ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

“জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস” নিয়ে অত্যন্ত দুঃখজনক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ইলিয়াস কাঞ্চন দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে বলতে গেলে একেবারেই একা এই নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি তাঁর স্ত্রীর মৃত্যু দিবস ২২ অক্টোবরে ‘নিরাপদ সড়ক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছেন। বাংলাদেশে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে নিবেদিতভাবে এমন আন্দোলন এটাই প্রথম ও একমাত্র!

অথচ, অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, গত বছর সরকারের একজন বিতর্কিত মন্ত্রীর সাথে ইলিয়াস কাঞ্চনের বিরোধ হওয়ার পর সরকার দুরভিসন্ধিমূলকভাবে তাঁর এই অবদানকে হেয় করতে চাইছে। জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস কোনটি হবে, তা নির্ধারণে জনমত জরিপ চালু করেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এতে ২২শে অক্টোবর সহ মোট ৪টি তরিখ দেয়া হয়েছে।

২২শে অক্টোবর ছাড়া বাকি তিনটি বিবেচ্য দিন হলো:
১১ জুলাই (চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ২০১১ সালের ওই দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০ ছাত্র নিহত হয়),
৩১ জুলাই (সচিব রাজিয়া বেগমসহ দুজন সরকারি কর্মকর্তা ২০১০ সালের ওই দিন নিহত হন) এবং
১৩ আগস্ট (চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীর ২০১১ সালের এদিন নিহত হন)।

আমাদের কথা হলো, ১৯ বছর অাগে যখন কেউ এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেনি তখন ইলিয়াস কাঞ্চন সোচ্চার হয়েছিলেন। সেটা যতো ক্ষুদ্রই হোক – সেটাই ছিলো স্ফুলিঙ্গ! এরপর কোনোদিন হাজার যাত্রী মারা গেলেও (তাদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা রেখেই বলছি) ইলিয়াস কাঞ্চনের অবদানকে ছাপিয়ে যেতে পারে না! সরকারের এই উদ্দেশ‍্যমূলক দুরভিসন্ধির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সেই সাথে দাবী করছি, একজন মন্ত্রীর কূটচাল থেকে বেরিয়ে এসে অবিলম্বে ২২ অক্টেবরকে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ ঘোষণার সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করুন! যাঁর যার প্রাপ্য সম্মান দেখাতে না পারলে ভালো কাজে কেউ অার উৎসাহিত হবে না। আমরা আর কতকাল পর মানুষকে সম্মান করতে শিখবো?

http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-11-22/news/307652