ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

আমার মেডিক্যাল রিপোর্টগুলো নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী স্যারকে দেখাতে গিয়েছিলাম দুপুর বেলা। বারিধারার ১৩ নং রোডের প্রবেশ পথে আমাকে আটকে দেয়া হলো। দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য বললেন, মোটর সাইকেল নিয়ে ভেতরে যাওয়া যাবে না। জিজ্ঞেস করলাম কেনো? – পালটা প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হবে সে মনে হয় সেটা আশা করে নাই। তাই প্রথমে ভরকে গেলেও বেশ ঝাঁঝের সাথেই জবাব দিলো, যাওয়া নিষেধ আছে।

-তা তো শুনলাম। কিন্তু কেনো নিষেধ? আর কে নিষেধ করেছে?

-আপনাকে তো বললাম মোটর সাইকেলে ভিতরে যাওয়া যাবে না।

-কেন যাওয়া যাবে না?

আমাদের কথোপকথনের মাঝে আরেক পুলিশ সদস্য এসে বললেন, আপনি স্যারের সাথে কথা বলেন। পাশের এক বুথ থেকে একজন পুলিশ কর্মকর্তা বেরিয়ে এসে সেই একই কথা বললেন, মোটর সাইকেল বাইরে রেখে হেঁটে যান। বললাম, মোটর সাইকেলে তিনজন আরোহী চলা যাবে না সেটা জানি। কিন্তু মোটর সাইকেল নিয়ে কোথাও প্রবেশ করা যাবে না, এরকম কোনো আদেশ তো শুনি নাই।

তিনি আমার পরিচয় জানতে চাইলেন। পরিচয় দিলাম। বারিধারায় মেয়রের উদ্বোধন করা হলুদ রিক্সা দেখিয়ে বললাম, বারিধারার ভিতরে ঐ যে রিক্সাগুলো চলছে সেই রিক্সাগুলোর লাইসেন্স নাই। আমার মোটর সাইকেলের লাইসেন্স আছে। বারিধারায় লাইসেন্স বিহীন রিক্সা চলতে পারবে কিন্তু লাইসেন্সকৃত মোটর সাইকেল কেনো চলতে পারবে না?

এবার পুলিশ কর্মকর্তাকে একটু নমনীয় মনে হলো। বললাম, বি চৌধুরী স্যারের কাছে যাচ্ছি রিপোর্ট দেখাতে। আমি বহু বছর ধরে এই পথে মোটর সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করছি। এর আগে কখনো এই রকম পরিস্থিতিতে পড়ি নাই। এখন আমি কি করবো বলেন?

-আপনি আমেরিকান এম্বেসির পাশের গেট দিয়ে যান। -আমি হাসবো নাকি কাঁদবো বুঝতে পারছি না। ঐ গেট দিয়ে ঢুকতে পারলে এই গেটে সমস্যা কোথায়? পুলিশ কর্মকর্তা কি একটা চিন্তা করে বললেন, আচ্ছা যান। তবে আর আইসেন না। কি করবো বলেন, উপরের নির্দেশ!

মনে মনে বললাম, হে আল্লাহ এই উপর আলাদের হেদায়েত কর। এদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বাস্তব জ্ঞান দান কর। এদের মোটা বুদ্ধি চিকন করে দাও।