ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

সম্প্রতি এক বিশেষ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন অনুষদের নেয়া স্বতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষা পদ্মতি বাতিল করা হয়েছে। আইন অনুষদে এম সি কিউ পদ্মতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার পর নির্বাচিত নির্দিষ্ট ছাত্রছাত্রীদের নিকট হতে আবার লিখিত পরীক্ষা নেয়া হতো। এই লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী’র প্রকৃত মেধা, ন্যুনতম সৃষ্টিশীলতা যাচাই হতো। এখনো পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া বেশ কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় বিগত বছরগুলোতে ১৫ হতে ২০ জন নকল করে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বাদ পড়ে যায়। এবং শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের নিরপেক্ষ একাডেমিক দৃষ্টিভঙ্গি’র সুবাদে এখনো পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় নি।

স্যার, এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আমরা আইন অনুষদের শিক্ষার্থীরা অবহিত হওয়ার সাথে সাথে আমাদের বিভাগে জানতে চাই। বিভাগ থেকে জানানো হয়, “আইন অনুষদ তার অবস্থান থেকে এই লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে উপস্থিত মহলকে অবহিত করে এবং লিখিত পরীক্ষা চালু রাখার পক্ষে তার শক্তিশালী অবস্থান প্রকাশ করে। তদুপরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই পরীক্ষা নেয়ার প্রয়োজন বোধ না করায় তা বাতিল করে”

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা উক্ত সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নেই। যার প্রথম ধাপ ছিল মানববন্ধন করা এবং ভিসি মহোদয় বরাবরে স্মারকলিপি দেয়া । এই উদ্দেশ্যে আমরা নিজদের মাঝ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ডের খরচ উত্তোলন করি। পরবর্তীতে ৬ ই অক্টোবর, শনিবার আমরা রেজিস্টার ভবনের সামনে মানব বন্ধন করি।
অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং সুশৃঙ্খল ভাবে প্রকাশিত প্রতিবাদের এই ভাষা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্যদের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে বলে প্রতীয়মান হয়। রেজিস্টার ভবনের সামনে যখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছিলাম তখন হঠাৎ প্রক্টর মহোদয় আসলেন। আমাদের কাছে জানতে চাইলেন, আমরা তার কাছ থেকে মানববন্ধন করার অনুমতি চেয়েছি কিনা। আরো বললেন খারাপ কিছু ঘটলে তার দায় কে নেবে?

স্যার একদম হলফ করে বলছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন করার জন্য প্রক্টর স্যার এর অনুমতি দরকার হয় একথা আমরা কস্মিনকালেও শুনি নি। তার উপর বিশ্ববিদ্যালয়ের অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য সেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট থেকে অনুমতি নিতে হবে তার কোন ভিত্তি আছে বলে আমরা মনে করি নি। স্বভাবতই অবুঝ তরুণ মনে প্রশ্ন জাগে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট পক্ষ যখন কারণে অকারণে ট্রেন বন্ধ করে দেয়, তরী চলাচল বন্ধ করে দেয়, ট্রেন চালক কে মারধর করে, মিছিল করে তখন কি তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে অনুমতি নিয়েই করে?
যাই হোক প্রক্টর মহোদয়ের হস্তক্ষেপে আমরা আমাদের প্রতিবাদ স্থগিত করে চলে আসতে বাধ্য হই। পরবর্তীতে আমাদের কয়েকজন গিয়ে ভিসি মহোদয়কে স্মারকলিপি প্রদান করে।

স্যার, লিখিত পরীক্ষা চালু রাখলে কিংবা না রাখলে আমার, আপনার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অথবা আমাদের শিক্ষকদের সরাসরি কোন লাভ ক্ষতি না থাকতে পারে, কিন্তু বৃহত্তর অর্থে লাভবান হবে জনগণ। নিজের বিবেককে একবার প্রশ্ন করে দেখুন, জনগণের টাকায় যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত পরিচালিত হয় সেখানে আমরা কি জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেব নাকি ব্যাক্তিস্বার্থ বা দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেব?

স্যার,আইন অনুষদের এই লিখিত পরীক্ষা বন্ধ করার আগে আপনার মনে কি একটি স্বাভাবিক প্রশ্নের উদয় হয় নি, ভর্তি প্রক্রিয়ায় যে অসাধুপায় অবলম্বন করা হয় তা কি বন্ধ করতে পেরেছেন? অসাধুপায় বন্ধ করতে না পারার কারণে শত শত মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে যে বঞ্চিত করা হচ্ছে তা কি আপনি বুঝেন না? স্যার, সত্যি বলছি ব্যাপারটি আমাদের নিকট কোনমতেই বোধগম্য হচ্ছে না । আপনি নিজে আসাধুপায়ের পথগুলি রুদ্ধ করতে পারছেন না, আইন বিভাগ যখন নিজ উদ্যোগে এই আসাধুপায় কে প্রতিরোধ করার একটি উপায় বের করলো তখন উক্ত ফলপ্রসূ প্রক্রিয়া কে অনুসরণ না করে বরং উক্ত প্রক্রিয়া কে বন্ধ করার যৌক্তিকতা পাওয়া যায় না।

স্যার, যে দায়িত্ব পালন করার কথা প্রশাসনের, প্রশাসনকে সেই দায়িত্ব পালনে বাধ্য করার জন্য আমরা ছাত্ররা প্রতিবাদ করছি। শুধুমাত্র প্রশাসনের কর্তা হয়ে নয় বরং একজন শিক্ষক হিসেবে এর চেয়ে লজ্জা জনক আর কিছু হতে পারে বলে আমি মনে করি না।