম্পর্কে পর্যালোচনার দরকার রয়েছে । কেননা ইসলামের নামে বাংলাদেশে ওনেক ভুল ব্যাখ্যা আছে কিন্তু সেগুলো হযত লেখক যা ভাবছেন তা নয়! জাতির সামনে ইসলামের মুল ধারনা কোরআন ও হাদীসের মাধ্যমে , সঠিক পথে পরিচালিত ইসলামের প্রথম চার খলিফার জীবনীর আলোকে তুলে ধরতে হবে। যাতে মানুষ ধর্মঅজ্ঞতা থেকে বের হয়ে আলোকিত হতে পারে।

”চতুর্থত, পত্রিকা, টিভি, মসজিদ, মাদ্রাসা, ওয়াজ মাহফিল ও পীরদের আস্তানায় কে কি বক্তব্য রাখছে তার পর্যালোচনা করতে হবে এবং দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
– যতটুকু বুঝলাম লেখক এক কোথায় টোটাল সেন্সরশীপ চাচ্ছেন। কোথায় গেল এখন বাক-স্বাধীনতা ?! তবে হ্যা এটি লক্ষ রাখতে হবে যেন কোনও পক্ষ ইসলামের নামে ভুল কিছু প্রচারণা না করতে পারে , যা কিনা মিডিয়াতেও ব্যাপক ভাবে হচ্ছে বাক-স্বাধীনতার নামে । এছাড়াও ভন্ড পীরদের এর আস্তানা নিষিদ্ধ করতে হবে। সর্বোপরি ইসলাম এর সঠিক বাণী প্রচার করতে হবে জনগণের মাঝে । যাতে মানুষ ভুল ভাবে ইসলামকে পালনের না করে , ইসলাম সম্পর্কে জেনে পালন করতে সচেষ্ট হয় । জ্ঞান অর্জন মুসলমানদের কর্তব্য।

”সর্বোপরি, শিক্ষিত ও ধর্মভীরু অরাজনৈতিক মানুষদের আরেকটু সচেতন হতে হবে যেন তারা কোরান পড়ে, নিজের বিচার বিবেচনায় ও সর্বোচ্চ মানবিক আচরন করে এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদের জীবন ও দর্শন অনুসরণের মাধ্যমে নিজেদের সত্যিকারের মুসলমান হিসেবে গড়তে পারেন।”’
– শতভাগ একমত! সময় এসছে সব মুসলমানের কোরান ও সুন্নতে ফিরে যাবার। সবার আগে নিজেদের চরিত্ত সংশোধন করতে হবে কোরান ও মহানবী হযরত মুহাম্মদের জীবন ও দর্শন অনুসরণের মাধ্যমে ।

-সন্মানিত লেখকের লেখার শিরোনাম ও বিষয়বস্তু কিছুটা হলেও অসঙ্গত। আর কিছু সুপারিশ ভয়ানক এক্সট্রিমিষ্ট। আরও সঠিক ভাবে বলতে গেলে সেকুলার এক্সট্রিমিষ্ট । একটি গণতান্ত্রিক দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি কিসের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ করা হবে, শুধু মাত্র একটি দলের কার্যকালপের জন্য?! মানুষের অবশ্যই অধিকার আছে তাদের পছন্দের যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করার । বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে।সমাজের প্রতিটি স্তরে স্তরে আজ দুর্নীতি ও অবিচার।

মানুষের অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ তার নিজের ভিতরকে পরিবর্তন করে। আমাদের আল্লাহর কাছেই ফিরে যেতে হবে। কারণ তিনি সর্বশক্তিমান পরম দয়ালু , শুধুমাত্র তিনি পারবেন আমাদেরকে এই বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করতে। আমাদের সবাইকে আল্লাহ সঠিক পথে পরিচালিত করুক।