ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

“মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী’র বিরুদ্ধে চলমান কিছু অপপ্রচারের প্রতিবাদ।” শীর্ষক লেখাটা লেখার পর আমি বিভিন্ন ব্লগে কিছু প্রশ্নের সম্মুখীন হই তার জবাবে আমার আজকের এই আলোচনা।

১) প্রথম প্রশ্নটি ছিল এরুপ, ” আপনি যেই লিংকটি দিয়েছেন – http://en.wikipedia.org/wiki/Pakistani_general_election,_1970#Parties_and_candidates এখানে ভাসানী কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি, সে সম্পর্কে একেবারে কিছুই বলা নেই। আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন ভাসানী, ষাটের দশকে তিনি নিঃসন্দেহে জনপ্রিয় ছিলেন কিন্তু হঠাৎ কোথাকার কোন তরুণ মুজিব এসে সিনিয়র ভাসানীকে ছাপিয়ে আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি হয়ে উঠলেন – জনগণের কাছে ভাসানীর চেয়েও অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠলেন – এটি ভাসানী সহ্য করতে পারেননি। ১৯৭০ সালে ভাসানী বলেন ” আমার লাশের ওপর দিয়ে মুজিব ক্ষমতায় আসবে”।

সুতরাং আওয়ামী লীগকে সাহায্য করা কিংবা আত্মত্যাগ কিংবা জাতীয় ঐক্যের জন্য নয় বরং ১২ নভেম্বর (১৯৭০) পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্ণিঝড় হলে পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর ন্যূনতম সাহায্য সহযোগিতা না করার প্রতিবাদে এবং দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ব্যবস্থায় অংশ নেয়ার জন্য ন্যাপ প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান। সূত্রঃ আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, বাংলা উইকিপিডিয়া। পাকিস্তানী সেনা কর্মকর্তা সিদ্দিক সালিকের উইটনেস টু সারেন্ডারে রয়েছে – ১৯৭০ সালে ঢাকার বঙ্গভবনে ভাসানী ন্যাপকে আওয়ামী লীগের পাল্টাশক্তি হিসেবে উন্নীত করতে চায়। এই উন্নীতকরণের জন্য ভাসানী “ভোটের আগে ভাত” নামক কর্মসূচীর আহবান জানান। (সূত্রঃ উক্ত গ্রন্থ এবং কারা মুজিবের হত্যাকারী এ এল খতিব) অর্থাৎ, তিনি মুজিবের পক্ষেও ছিলেন না, নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষপাতিও ছিলেন না।”

সবিনয়ে বলতে চাই, আমি নির্বাচনে ভাসানী’র অনুপস্থিতি’র প্রমাণ হিসেবে লিঙ্ক টা দিয়েছি।অন্য কোন কিছু প্রমাণ করার জন্য নয়।ভাসানী যদি ৭০’র নির্বাচন বর্জনও করে থাকেন তবে সাধারণ দৃষ্টিতে তা সাধারণ মানুষের পাশে দাডানো’র জন্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন নি। “১২ নভেম্বর (১৯৭০) পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্কারী ঘুর্ণিঝড় হলে দুর্গত এলাকায় ত্রান ব্যবস্থায় অংশ নেয়ার জন্য ন্যাপ প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান।”

সুত্রঃ আবদুল হামিদ খান ভাসানী, বাংলা উইকিপিডিয়া।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর হয়তো অন্য কোন মহাত্ম্য থাকতে পারে। ভাসানী গবেষক দের কাছ থেকেই এই ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই লিঙ্ক এ আরো একটি কথা সুস্পষ্ট ভাবে বলা আছে, “১৯৫৭ সালে কাগমারী সম্মেলনে ভাসানী পাক-মার্কিন সামরিক চুক্তি বাতিলের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী সোহ্‌রাওয়ার্দী সেই দাবি প্রত্যাখান করলে ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।” মুজিবের সাথে ইর্ষান্বিত হয়ে নয়।

তরুণ মুজিবের সাথে মওলানা ভাসানী’র কোন দন্দ্ব ছিলো না বরং ভাসানী মুজিবের রাজনৈতিক উত্থানে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখেন। তিনি ১৯৫৩ সালে ভাসানী কারাগার থেকে বেরিয়ে মুজিবকে যুগ্ম সম্পাদক থেকে আওয়ামীলীগের অস্থায়ী সম্পাদকের দায়িত্ব অর্পণ করেন। ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ পাচ বছর ভাসানী ও মুজিব একত্রে আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। (পরবর্তীকালে ভাসানী নিজেই স্বীকার করে নিয়েছেন যে, সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি মুজিবের মত দক্ষ সাধারণ সম্পাদক আর পান নি।) এমনকি ২২ শে ফেব্রুয়ারী রেসকোর্স ময়দানে জনসভা করে আসার পর মুজিব মরহুম সাইদুল হকের বাসায় মওলানা ভাসানী’র সাথে সাক্ষাত করেন এবং তার করণীয় সম্পর্কে তার এককালীন রাজনৈতিক গুরু থেকে জানতে চান।”

