ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

দুর্নীতির প্রশ্নে বিশ্ব ব্যাংকের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত আমাদের সরকার বেশ জোড় গলায় প্রচার করছে, দেশী অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করবেন। আমরাও এরকম একটা স্বপ্ন দেখছি। প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পের রূপরেখাও প্রকাশ করেছেন। অনেক সরকারী বেসরকারী দপ্তর তাদের একদিনের বেতন, একমাসের বেতন এই প্রকল্পে উৎসর্গ করার ঘোষণা দিচ্ছেন, … আলহামদুলিল্লাহ্‌। বাংলাদেশে এর চেয়ে আনন্দের খবর গত ৪০ বছরে একটিও হয়নি।

শুনেছি, এই খাতে সাধারন নাগরিকের মোবাইল ফোনের প্রতি কলে ২৫ পয়সা করে নেয়ার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে। আমার মনে হয় স্বাধীন দেশের যে কোন সচেতন নাগরিকই এতে গর্ববোধ করবেন, কারন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় স্থাপনা নির্মাণে ন্যূন্যতম অঙ্কে হলেও আমার অবদান আছে… এই ভেবে।

কিন্তু স্বচ্ছতার প্রশ্ন এবং সিস্টেমের ফাঁক ফোকরে উদ্বেগের অনেক কারন রয়ে গেছে। এই ধরনের বৃহৎ স্থাপনা নির্মাণে আমাদের শাসক দল, প্রশাসন ও নির্মাতা ব্যাবসায়ীদের ভুমিকা বেশীরভাগ সময়েই কেলেঙ্কারির সীমায় পৌঁছে গেছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে গেলে মনের সব উৎসাহ উদ্দীপনা মিলিয়ে যায়।

দাতা সংস্থা যখন কোন প্রকল্পে বিনিয়োগ করে, তখন যথেষ্ট পরিমান নজরদারি ও খবরদারিও করেন। তারপরেও আমাদের দেশের হাঙর স্বভাব তালেবররা বিভিন্ন উপায়ে তাদের মারিং কাটিং চালিয়ে যান। তবে দাতা সংস্থার খবরদারির কারনে মারিং কাটিং এরও একটা সীমা থাকে এবং শেষ পর্যন্ত বিলম্বে হলেও প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের মত নাদান আমজনতার টাকায় যদি এই ধরনের প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়…!!!! (সেটা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ই হোক আর বিএনপি সরকারের সময়ই হোক, আমরা জানি দুই দলই ১০০% খাঁটি গরুর দুধে ধোয়া..আলমের আসল এক নম্বর পচা গণতান্ত্রিক দল!!!) “লিখতেও ভয় লাগে” ২২০০০০০০০০০০ টাকার হিসেবে আসলে কত টাকা কত জায়গা থেকে আসবে? আর কত টাকা কোন ফাঁক দিয়ে কার বগল তলার চিপা দিয়ে কোথায় উড়ে যাবে… ??? কে বলবে, কে জানবে, কে জানাবে, কার জানতে চাওয়ার মত হিম্মত হবে……??? জানতে চাওয়ার পরে কয়জন হিম্মত ওয়ালা এই দুনিয়াতে বেঁচে বর্তে ঘর সংসার করতে পারবে… ???

উপর ওয়ালাই জানেন…