ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

বাঙালি জীবনের একটি কাঙ্ক্ষিত দিন এই পহেলা বৈশাখ। সারা বছরের ক্লান্তি যেন ধুয়ে মুচে যায় এই পহেলা বৈশাখে। ধনী গরিবের মাঝে কোন ব্যাবধান থাকে না আর তাইতো তারা সবাই মিলে একত্রে পান্তা-ইলিশ ভোজন ও উৎসবের আয়োজন করে।

পহেলা বৈশাখ কে ঘিরে থাকে নানা আয়োজন সারা বাংলায়। নাগরদোলা, হাতি, ঘোড়া, গান, নাটক আরও কত কি। যাই হোক, আমরা সবাই জানি সবচেয়ে বড় বর্ষ বরণের আয়োজন হয় ঢাকার রমনা’র বটমূল প্রাঙ্গণে। প্রতি বছরের মত এবারও আয়োজিত হয়ে ছিল এই বর্ষ বরণ ১৪১৯। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে পালিত হল এই আয়োজন। পুলিশ, র‍্যাব, এলিট ফোর্স, সিসি ক্যামেরা, বাইনোকুলার দিয়ে সার্বক্ষানিক নিরাপত্তা থাকা সত্তেও তারা সংরক্ষিত এলাকা ও রাজু ভাষকার্জ সহ বিভিন্ন গুরুত্তপুর্ন স্থানের নিরাপত্তা দিতে পারেনি তারা।

বাঁধ ভাঙ্গা মানুষের ঢলে যেন নতুন সাজে সেজেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই আনন্দ শুধু বড়দের নয় আর তাই তো শিশুরাও এসেছিল তাদের বাবা-মায়ের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে। অপর দিকে দেখা যায় বাঙ্গালীর সাজে সেজেছিল বিদেশিরাও। বাংলার সংস্কৃতি যেন তাদের নিজের সংস্কৃতি এমনটির প্রকাশ পেয়েছে তাদের মধ্যে থেকে।

পহেলা বৈশাখে সবার একটায় দাবি ছিল যুদ্ধ অপরাধীর বিচার। যারা পাক হানাদারদের কে সাহায্য করে। আমাদের মা বোন কে লাঞ্চিত করতে সহযোগিতা করে তাদের বিচার যেন এই বাংলায় হয় এই প্রত্যাশা সকলের।

সারা দিন ব্যাপি ছিল নানা আয়োজন। বিভিন্ন টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করেছে এই উৎসব। রমনা পার্ক, মল চত্তরে বিভিন্ন শিল্পীর পরিবেশনায় ছিল কনসার্ট, ছবির হাট প্রাঙ্গণ ছিল বাউল মেলা। মুখরিত ছিল সোহরাউদ্দিন উদ্যান।

কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য এই আনন্দের মাঝে অনেক কেই চোখে জল নিয়ে ফিরতে হয়েছে বাসায়। অনেক বোন লাঞ্চিত হবার ঘটনা ঘটেছে ঢা বি ও আর আসে পাশের এলাকায়। যা পুলিশের সিসি ক্যামেরার চোখকে ফাঁকি দিয়ে।

চোখের জল দিয়ে বর্ষ বরণ করে ফিরতে হয়েছে তাদের।

যুদ্ধ অপরাধীর বিচার হবে কিন্তু এই অপরাধীদের কি বিচার হবে না? যারা আপনার আমার বোনকে লাঞ্চিত করছে। তাদের(বোন) চোখের জল দেখে কি আপনার আমার বিবেকে নাড়া দেয় না? একবার ভেবে দেখুন যদি আপনার বোন হতো? সংস্ৃতিকে যেন আমরা অপসংস্ৃতির দিকে ঠেলে দিচ্ছি।

আমরা কি পারি না এটাকে রোধ করতে? আসুন আমরা এগিয়ে আসি, সোচ্চার হয় এদের বিরুদ্ধে।

সারা মেলা ঘুরে।