সুত্রঃ আমি বিজয় দেখেছি, এম আখতার মুকুল, (১১৫-১২৪পৃষ্ঠা।), উপমহাদেশের সামাজিক রাজনৈতিক ইতিবৃত্ত।, সিরাজুল হোসেন খান।

২) প্রশ্ন ছিল, “যদি উনি গৃহবন্দী-নজরবন্দী থাকেন, তবে উনি বিশ্বের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের কাছে ধর্না কবে কোথায় এবং কিভাবে দিলেন – প্রশ্ন থেকে যায়। আসলে ধর্না নয় বরং কিছু বিবৃতি পাঠিয়েছিলেন বলে ভাসানী সমর্থকেরা দাবী করে থাকেন । কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী যেখানে সশরীরে ভ্রমণ করে রাশিয়া ব্যতীত অনেক দেশেই বিশ্বনেতাদের মিথ্যে আশ্বাস ছাড়া কিছুই অর্জন করতে পারেননি, সেখানে নিছক কাগজের লিখিত বিবৃতি মুক্তিযুদ্ধে কতটুকু অবদান রেখেছে তা সুস্পষ্ট অনুমেয় । আর অসুস্থতার বিষয়ে এটি বলতে চাই যে, স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে ছাত্রও কিন্তু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আবেদনপত্র জমা দেয়।”

এই প্রশ্নটি’র উত্তর অবশ্য আপনি নিজেই দিয়েছেন। গৃহবন্দী ভাসানী আসলেই তখন স্বাধীন চলাফেরা করার অধিকার হারিয়েছিলেন। তাই তিনি কোন কনফারেন্স, মিটিং করে স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গডার কাজ করতে পারেন নি। তবে হা, তিনি মুজিবনগর সরকারের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারতেন। কেননা তিনি ছিলেন মুজিবনগর সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি’র চেয়ারম্যান। এবং এই কারণেই মুজিবনগর সরকারের সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সাথে তার যোগাযোগ ছিল। “বিদেশী কারসাজি নানা মহলের চক্রান্তে মুজিবনগর আওয়ামীলীগ যখন বেশ ক’টা উপদলে বিভক্ত, তখন দেশের বৃহত্তর স্বার্থ এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে মাওলানা ভাসানী ছাডাও সামাদ সাহেবের (ভাসানী’র রাজনৈতিক শিষ্য যিনি পরে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছিলেন) প্রচেষ্টায় বাহ্যত ঐক্য রাখা সম্ভব হয়েছিল। ঐক্যের অজুহাতে ন্যপ(মুজাফফর),কম্যূনিষ্ট পার্টি ও জাতীয় কংগ্রেস মন্রীসভার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছিল তখন ভাসানী তাদেরকে ধমক দিয়ে নিরশ্ত্র করেন।”

(সুত্রঃ আমি বিজয় দেখেছি, এম আখতার মুকুল।)

তবে তিনি যাতে ভারতের মাও সমর্থকদের সাথে একত্রে বৈঠক করতে না পারেন তা নিশ্চিত করা হয়েছিল।তার মানে কি এই নয় যে, তিনি নজরদারীর মধ্যে ছিলেন। আরো একটা প্রশ্ন রইলো বিজ্ঞ প্রশ্নকর্তার কাছে, ইন্দিরা ‘র সাথে চীন সম্পর্ক এবং ভাসানী’র মত মাও সমর্থকের চীন সম্পর্ক নিশ্চয় এক নয়।

৩)প্রশ্ন ছিল, “১৯৫৭ সালে শেখ মুজিব পার্টিপ্রধান ছিলেন না, ভাসানীই ছিলেন পার্টিপ্রধান। সুতরাং পার্টিপ্রধান হিসেবে ভাসানীকে তো “স্বাধীন বাংলা জিন্দাবাদ, আযাদ বাংলা জিন্দাবাদ” বলতেই হবে। মুজিব যখন পার্টিপ্রধান হয়েছেন অর্থাৎ ১৯৫৮-১৯৭০ পর্যন্ত ভাসানীর চেয়ে অনেক সুচারুভাবে তাঁর দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলেই আমার বিশ্বাস। ভাসানী ১৪ দফা দাবী তুলেছিলেন, কিন্তু মুজিবের ৬ দফার সামনে সেই ১৪ দফা কিন্তু দাঁড়াতে পারেনি । কেননা, ৬ দফা যেরকম সুস্পষ্ট এবং সুনির্দিষ্ট দাবী সংবলিত ছিলো, ১৪ দফা সেরূপ ছিলো না।”

