ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

প্রথম পোষ্ট, সময়মত নামাজ না পরার কারণে ১৪ ছাত্রীকে খুন্তির ছ্যাঁকা-১

তালিমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ঠিক সময়মত নামাজ না পরার শাস্তি হিসেবে তিনি ছাত্রীদের দেহে উত্তপ্ত খুন্তির ছ্যাঁকা দেন। তাদের ‘দোযখের আগুন’ সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য তিনি এই কাজ করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ১০ দিন মাদ্রাসা বন্ধ থাকার পর গত ১লা মের সকালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার মাদ্রাসায় উপস্থিত ১৪ ছাত্রীর কাছে জানতে চান ছুটির মধ্যে তারা বাড়িতে ঠিকমত নামাজ পড়েছে কিনা।

তাদের মধ্যে কয়েকজন নামাজ পড়তে পারেনি বলে জানালে তাদের উত্তপ্ত খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হয়।

”এক মেয়ে বলেছে সে নামাজ পড়তে পারে নাই। তখন ঐ প্রিন্সিপাল বলেন নামাজ পড় নাই, দোজখের আগুন কেমন সেইটা এখন বুঝবা।’

ঘটনার পর নির্যাতনের শিকার এক ছাত্রীর বাবা আবদুল জলিল কদমতলা থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে বলে পুলিশ জানায়।
কদমতলা থানার তদন্ত কর্মকর্তা শাকের মো. জুবায়ের জানান, ছোট ছোট বাচ্চারা নামাজ নিয়মিত না পড়ায় ঐ প্রধান শিক্ষক তাদের এই শাস্তি দেয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন।

তাইমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা, কদমতলা

নামাশামপুরের এক বাড়িতে অবস্থিত চার কক্ষের বাসায় অভিযুক্ত জেসমিন আক্তার ও তার স্বামী স্থানীয় এক মসজিদের পেশ ইমামকে নিয়ে বসবাস করত। একটি কক্ষে মাদ্রাসার কার্যালয় এবং অন্য দুই কক্ষে ক্লাস নেয়া হয়।

সকালে ঘটনা ঘটলেও এলাকাবাসী জানতে পারে দুপুরের পর। উত্তপ্ত খুন্তির ছ্যাঁকা দেবার পর ছাত্রীরা কান্নাকাটি করলেও তাদেরকে আটকে রাখা হয় মাদ্রাসার মধ্যে। এখনও ঐ শিক্ষিকাকে পুলিশ ধরতে পারেনি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন না করার জন্য সরকারের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায়শই শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে থাকে।