ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ কিন্তু এখানে বসবাস করে প্রায় ১৬ কোটি মানুষ। জনসংখ্যার দিক দিয়ে বলতে গেলে এটি একটি বড় দেশ। আবার শিক্ষার দিক দিয়ে বলতে গেলে এটি একটি ছোট দেশ। কারণ বাংলাদেশে শিক্ষিতর হার খুবই কম। আর এর প্রধান একটি কারণ হচ্ছে দারিদ্রতা। সরকার ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত বিনা মূল্যে লেখা পড়ার ব্যবস্থা করার পরও দেখা গিয়েছে যে অনেক অসচেতন মা-বাবা তাদের সন্তানদেরকে শিক্ষা গ্রহন থেকে বিরত রেখেছিলো। তবে আমি মনে করি বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় যে কর্ম সূচী নিয়েছেন তা সবার জন্য অধিকতর ভাল।

সবার মাঝে শিক্ষার কথা তুলে ধরা, কম খরচে ছাত্রছাত্রীরা পড়ালেখা করতে পারবে প্রয়োজনে বিনা-বেতনে পড়ালেখার সুযোগ পাবে। তবুও যাতে বাংলাদেশের সকল ঘরে শিক্ষার আলো জ্বলে ওঠে ।

ঢাকা শহরে গড়ে উঠেছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে ছাত্রদের কাছ থেকে নেওয়া হয় পাহাড় সমান টাকা । যারা দারিদ্র পরিবার থেকে এসেছে তাদের কাছ থেকেও নেওয়া হয় ঠিক তেমনি । তাদের জন্য কোন সুবিধা বা ছাড় নেয়। আর এ কারণেই অনেক মেধা থাকার পরও সুযোগ হারায় তারা। স্কুলে পড়ার পাশপাশি যদি ভাল অনুশীলন না করা হয় তাহলে ভাল রেজাল্ট করা কষ্ট হয়ে যায়। তাই তারা বাধ্য হয়েই যাচ্ছে ঔসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

শিক্ষার কথা আর দারিদ্র ওই সব সুযোগ না পাওয়া ছাত্র ছাত্রীদের কথা মাথায় রেখে তাদের সাহায্যের জন্যে ডেফোডিল ইন্সটিটিউট অফ আই টি বিভাগের কিছু ছাত্র ঠিক তেমনি একটি কাজ করতে উদ্যোগ নিয়েছে । তারা স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণির ছাত্রদের নিয়ে করেছেন একটি ছোট্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যেখানে শিক্ষা দেওয়া হবে স্বল্প খরচে এবং বিনা মূল্যে।

এ বিষয় নিয়ে কথা বললাম পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমডি এস জুয়েল এবং.মোঃ আক্তারুজ্জামানের সাথে। সরকারের সাথে এক হয়ে তারা দারিদ্রতাকে পিছনে ফেলে শিক্ষাকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য স্বল্প খরচ এবং বিনামূল্যে শিক্ষাদান করবেন বলে জানান। বর্তমান তারা আদাবর ১৭ ‘বাইতুল আমান হাউজিংয়ে’ একটি বাড়িতে এই শিক্ষা দেওয়া শুরু করেছে । বাসাটি ওই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এমডি এস জুয়েল নিজের। তিনি তার কিছু সহপাঠিদের নিয়ে চালু করেছেন এই প্রতিষ্ঠানটি । তাঁর সাথের সবাই এই সেবায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

১লা এপ্রিলে উদ্বোধন এবং ২রা এপ্রিল প্রথম ক্লাস শুরু হয় । এমডি এস জুয়েল আরও বলেন তার ঐ প্রতিষ্ঠানে কিছু দারিদ্র ছেলে যারা টাকার জন্যে কাজ করে তারা কাজের ফাঁকে শিক্ষাগ্রহন করতে আসছে । তাই প্রতিষ্ঠান টি তাদের জন্যে আলাদা ভাবে সময় দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন । কেউ যেন স্বশিক্ষা থেকে বাদ না পড়ে সেই লক্ষে তাদের এই উদ্যোগ ।