ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

আমার সোনার শিক্ষাঙ্গনে যারা সন্ত্রাসের বীজ বুনে দিল, ধিক তাদের, ২৫হাজার শিক্ষার্থী’র শিক্ষাজীবন যে বাধা গ্রস্থ হচ্ছে তার দায় নেবে কে? বাইরে থেকে খুব লাফালাফি করা যায়, আমরা হচ্ছি ভুক্তভুগী, আমরা জানি কে কোন ভূমিকা পালন করছে, কে কিভাবে সন্ত্রাসের বীজ বুনেছে। বাইরে থেকে লাফালাফি হম্বিতম্বি করে কোন কিছু হবে না। আমরা জানি, রাকিব সাকিব গ্রুপ কি জিনিশ,আমরা জানি পীযুশ কে, আমরা সাঈদ এর কথা জানি, আমরা ব্ল্যাক জুয়েল এর কথা জানি, আমরা মামুন গ্রূপের মামুন এর কথা জানি, নাসির গ্রূপ এর কথা জানি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কারো কাছে আপনি এদের কথা জিজ্ঞেস করবেন, আপনারে চুম্মা দিয়া বুকে টেনে নিয়ে ২০০ হাত দূরে চলে যাবে।
আমি অবাক হয়ে যাই এই হম্বিতম্বি কোথায় ছিল, যখন আবুবকর মালা গেল,তার আগে আরো একজন ছাত্র নিহত হলো ,তাদের দোষ তাদের কোন রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নেই, কি অদ্ভুত কথাবার্তা।
ছাত্রলীগের পীযুশ রা যখন সাকিব রে পিটিয়ে বের করে দেয় তখন কি কোন সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হয় না? যখন নিজেদের মধ্যে মারামারি করে ট্রেন বন্ধ করে দেয়, ভাংচুর করে তা সন্ত্রাসী কাজের আওতায় পডে না?যখন তারা মেয়েদের কে উত্ত্যক্ত করে তখন সন্ত্রাস হয় না?

আমার অনুষদের সামনে ক্লাস করে বের হয়ে দেখি ক্রিকেট খেলা কে কেন্দ্র করে মারা মারি হচ্ছে। আমরা দেখেছি, লীগের সোনার ছেলেরা এক ছেলেকে পিটাচ্ছে। একটু পরে শিবিরের পোলাপাইন আসল দেখি সবাই পাগার পার। পরে মিডিয়াতে খবর দেখলাম, শিবির ছাত্রলীগ সংঘর্ষে দুই ছাত্র আহত। কি আজব মিডিয়া, কি আজব দেশ!!!

শিবির কি জিনিশ তাও আমরা জানি। আমরা যখন ১ম বর্ষে ভর্তি হই তখন দেখি আমাদের অনেক সহপাঠী হ্ল এ সিট পেয়েছে। আমরা তো সবাই অবাক, ঘটনা কি? পরে আসল মজেজা বের হল, তারা নাকি শিবিরের সাথী।আবার তাদের অনেক কর্মী কে ও দেখেছিলাম হলে সিট পেতে তারা নাকি পরে শিবিরের সাথী হয়েছে শুনেছিলাম।

লীগের যে কোন্দল হয় চবি তে তার ও মুল হোতা বলে শিবিরকে অনেক সময় দোষ দেয়া হয়। এছাডা বিশ্ববিদ্যালয় কে কেন্দ্র করে শিবিরের কটেজ ব্যাবসা’র কথা নাই বা বললাম।
এবার একটূ দৃস্টি ফেরানো যাক, ছাত্রদের স্বার্থ সংশ্লিস্ট বিষয়ে চবি’র রাজনৈতিক দলগুলো’র ভুমিকা’র দিকে। আপনারা নিশ্চয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অযৌক্তিক ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে চবি’র সাধারণ ছাত্রদের অন্দোলনের কথা জানেন এবং দেখেছেন।

সর্বশেষ এই ছাত্র আন্দোলনে শিবির ছিল নীরব দর্শক মাত্র। এবং ছাত্রলীগ ও নামমাত্র ভুমিকা পালন করেছে।বাম ধারা’র দলগুলো এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়। সাধারণ ছাত্র দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহনে চবি প্রশাসন বিচলিত হয়ে ছাত্রলীগ কে টেকনিক্যালি লেলিয়ে দেয়। এরপর আমরা ছাত্রলীগ নেতাদের খেল দেখা শুরু করি, শিক্ষকদের বাস জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাংচুর করা হয়,যে আন্দোলন ছিল অহিংস আলাদিনের চেরাগের স্পর্শে ঐ আন্দোলন সহিংস আন্দোলনে রুপ লাভ করে। পরবর্তীতে লীগের নেতাদের ছাডাই আন্দোলন চলতে থাকে। সাধারণ শিক্ষার্থি দের দাবী ছিল, প্রশাসন অযৌক্তিক ফি সম্পুর্ণ বাতিল না করা পর্যন্ত কোন মীটিং হবে না।এবং এই দাবী মেনে নিয়েই বাম নেতারা তাদের আন্দোলন চালাতে থাকেন।আবস্থা বেগতিক দেখে প্রশাসন ফি অর্ধেক কমিয়ে দেয় এবং আলোচনার জন্য আহবান জানায়। বাম নেতারা কোন উদ্ধেশ্যে সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের সাথে আলোচনা না করে এই আলোচনায় অংশ নিয়ে সব দাবী তুলে নেয় তা অবশ্য এখন পর্যন্ত জানা নেই। যদিও অনেকে এতে অর্থের মজেজা দেখেন।

