ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

কাজের ফাকে পড়ায় ব্যস্ত তাহের মিজি। কাজ কখনও পড়াকে বাধা দেয়না

শিক্ষা অর্জনের কোন বয়স নেই, নেই কোন ধরা বাধা নিয়ম। শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে বয়স কোন বিষয় নয়। এ কথা অবারও প্রমাণ করলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আ. ফ. ম কামাল উদ্দিন হলের সিক বয় মোঃ আবু তাহের মিজি। অদম্য স্পৃহার কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ৩৯ বছর বয়সেও চালিয়ে যাচ্ছেন পড়ালেখা। তিন সন্তানের জনক হয়েও লেখাপড়া করছেন নিপুন উদ্যোমে। নেই কোন গ্লানি নেই কোন পিছু টান। বর্তমানে তিনি সাভারের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্র। আবু তাহের মিজি ১৯৭১ সালে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার বদরপুর গ্রামের এক দারিদ্র কৃষক পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তার পিতা মোঃ আবদুল ওয়াদুদ মিজি একজন দারিদ্র কৃষক। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে আবু তাহের সবার বড়। অর্থের অভাবে তিনি লেখাপড়া বেশি দুর করতে পারেননি। তাই পার্শবর্তী ব্রাহ্মনবাড়ি গ্রামের মিজি বাড়িতে লজিং থেকে তাদের ছেলে মেয়েদেরকে পড়ায়ে নিজের পড়া লেখা চালাতেন। দিনের বেলাই সময় না পেলেও রাতে চাঁদের আলো অথবা কুপির আলোয় লেখাপড়া করতেন।

১৯৮৭ সালে পুরাতন কাশেমপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এস এস সি পরীক্ষা দেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তিনি অকৃতকার্য হন। পরিবারের অভাব অনটনের ফলে ১৯৮৯ সালে কাজের খোঁজে তার চাচা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তা মোঃ তমিজ উদ্দিন মিজির(মৃত) কাছে চলে আসেন। এর কিছুদিনের মাথায় চাচার সুপারিশে কামাল উদ্দিন হলে অস্থায়ী ভাবে ডাইনিং বয়ের চাকরী পান। পরে ১৯৯৬ সালে স্থায়ী ভাবে সিক বয়ের চাকরি পান। সিক বয় হিসাবে হলের শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হলে তাদের তিনি সেবা ইনবক্সে যত্ন করতেন। বর্তমানে তিনি এক মেয়ে ও দুই ছেলের জনক। তার বড় মেয়ে আয়েশা আক্তার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণী, মেঝো ছেলে আব্দুল কাদের ষষ্ঠ এবং ছোট ছেলে শাকিল হোসেন ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ালেখা করছে। লেখাপড়া করার অদম্য ইচ্ছা থাকায় সকল বাধা উপেক্ষা করে ১৮ বছর পর আবু তাহের ২০০৫ সালে সাভারের অধর চন্দ্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত শাখায় নবম শ্রেণীতে ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০০৮ সালে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ২.১৫ পেয়ে কৃত কার্য হন। এর পর সাভারের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে মানবিক বিভাগে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি দ্বাদশ শ্রেনীর ছাত্র। তার ইচ্ছা এইচ এস সি পাশ করে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করবেন।

তাহের বলেন, “ছোট বেলা থেকেই আমার ইচ্ছা উচ্চ শিক্ষাই শিক্ষিত হওয়া, কিন্তু পিতার দরিদ্রতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এখন আমি আবারও পড়ালেখা শুরু করেছি, আমার ইচ্ছা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করা। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন ”।