ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আজ লিখতে বসছি। ভেবেছিলাম আপাতত আর লিখব না। বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যাপারে তো নয়ই। আবার আজকে কি বোর্ডের সামনে বসতে হলো। কিছু অযোগ্য, নির্লজ্জ, বেহায়া মানুষের নষ্টামি আমাকে আবার লিখতে বাধ্য করলো।

হ্যাঁ, তথাকথিত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার!!!! সুরঞ্জিত বাবু’র দিকেই আঙ্গুল উচিয়ে লিখছি। ছয় মাস আগে তার বিরুদ্ধে গোড়াপত্তন হওয়া দেশীয় ষড়যন্ত্র এখন আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে পরিণত হয়েছে !!! আমরা বিশ্বাস ও করলাম, কেননা গুপ্ত মহাশয়ের মনের গহীনে আন্তর্জাতিক ব্যাক্তিত্ব্যে পরিণত হওয়ার সুপ্ত বাসনা থাকতে পারেই। হোক না তা চোরা তথা বেহায়া সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় আন্তর্জাতিক পদ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দল এই আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব!!!! কে রাষ্ট্রীয়ভাবে সমর্থন দেবে কিনা?

অনেকে সুরঞ্জিত বাবুর দুর্নীতির প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে? সেক্ষেত্রে আমার কিছুই বলার নেই? শুধু সেই অনেকে’র চিন্তা ও মননের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারি। আর পরামর্শ দিতে পারি, চোখ, কান খোলা রাখুন আর সাধারণ অনুভূতি কে কাজে লাগান।

আমরা তরূণ প্রজন্ম যখন দুর্নীতি’র বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলছি এবং ক্রমেই চলমান দুর্নীতি’র প্রতি বীতশ্রদ্ধ সাধারণ মানুষের নিকট এই ধারণাকে জনপ্রিয় করে তুলছি সেখানে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের একজন আন্তর্জাতিক মানের চোরকে সমর্থন দান নিশ্চয়ই রাজনৈতিক হটকারিতা মূলক সিদ্ধান্ত হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপাতদৃষ্টিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি রাষ্ট্রযন্ত্র তার পক্ষ নিয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন একজন প্রধান সাক্ষী’র সাক্ষ্য গ্রহণ ছাড়াই তাকে নিষ্পাপ ঘোষণা দিয়েছে। অথচ সেই সাক্ষী যখন মিডিয়া’র সামনে মুখ খুললেন তখন দুদকের মান্যবর চেয়ারম্যান সেই সাক্ষীর দেয় তথ্যের কোন আইনগত ভিত্তি নেই বলে উল্লেখ করলেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক হয়ে আপনার কাছে জানতে চাই, দুদক নামক প্রতিষ্ঠানটি কার হুকুমে চলছে। জানতে চাই, গণপ্রজাতন্ত্রের একজন নাগরিকের সাক্ষ্য যাচাই বাচাই না করেই তাকে উডিয়ে দেয়ার ক্ষমতা শুধু দুদক চেয়ারম্যান কেন, স্বয়ং আপনারও আছে কিনা জানতে চাই। এই ক্ষেত্রে বিজ্ঞ কলামিষ্ট জনাব আলী রিয়াজের বক্তব্য প্রাসংগিক মনে করছি,

“মুখের কথায় যদি সব হতো তাহলে ড্রাইভার, চাপরাশির কথায় দেশের সব চলত।”- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান গোলাম রহমান।

দুদক প্রধানের জানা উচিৎ যে আসলে ‘ড্রাইভার, চাপরাশির’ কথায়ই দেশ চলে। কেননা তাঁরা যাকে ভোট দেন তাঁরাই দেশ চালান। একেই গণতন্ত্র বলে।

কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিকরা যে সমান অধিকার ভোগ করেন না এটাই হচ্ছে তার প্রমাণ। পেশার কারণে কোনো নাগরিক সম্পর্কে এই বিরূপ মন্তব্য কেবল বৈষম্য সূচক নয় বাংলাদেশের সংবিধান পরিপন্থী। আমার প্রশ্ন – সংবিধান পরিপন্থী বক্তব্য রাখবার পর সাংবিধানিকভাবে তৈরি একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান থাকার কোনো নৈতিক ভিত্তি কারো কি থাকে?

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমরা এখনো বিশ্বাস করছি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এখনো একজন দুর্নীতিবাজকে সমর্থন করছে না। দলের মধ্যে কিয়দাংশ হয়তো কলকাঠি নাড়ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনি বড় বড় বুলি আওড়েছেন দেখেছি। এইতো সেদিন জাতিসংঘে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য অঙ্গপ্রতিষ্ঠানে চলমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে বেশ আপোসহীন বক্তব্য দিয়েছেন। এখন সাধারণ জনতা দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপোষহীন নেত্রীর প্রকৃত ভূমিকা দেখতে চায়।

জনাব সেনগুপ্ত অনেকদিন যাবত বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ কে লিপ সার্ভিস দিয়েছেন। বেশ কড়া কড়া কথা বলে আমাদের মতো তরুণদের ও বেশ মোহিত ও করে রেখেছিলেন। পরবর্তীতে মন্ত্রীত্ব লাভ করেছিলেন। কালো বিড়াল তত্ত্বের অবতারণা ঘটিয়ে দারূণ জনপ্রিয় হয়েছিলেন। প্রিয় নেত্রী, এই বাচন প্রেমিকের কাছে আমরা সত্যিই খুব বেশী আশা করেছিলাম। যখন মানুষটার আসল রূপ দেখলাম সত্যিই নিজের উপর চরম বিরক্ত হয়েছিলাম। চোরটা আমাদেরকে এতোদিন ধরে ধোঁকা দিল। দেশের অন্যতম বিজ্ঞ রাজনীতিবিদের ভেক ধরেছিল!!!!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, তরুন প্রজন্মের একজন হয়ে বলছি, চোরের দলের সাথে বাংলার তরুণ সমাজ কোনরূপ কম্প্রোমাইজ করবে না। অবশ্য তথাকথিত সোনার ছেলেরা!!!! করলেও করতে পারে। আশা করতে পারি সেই সোনার ছেলেদের সংখ্যা এবং তাদের আচরণ সম্পর্কে আপনি বেশ ভালোভাবেই অবহিত আছেন। তাই আপনাকে সময় থাকতে সাবধান করে দিচ্ছি, আপনার দলের উপর নিয়ন্ত্রণ নিন এবং দলকে জনমতের অনুকূলে চালনা করূন। সেই সাথে দেশের জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা কারী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এবং তাকে সমর্থনকারী মহলের দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক শাস্তি দাবী করছি।