মওলানা ভাসানি কেবল আওয়ামী পার্টি প্রধান ছিলেন না তিনি আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৪৮ সালে তার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ গঠিত হয়। তিনি ছিলেন আওয়ামীলীগের সর্বপ্রথম সভাপতি।টাংগাইলের যুব নেতা শামসুল হক পার্টির সাধারণ সম্পাদক, খন্দকার মোশ্তাক আহমদ ও মুজিব পার্টি’র যুগ্ম সম্পাদক নিযুক্ত হন।( সুত্রঃ উপমহাদেশের সামাজিক রাজনৈতিক ইতিবৃত্ত।,সিরাজুল হোসেন খান।)
আমি স্পষ্ট ভাবে বলতে চাই, মজলুম মানুষদের চাওয়া পাওয়া, এবং নিগৃহীত হওয়ার বিরুদ্ধে বাংলা’র নেতৃবৃন্দের মধ্যে সর্বপ্রথম প্রতিবাদ করেছিলেন ভাসানী। কার কোন দফা ছিল কার কত দফা ছিল তা আমার উদ্দেশ্য নয় এমনকি কে রাজনৈতিকভাবে কতটা সফল তা জানানোটাও আমার উদ্দেশ্য নয়।আমি শুধু ভাসানী’র একটি অবদানের কথা মনে করিয়ে দিতে চেয়েছিলাম। আর ভাসানী’র আন্দোলনের প্রকৃতি এবং মুজিবের অন্দোলনের প্রকৃতি নিশ্চয় এক ছিল না?

৪) প্রশ্ন ছিল, “পীর হাবিবুর রহমান বলেন – “মওলানা ভাসানী দেশ জুড়িয়া অন্ধ ভারত বিদ্বেষ ও উগ্র সাম্প্রদায়িক প্রচারণা চালাইতেছেন”।

সূত্রঃ দৈনিক সংবাদ ১৭-১০-১৯৭২ পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন – “he is playing at the hands of Chinese and American Imperialists” সূত্রঃ Morning News 8-10-1972 অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ বলেন, “ভারত সরকারের ভুলভ্রান্তি সমালোচনা করার অধিকার সকলেরই আছে। কিন্তু শেখ সাহেবের নাম বলতে পা কাঁপে একদল লোক প্রতিটি ব্যাপারে ভারতকে দোষ দিচ্ছে” সূত্রঃ দৈনিক সংবাদ ২৫-০৬-১৯৭৩ ডঃ এবনে গোলাম সামাদ বলেন -“ভাসানী আজ ধর্মের জিগির তুলে সংবিধান রচনায় বিঘ্ন সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।…দেশে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা বাঁধিয়ে উগ্র ভারত বিদ্বেষ সৃষ্টি করে কি ভাসানী সাহেব নিরন্ন মানুষের মুখে অন্ন যোগাতে পারবেন ?” সূত্রঃ দৈনিক পূর্বদেশ ২০-১০-১৯৭২ ।
ডঃ মোহাম্মদ সেলিম বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক গ্রন্থে ১২৬-১৩৬ পৃষ্ঠায় তথ্যসূত্রসহ মওলানা ভাসানীর এরূপ কর্মকাণ্ডের বিস্তর বিবরণ রয়েছে।”

আপনি যে সুত্র গুলো’র কথা বলছেন তা কেবল অভিযোগ মাত্র। এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি যেভাবে মুজিবের স্বৈরতন্ত্রের বিরোধীতা করেছিলেন তাতে মুজিবের সমর্থক বুদ্ধিজীবী শ্রেণী ভাসানী’র বিপক্ষে কথা বলবেন তাতে সন্দেহ নাই।তবে, আধ্যপক মোজাফফর আহমেদ এর এরুপ উক্তি’র মর্মার্থ ঠিক বুঝলাম না।ভাসানীকে তিনি কোন মাপের নেতা মনে করেছিলেন,তিনি কি ভাসানী’র এই উক্তি গুলো কখনো দেখেছেন?

