ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

শুনেছি, বিপদে পড়লে সাপে নেউলে একই বৃক্ষে অাশ্রয় নেয় – অথচ সৌদিতে বাঙ্গালীরা মাইরের উপর থাকার পরও নিজেরা নিজেরা মারামারি করছে!

সম্প্রতি (৫ জুলাই, ২০১২) রিয়াদের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা হারা’তে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাংলাদেশিদের মধ্যে সপ্তাহব‍্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়াসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটেছে।
বিগত কয়েক বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না – তার উপর এ ধরনের ঘটনা সেখানকার প্রশাসনের কাছে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। আমরা যারা প্রবাসে অাছি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে, তারা এক কঠিন সময় পার করছি। পুরা মধ‍্যপ্রাচ‍্য জুড়ে বাংলাদেশীদের ভাবমূর্তি শূণ্যের কাছাকাছি। এ পরিস্থিতিতে এধরনের ঘটনা গোদের উপর বিষফোঁড়ার সামিল! এতে অামাদের অবস্থান আরো নাজুক হবে। তাছাড়া সৌদি আরব হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের নাটের গুরু! তারা কোনো পদক্ষেপ নিলে অন‍্যান‍্য দেশগুলোও তাকে অনুসরণ করে! তাই, সরকারের কাছে জোর দাবী, যারা এর সাথে জড়িত তাদেরকে অচিরেই চিহ্নিত করে সেখান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিৎ।

যে কোনো পর্যায়ে ভাবমূর্তি নষ্টের জন‍্য আমি প্রথমত সরকারকে দায়ী করবো। অপরাধ জাতি-ধর্ম-বর্ণ-স্থান-কাল-পাত্র নির্বিশেষে সবাই করে। কিন্তু আমাদের সরকার আর অন‍্যদের মধ্যে পার্থক‍্য হলো, অন‍্যরা বিচার করে – আর আমরা তা করি না! সরকার যদি কঠিন হস্তে এইসকল অপরাধীদের বিচার করতো তাহলে বিদেশীরা অন্তত আশস্ত হতো। ঝুড়িতে দু’একটি আম পঁচে গেলে সেগুলো ফেলে দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। তা না হলে বাকী আমগুলোও পঁচে যাবে। তেমনি যারা অপরাধ করে তাদের প্রতি বিন্দুমাত্র সহানুভূতি না দেখিয়ে দ্রুত ব‍্যবস্থা নিলে আজ মধ‍্যপ্রাচ‍্য জুড়ে আমাদের এ অবস্থা হতো না! এম্বেসীগুলোতে সেবার মান বাড়ানোর ব‍্যবস্থা যেমন করা দরকার, তেমনি অপরাধী সনাক্তকরণ ও তাদেরকে ধরে দেশে ফেরত পাঠানোর ব‍্যবস্থা করার জন‍্যও একটি শক্তিশালী সেল রাখা উচিৎ বলে অামি মনে করি। কারন, প্রবাসীর সংখ‍্যা বাড়ার সাথে সাথে অপরাধীও তো বাড়ছে – দু’একজনের অপরাধের জন‍্য সারা জাতি ভোগবে – এটা কখনো গ্রহণযোগ‍্য নয়!

মধ‍্যপ্রাচ‍্য সহ প্রবাসে বাংলাদেশীদের পারষ্পরিক ঝগড়া-বিবাদের সকল কিছুর মূলে হলো অসুস্থ রাজনীতি। দেশের অভ‍্যন্তরের রাজনৈতিক কোন্দলের জের এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জান্তিক পরিমন্ডলে ছড়িয়ে পড়েছে। বি.এন.পি – আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহনকারীদের ব‍্যক্তিগত চুলোচুলির রেশ সর্বব‍্যাপী ভয়ঙ্কর রূপে বিস্তৃত হয়েছে!

দেশের বাইরে রাজনৈতিক দলের কর্মকান্ড পরিচালনার নজির পৃথিবীতে একমাত্র আমাদেরই আছে! প্রবাসী রাজনীতি আমাদেরকে ভয়াবহভাবে বিবাদমান দু’টি গ্রুপে বিভক্ত করে রেখেছে। আর এদেরকে উষ্কে দিচ্ছে কিছু মিডিয়া! প্রায় সকল টিভি চ‍্যানেলই নিয়মিতভাবে এইসব তথাকথিত প্রবাসী রাজনৈতিক লেজুরগুলোর নানান খবর প্রচার করে থাকে। টিভিতে মুখ দেখানোর লোভে অনেকেই এইসবে যুক্ত হয়! যারা এসকল দলের নেতা-কর্মী তাদের চেহারা-সুরত, যোগ‍্যতা ইত‍্যাদি দেখে অবাক লাগে! ঠিকমতো শুদ্ধ করে নিজের বাপের নাম বলতে পারবে না – অথচ বঙ্গবন্ধু-জিয়ার নামে মুখে ফেনা তুলে ফেলে! কেউ কেউ আবার গল্পের আড্ডায় বড় বড় নেতার নাম নিয়ে বলে ‘অমুক ভাই’ ‘তমুক ভাই’ – যেনো তার সাথে ঐ নেতার দোস্তি সম্পর্ক!! যেমন, “তোফায়েল ভাই’র ঐ কথাটা বলা ঠিক হয় নি….” ইত‍্যাদি। এইসকল তথাকথিত নেতার অত‍্যাচারে দূতাবাস – এমনকি রাষ্ট্রদূত মহোদয়ও থাকেন অতিষ্ট! না পারেন বলতে, না পারেন সইতে!

আমাদের এ এক অদ্ভূত চরিত্র! যতই মাইরের উপর বা দৌড়ের উপর থাকি না কেনো ফুটানি চাই ষোলো আনা! মনে মনে শাহেন শাহ! ফুটপাথের ঝুপড়িঘরে নিজের দেহটারই স্থান সঙ্কুলান না হলেও বছরে বছরে সেখানেই আসে নতুন মুখ!! সৌদিআরব তথা মধ্যপ্রাচ্যও আমাদের ফুটানি কম না – নানান কিসিমের মাইরের চোটে যেখানে বাংলাদেশিরা কোনোরকমে ইজ্জত-আব্রু নিয়ে বেঁচে আছে – সেখানে আবার নিজেদের মধ্যে সশস্ত্র কোন্দলে জড়ানো কী ইঙ্গিত করে? এরা যে কতো বড় আহাম্মক তা ই তো প্রমানিত হয়!

আমাদের টিভি চ‍্যানেলগুলো এইসকল রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের খবর বাদ দিয়ে নিরীহ প্রবাসীদের দুঃখ-দুর্দশার খবর প্রচার করলে আমরা তথা দেশ লাভবান হতো। তাই সকল মিডিয়া’র প্রতি আমার বিনীত আহবান, আপনারা দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এ কাজটি করুন! বিপথগামিতা উৎসাহিত করবেন না! প্রবাসে কর্মক্ষেত্রে বা ব‍্যবসায় নানান সমস‍্যার কথা, সম্ভাবনার কথা, সফলতার কথা দেখান

– রাজনীতির সভা-সমাবেশ নয়।