ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

তখন আমি নতুন চাকরিতে যোগদান করেছি। থানার কাজকর্ম শিখছি। সপ্তাহের শেষ দিকে একটা মুখ প্রায়ই দেখতাম ঘুরেফিরে আসত।মাঝ বয়সী, দারিদ্রের ছাপ স্পষ্ট। সামনে পড়লে বিগলিত হয়ে সালাম দিত। আমি কখনো উত্তর দিতাম, কখনো দিতাম না। খুব বেশি পেরেশান দেখিনি কখনো তাকে। তাই তেমন একটা মনোযোগ দিইনি তার দিকে।

একদিন খুব কৌতূহল হল। আমার এক সাব ইনসপেক্টর দিয়ে ডাকালাম লোকটাকে। জানতে চাইলাম তার সমস্যা কি? সে বললো, স্যার আমার বাড়ি অন্য জেলায়। আমি রাস্তার কাজ করার জন্য এ এলাকায় এসেছিলাম। তারপর কাজ করার সময় এখানকার এক মেয়ের সাথে সম্পরক হয়। পরে অনেক ঝই-ঝামেলার পর বিয়ে ও হয়। কিনতু সমস্যা অন্য জায়গায়। আমার শ্বশুর এক বাপের এক ছেলে। আর আমার বউ ও তার বাপের এক মেয়ে। অন্য দিকে, আমার চাচতো শালারা ছয় ভাই। ওরা আমার শ্বশুর মারা যাওয়ার পর থেকে আজ একটা, কাল আরেকটা করে জমি দখল করে নিচ্ছে। আমি থানায় আসি। পুলিশ যায়। ওরা পালায়। স্যার, পুলিশ চলে আসার পর ওরা আমাকে গালাগাল করে। আমার বউডারে ধরে মারে। আমি আবার থানায় আসি।

লোকটার কথা শুনে আমার খারাপ লাগে। আমি সাব ইন্সপেক্টরকে ডাকি, জিজ্ঞাসা করি, সমস্যা কোথায়? সে বলে, স্যার, ওর বাড়ি এখান থেকে প্রায় ৪০ কি মি দূরে। শেষ দশ কি মি পায়ে হাঁটা পথ । তাও আবার মাঠের মধ্য দিয়ে আর দুটো নদী পার হয়ে। খবর পেয়ে পৌছাতে পৌছাতে আসামীরা পালায়। আমরা বেশ কয়েকবার করে গিয়েও কাউকে পাইনি। রাত ৮ টার পর সব ধরনের নদী পারাপার বন্ধ থাকে। আর আসামীরা ওর বউকে হাতে মারে যাতে করে শরীরে কোন দাগ না থাকে। এলাকার স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যান সব ওদের পক্ষে। কারন ওদের বাড়ি ভোট বেশি। কেউ সাক্ষী দিতে চায়না। তাই আমাদের ও তেমন কিছু একটা করার থাকেনা।

লোকটিকে আমি বললাম, তুমি প্রতি সপ্তাহে কেন আস? সে বলল, স্যার, আমি সারা সপ্তাহে কাজ করে কিছু টাকা জমা করি। সেই টাকা থানায় স্যারদের কাছে দিয়ে যাই। যাতে স্যাররা আমার বাড়ি যায়। স্যার, ওরা আমারে মারছে, আমার বউডারে মারছে। এর শোধ আমি লমুই।

আমি জানতে চাইলাম কার কাছে টাকা দাও? সে কিছুতেই বলল না। ভয় দেখালাম তাও বলল না। এর সপ্তাহ খানেক পর আমি বদলি হয়ে চলে আসি। জানিনা শোধ সে নিতে পেরেছিল কি না।