ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ইদানীং পত্রিকা পড়লে মনে হয়, এই শীতেও আমাগো দেশে কিছু লোকের কাম ড়িপুর তাড়না হঠাৎ কইরা বাইরা গেছে। মনে হইতাছে ভারতীয় ফ্যাশন আর ইষ্টাইলের মত ভারতীয় আকাম কুকামও আমরা ফলো করতাছি। আসলে কিন্তু গেরামে গঞ্জে, হাটে বাজারে, শহরে বন্দরে এমন কি রাজধানী ঢাকার অলিতে গলিতে প্রতিদিন শত শত ঘটনা ঘটে যা আমাগো মত সভ্য, শিক্ষিত এবং সচেতন নাগরিকের সামনে পরলেও ঝামেলা এড়ানোর অভ্যাস বসত আমলে নেই না। কারন আমাগো সমাজ পতিরা এই সব ঘটনা নিজেগো আয়ত্তে নিয়া ফয়সালা করতে পছন্দ করে। ধর্ষক, মানে মানুষ নামের কুত্তা গুলা উনারাই লালন পালন করেন। আর ভুক্ত ভোগী ধর্ষিতা ও তার পরিবার মান, সম্মান ও নিরাপত্তার অভাবে সব জ্বালা যন্ত্রণা হজম কইরা গা ঢাকা দিতে বাধ্য হয়। ধর্ষক কিছুদিন কামনা বাসনা চাইপা রাখলেও আবার নতুন কইরা শিকার খোজা শুরু করে।

অন্য দিকে ধর্ষণের রিপোর্ট পত্রিকাওয়ালারা গুরুত্ব দেয় না, পুলিশ বাহিনীর রীতিমত অ্যালারজি আছে এই ব্যাপারে। ধর্ষণ মামলা করতে গেলে এমন ভাব করে যেন ওসি সাহেবের পোলার নামে মামলা করতাছে। মামলা যদি হয়ও এরপর শুরু হয় কমিটি কমিটি খেলা…… মেডিক্যাল রিপোর্ট লাগব,নির্যাতিতা সাধারণত গরীবই হয়, তাই ভিসেরা রিপোর্ট করনে অলা ডাক্তার সাহেব কিন্তু আসামী পক্ষের দিকেই ঝুঁইকা থাকে…… ধ্যদ্দারা গেরাম গঞ্জে বইসা মাস শেষে ঢাকায় কিনা ফেলাট কিংবা পলটের কিস্তি দিতে হয়……।। আর সমাজ কর্মী, সুশীল সমাজের বুদ্ধি বেচা লোকজন ব্যাপক ব্যাস্ত থাকে, আইজকাইল টক শোতে প্যাচাল পারতে পারতে তাগ রাইত পোহাইয়া যায়। আর আমরা আম জনতার অবস্থা হইল গিয়া মাড়লে একটাও সইজ্য করুম না। কিন্তু হাত পাও বাইন্ধা মাড়লে যা দিবেন সবই সইজ্য হইব।

জাউকগা আসলে যেইডা কইতে চাইছিলাম, একটা কইরা খবর পত্রিকায় আসে আর কিছু লোক কা কা কইরা কাউয়ার মত চিল্লায়… ধর্ষণের রায় যেন ফাঁসি হয়, শাস্তি কঠোর হউক, আইন বদলানো হউক। আরে ভাই আইন বদলা বদলী খেলা তো চলতাছে ৩৭ বছর ধইরা…… কামের কাম মুগের ডাইল দিয়া জনগণের মাথার মুড়িঘণ্ট। দেশে যে আইন আছে তাই যথেষ্ট। সবাইর আগে দরকার প্রত্যেকটা ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ করেন, তাৎক্ষনিক ধর্ষিতার নিরাপত্তা, সঠিক চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিরীক্ষার ব্যাবস্থা করেন। পুলিশ বাহিনীতে যে সব নারী সদস্য থানা কমপ্লেক্সে বইসা মাছি মারে আর ফাইল টানে তাগরে নিয়া বিশেষ টিম বানাইয়া ২৪ ঘণ্টা সতর্ক থাকার ব্যাবস্থা করেন। ধর্ষক যেন জামিন না পায় সেই ব্যাবস্থা করেন।

কাগজে লেখা আইন যতই কঠিন হউক, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যদি পীরের মুরিদ হইয়া… সারাদিন একই জিকির করে, তাইলে যা ঘটার তাই ঘটব। আর সুশীল সমাজ প্রত্যেকদিন শতাধিক ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে দুই মিনিট নিরবতা পালন কইরা দিন শুরু করব।