ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক


এই ছবিটি দেখার পরেও কি এমন কেউ আছেন যিনি বলবেন মায়ানমারে স্বাভাবিক অবস্থা চলছে?


একজন পিতার গলিত লাশ দেখে বিশ্ব বিবেক কি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখবে?


একজন রোহিঙ্গা মুসলমান তার সদ্য বিধ্বস্ত বাড়ির সামনে হয়তো বিশ্ববিবেকের করুণা ভিক্ষা করছেন। হায় কি আকুতি এক মায়ের। মায়ের এই আকুতি কি আমাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করবে?


মানুষ যখন কট্টরভাবে ধর্মান্ধ হয়ে পড়ে তখন কি মানুষই জগতের সবচেয়ে বিভৎস প্রাণী নয়?


স্বদেশেই যখন অবাঞ্ছিত রোহিঙ্গা।

জানি উপরের ছবিগুলো রোহিঙ্গাদের অবস্থার প্রকৃত স্বরুপ প্রকাশ করে না। সংবাদপত্রের যেখানে স্বাধীনতা নেই, সামরিক জান্তা যেখানে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করে চলেছে মানবতাকে সেখানে ছবিতে প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া আসলেই অসম্ভব।

দেরীতে হলেও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এর প্রকাশিত মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের কিছু স্থিরচিত্র প্রকাশ করলো।

তবে একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম বিশ্ববিবেক সাড়া দিচ্ছে বড়ই ধীরগতিতে। বিশ্বমোড়ল আমেরিকার পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা মানবতার পক্ষে তার দাবীকৃত শক্তিশালী অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। মিয়ানমারের উপর কি অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা যেত না? সভ্য রাষ্ট্রগুলো একযোগে মায়ানমারকে মানবিক আচরণ করার জন্য বাধ্য করতে পারতো না?

আমরা সাম্প্রতিক অতীতে দেখেছি, শুধুমাত্র গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্বমোড়ল শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছিল। আমরা দেখেছি একদল সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দেয়ার জন্য একটী দেশের সাথে যুদ্ধ পর্যন্ত করা হল। দেখেছি একজন স্বৈরাচারকে ক্ষমতা থেকে হটানোর জন্য সভ্য নেতাদের কি দারূণ হম্বিতম্বি, অবশেষে যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ালো। লিবিয়াতে এলিট ফোর্স লেলিয়ে দেয়া হলো। অথচ যখন দেখছি রাষ্ট্র সন্ত্রাসীর ভূমিকা নিয়েছে তখন সভ্য নেতারা কি মিনমিনে গলায় কথা বলছেন। প্রতিবেশী বাংলাদেশের উপর দায়ভার চাপিয়ে সটকে যেতে চাইছেন।

আবার দেখছি নতুন একটি পায়তারা চলছে, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশী হিসেবে চালিয়ে দেয়ার একটা পায়তারা। একটা স্লোগান দেখলাম REMOVE BANGALI TERRORISTS FROM RAKHINE STATE RIGHT NOW

দেখলাম এই চক্রটি বেশ ভালোভাবেই সক্রিয়। তাদের যুক্তি রোহিঙ্গারা যেহেতু বেশীরভাগ মুসলমান সেহেতু মুসলমান প্রধান বাংলাদেশই তাদের মূল ভুমি হতে বাধ্য। কি অদ্ভুত যুক্তি! অবশ্য এই যুক্তির পালে হাওয়া লাগানোর মত বাঙ্গালীও যে খুজে পাওয়া যাবে না এ কথা হলফ করে বলতে পারি না।

একাডেমিক নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ দাবী ধোপে টিকে না। সম কৃষ্টি, কালচার, আচার, সভ্যতার স্বদেশীদের শুধুমাত্র ভিন্ন ধর্মের কারণে নিজভূম থেকে পরবাসী করার নজির বিশ্ব ইতিহাসে অন্য কোন জাতির আছে কিনা আমার জানা নেই। একসময় জানতাম বৌদ্ধরা পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তিপ্রিয় জাতি। বৌদ্ধপ্রধান মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর আগ্রাসী মনোভাব দেখে কিন্তু জানাটাকে উলটে নিতে হয়।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থাগুলো দেখছি বাংলাদেশের উপর দায় চাপাতে চাচ্ছে। আমি তো বলি এটি তাদের নির্লজ্জ ধৃষ্টতা। অর্ধশতাব্দীর ও বেশী সময় ধরে একটি আনসেটল্ড ইস্যুকে সেটল্ড করতে না পারা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পূর্বে পূনর্বাসনকৃত রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মায়ানমার সরকারের সাথে কোনরূপ সমঝোতায় আসতে না পারা তাদের জন্য এক বিরাট ব্যার্থতা। তাদের এই ব্যার্থতা ঢাকার দায় নিশ্চয় বাংলাদেশের নয়।

অতিরিক্ত জনসংখ্যা ভারে পিষ্ট এবং অতীত তিক্ত অভিজ্ঞতার ফলস্বরুপ বাংলাদেশ এই রোহিঙ্গাদের দায়ভার নেবে না। এবং নেয়া উচিত নয়। সত্যিকার অর্থেই যদি মানবতার ধব্জাধারীরা রোহিঙ্গা ইস্যুর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান করতে চায় তাহলে মায়ানমারের সাথে বসেই সমাধান করা উচিত কেননা এখানে বাংলাদেশ কোন পক্ষ নয়।
তবে হ্যা, রোহিঙ্গা পরিস্থিতির ক্রমেই অবনতি ঘটছে। মানবতা এবং এই মানবিকতার স্বার্থেই এই সমস্যা’র দ্রুত সুরাহা হওয়া প্রয়োজন।
(ছবিগুলো হিউম্যান রাইটস ওয়াচ থেকে সংগৃহীত)