অবশ্য এই লেখা’র পরেই ভাসানীকে মুজিব কারাভ্যান্তরে নিক্ষেপ করেন।

৬.প্রশ্ন ছিল, “ভাসানীর মক্তব থেকে শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন, সুতরাং তিনি পণ্ডিতব্যক্তি/ উচ্চশিক্ষিত ছিলেন – এমনটি আমার মনে হয়না।”

ভাসানী মক্তব, মাদ্রাসা হতে শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন সত্য কিন্তু তিনি তথাকথিত ধ্যান ধারণায় বড হন নি।(মক্তব মাদ্রাসা’র শিক্ষা’র সাথে পান্ডিত্ব্যের সম্পর্কটা বুঝলাম না)? তথাপি বিশ্বের বড বড সাংবাদিক যেখানে মাওলানা ভাসানী কে দূরদর্শী নেতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সেখানে তার পান্ডিত্ব্য নিয়ে প্রস্ন তোলা’র অবকাশ নেই।
সুত্রঃ peter custers.
Secular Democracy, Socialism and Bhashani
(Published in Frontier, Sept. 28 – Oct. 25, 2008) ,
Maulana Bhashani. Reknowned Politico-Religious Leader in the History of Bangladesh’
(January 2002, article published in the Newsletter of NETZ-Bangladesh)

তথাপি তার নেতৃত্বগুণ নিয়ে সন্দেহ থাকলে তিনি ৫০ বছরের অধিক সময় দাপটের সাথে রাজনীতিতে টিকে থাকতে পারতেন না।

৭.প্রশ্ন ছিল, “তিনি ভারতের সঙ্গে কনফেডারেশন চেয়েছিলেন যার প্রমাণ এই চারটি গ্রন্থে পাওয়া যায় – সৈয়দ আবুল মকসুদ : মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী (পৃষ্ঠা ৪৬১-৪৬২), সাইফুল ইসলাম : স্বাধীনতা-ভাসানী-ভারত, সিরাজউদ্দীন আহমেদ : মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সিরাজউদ্দীন আহমেদঃ প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ।”

ভাসানী যদি ভারতের সাথে কনফেডারেশন করার কথা বলে থাকেন ও তবে তার পেছনে হয়তোবা কোন কূট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।(আলোচনা সাপেক্ষ বিষয়) যদিও সৈয়দ আবুল মকসুদের বই টা আমি এখনো পডি নি। “তবে ভাসানী’র মতাদর্শের সাথে বিষয়টি যায় না তাই এর সত্যতা সম্পর্ক্ব সন্দেহ পোষণ করছি।কেননা এই ভাসানীই আজীবন ভারত বিরোধী আন্দোলন করেছেন।স্বাধীনতার সময় হঠাৎ এমন কিছু হয় নি যে তিনি ভারতের সাথে কনফেডারেশন গঠনের কথা বলবেন। বরং এটি ভারতীয় সরকারের একটি রাজনৈতিক চাল হতে পারে”

বারবার মুজিবের হত্যাকারীদের কে ভাসানী’র রাজনৈতিক সমর্থন দানের কথাও উঠে এসেছে বেশ কিছু জায়গায়। যেখানে হুমায়ুন আজাদের’র মত বিতর্কিত মানুষের বিতর্কিত কিছু উক্তি তুলে ধরা হয়েছে।
অথচ মুজিবের সাথে ভাসানী’র স্নেহতুল্য সম্পর্ক ছিল। এমনকি মুজিব প্রত্যেক নির্বাচনে তার কাছে দোয়া নেয়ার জন্য যেতেন। যদিও হক কথায় প্রকাশিত একটি সম্পাকীয়’র জের ধরে মুজিব তাকে কারাভ্যান্তরে পাঠান। শেখ মুজিব, যাকে তিনি সন্তানের চোখে দেখতেন, যার রাজনৈতিক উথানে ভাসানী প্রতিনিয়ত অবদান রেখেছেন। স্বাধীনতা পুর্ববর্তী প্রত্যেকটি বড আন্দোলনে যাকে সমর্থন দিয়েছেন। এমনকি ৭০’র নির্বাচনে যাকে নিরংকুশ সমর্থন দিয়েছেন,যতোই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হোন তার হত্যাকান্ডে ভাসানী কেন পৃথিবী’র কোন গুরু খুশী হবেন, এ অত্যূক্তি ছাডা আর কিছু নয়। তিনি ৭৬ এ জিয়াউর রহমানের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর কে সমর্থন দিয়েছিলেন, খন্দকার মোস্তাক কে নয়। এবং এই সমর্থনের পেছনে যৌক্তিক কারণ ছিল, “In 1976, Maulana Bhashani explicitly supported the change of regime when General Ziaur Rahman was given the helmsmanship of the country. He made it clear that his support was for the restoration of a multi-party democracy and should not be construed as a support for the inhuman killing of Sheikh Mujibur Rahman and his family members and the barbaric act of the conspirators. His support was to bring stability to the country’s politics and to consolidate democracy”

সুত্রঃBhashani http://en.wikipedia.org/wiki/Maulana_Abdul_Hamid_Khan_Bhashani