ফি বৃদ্ধি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন নেতৃত্ব দানকারীর ফিডব্যাক যা ছাত্রলীগের আসল চেহারা তুলে ধরে, “ফী বিরোধী আন্দোলন নিয়ে আপনার বক্তব্য পড়ে বুঝলাম আপনি ও তাদের মধ্যে একজন যারা দুই একদিন আন্দোলনে “প্রেজেন্ট” দিয়েই সকল দায়ীত্ব সম্পন্ন করেছেন । আপনার দায়ীত্ব কি ছিলো তা আপনাকে বলতে চাচ্ছি না । আন্দোলনের যেদিন প্রশাসনের সাথে বিকেলে বৈঠক হয় সেদিন বৈঠকের সময় আপনার মত অনেকেই আর অপেক্ষা করেনি সোনার হরিন শাটল ট্রেন চলে যাবে বলে । কিন্তু ছাত্রলীগ এক্ষেত্রে ঈমানদারই বটে , সম্ভাব্য লাভের আশায় তারা সবাই ছিলো , আর বিস্তারিত ঘটনা এখানে বলা সম্ভব নয় , প্রশাসনের সাথে কারা বৈঠকে বসেছিলো তাদের নামের তালিকা এবং তাদের স্বাক্ষর আন্দোলনের কিঞ্চিত দাবি মেনে প্রশাসন এর স্বাক্ষরিত কাগজে আছে , সেখানে বাম দলের কোন প্রতিনিধীর নাম খুঁজে পাবেন না , এই কাগজ আপনি চবির সাংবাদিকদের কাছে পাবেন , এবং বাম দলগুলো তার পরদিন আবারো সংগঠিতভাবে মিছিল করে যেখানে ছাত্রলীগ হামলা চালায় , তারপর আর কেন আন্দোলন চললো না সেটা নিজেকে প্রশ্ন করুন , কারন আপনার মত সাধারন শিক্ষার্থীদের মতামতেই আন্দোলন বন্ধ হয় । যদি জানতে চান বাম দলগুলো পারলো না কেন? তাহলে আবার নিজেকে প্রশ্ন করুন , আপনারাই যেকোন আন্দোলন কমিটি গঠনের সময় রাজনীতি নামক জুজুর ভয়ে তবারকদের মত ব্যাক্তিদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়ে বামদলের নেতা কর্মীদের কমিটির বাইরে রেখে আন্দোলনকে অরাজনৈতিক রেখেছেন মনে করে বোকার স্বর্গে বসবাস করেন । আর বামদলগুলোর এটাই দোষ যে যেভাবে সকল শিক্ষার্থী একমত ও একজোট থাকে সে প্রক্রিয়াকেই তারা গ্রহন করে আর সবশেষে সুশীল ছাত্রসমাজের কথার কামানের শিকার হয় ।”

সাধারণ ছাত্রদের দাবী আদায়ে যে সংঘটন গূলো উদ্যোগী নয় সে সংঘটন গুলো কে আমি ছাত্র সংঘটন বলতে প্রস্তুত নই।
অথচ কি তুচ্ছ কারণে এই সংঘটন গুলো একে অপরের সাথে সহিংস সংঘর্ষে জডিয়ে যাচ্ছে।আমানবিক ভাবে একে অন্যকে খুন করছে, সহপাঠী’র উপর সহপাঠি চাকু তুলছে। কি নির্লজ্জ, কি অমানবিক। আবার কিছু মানুষ দেখলাম এই সংঘর্ষকে উস্কে দিচ্ছে।ধিক তাদের বিবেক কে ধিক তাদের মানব জন্ম কে।

এখন একদল মানুষ দেখলাম অতীতের পসরা সজিয়ে বসে আছে, ভবিষ্যতে আবার আরেকদল দেখব যারা তাদের ভাইদের খুনের বদলা নিতে অতীতের পসরা সাজিয়ে বসে থাকবে।
নোমানী হত্যা’র মাশুল দিয়েছিল ফারূখ,মুজাহিদ হত্যা’র মাসুল কে দেবে আমি জানি না? আমি শুধু জানি, আমার মায়ের বুক খালি হচ্ছে ।আমি শুধু জানি অপরাজনীতি’র শিকার হয়ে আমার সহপাঠী, আমার বডভাই, আমার ছোট ভাই রা সব এক একজন পশু হয়ে আত্মপ্রকাশ করছে।আমরা রাজনীতি’র এই ধারা থেকে পরিত্রান চাই, বিধাতা আমাদের উপর রহম কর, আমাদেরকে ক্ষমা করো,আমাদেরকে পরিশুদ্ধ করো।