ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

আসিফ নজরুলঃ চলমান এক প্রতিবাদী অধ্যায়।

যখন থেকে রাজনীতি সচেতন হলাম, যখন থেকে বাংলার রাজনৈতক ইতিহাস নিয়ে পডছি, রাজনীতিকে পর্যবেক্ষণ করছি তখন থেকেই আমার মনে একটি প্রশ্ন জাগতে শুরু করল আমাদের এত মহান সব রাজনীতিবিদ, রাজনৈতিক আদর্শ থাকতে আমরা শুধু দুইজন মানুষের রাজনৈতিক আদর্শ এবং চেতনা নিয়ে পডে আছি। তাদের পাদলেহন করছি এবং অতি অবিশ্বাস্যভাবে আরো লক্ষ্য করলাম আমাদের বুদ্ধিজীবী শ্রেণী’র অধিকাংশ একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্নে কথা বলেই যাচ্ছে।
চরম হতাশা’র সেই দিনগুলো’র একদিন হঠাৎ প্রথম আলোতে প্রকাশিত ডঃ আসিফ নজরুলের একটি লেখা পডলাম, টক শো’তে তার কথা শুনলাম। আর মনের মধ্যে নতুন আলোডন সৃষ্টি হলো। মনে হলো এই তো বুদ্ধিজীবী’র প্রকৃত স্বরুপ এইত প্রকৃত মানুষ।
এই মানুষটি সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছুই নেই, তিনি একজন নিরপেক্ষ, স্বাধীন বিবেক। যেখানে তার সমসাময়িক অন্যরা নির্দিষ্ট ঘরানার পাদলেহন করেই যাচ্ছে সেখানে এই মহান মানুষটি তার সবটুকু বিলিয়ে দিয়ে মানুষকে সচেতন করতে চান, দেশের প্রকৃত আবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিতে চান। তাইতো তিনি প্রথাগত কোন বুদ্ধিজীবী না হয়েও কোন নির্দিষ্ট ঘরানার না হয়েও সচেতন জনসাধারনের নিকট একবাক্যে জনপ্রিয়।

কলম সৈনিক আসিফ নজরুলের লেখনী’র সাথে সচেতন মানুষ মাত্রই পরিচিত তারপরো তার লেখনী’র কিছু নিদর্শন দেয়া প্রয়োজন দেয়া দরকার মনে করছি,
সংবিধান বিশেষজ্ঞ হিসেবে খ্যাত আসিফ নিজরুল সংবিধান নিয়ে যেমন লেখেছেন ঠিক তেমনি লেখালেখি করেছেন,টিপাইমুখ ইস্যুতে, লেখালেখি করেছেন যুদ্ধপরাধ ইস্যুতে, লেখালেখি করেছেন জাতীয় ইস্যুতে, লিখেছেন রাজনৈতিক সংকট নিয়ে, লিখেছেন সামরিক সংকট উদ্ভুত সময়েও।

ড আসিফ নজরুলর বিডিয়ার বিদ্রোহে’র মত সংকটময় মুহুর্তে লিখেছেন, বিডিআর বিদ্রোহঃ কিছু জ্বলন্ত প্রশ্ন
সুত্রঃ প্রথম আলো ২৭.২.০৯

সরকারকে সবিধান সংশোধনের সময়ে গুরুত্বপুর্ন পরামর্শ দিয়েছেন, সংবিধান সংশোধন কিছু প্রশ্ন কিছু ভিন্নমত
সুত্রঃ http:
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-08-08/news/84822
http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=6230

টিপাইমুখ ইস্যু নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ন লেখালেখি করেছেন,
সুত্রঃ
http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=1925

http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=6731
http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=7398

বেশ কিছু গুরুত্বপুর্ন পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন, এবং এই ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে দাবি দাওয়া উথাপন করেছেন। উল্লেখ্য তার সাথে এরুপ একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারেই আমার পরিচয় হয়।

সোচ্চার হয়েছেন সীমান্ত হত্যা নিয়ে,
http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=8043

জাতীয় গুরুত্বপুর্ন ইস্যু নিয়ে তার দেশপ্রেমিক কন্ঠ গর্জে উঠেছে,
http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=6510

লিখেছেন যুদ্ধাপরাধ ইস্যু নিয়েও,
http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=7599

রাজনৈতিক ঐক্যের ডাক দিয়েছেন, জনমানুষের রাজনীতি করার আহবান জানিয়েছেন, এই উদ্ধত প্রতিবাদী, ন্যায়ের সাহসী কলম সৈনিক
http://www.sonarbangladesh.com/article.php?ID=6510

তিস্তা চুক্তিতে তার অবস্থান,

গ্রামীন ব্যাংক প্রশ্নে তার অবস্থান

বঙ্গবন্ধু এবং জিয়া প্রসংগে তার অবস্থান
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2010-03-27/news/51845

এইসব হচ্ছে তার তীক্ষ সুলেখনী’র অল্প কিছু নিদর্শন মাত্র। জনাব নজরুল তার এত কর্মব্যাস্ততার মাঝেও ১১ টি গ্রন্থ লেখেন।
তার সত্যভাষণের জন্য তিনি সচেতন জনগনের নিকট যেমন জনপ্রিয় ঠিক তেমনি নির্দিষ্ট ঘরানার মানুষের নিকট ঠিক এই কারণেই অজনপ্রিয়।

বেশ কিছুদিন ধরেই দেখছি, আসিফ নজরুল কে তথাকথিত নির্দিষ্ট ঘরানার দালাল রা বিভিন্নভাবে হেয় করছে, ছাত্র নামধারী গুন্ডারা তার অফিসে হামলা চালিয়ে তার অফিস পুডিয়ে দিয়েছে। তারা তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিষিদ্ধ করার প্রচারণা চালিয়েছে, তাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা চালিয়েছে। আমরা দেখেছি বিভিন্ন ব্লগে তাকে হেয় করার চেষ্টা চালিয়েছে,যুদ্ধপরাধ ইস্যুতে তার ভুমিকাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু জনাব নজরুল তার তীক্ষধী লেখনী’র মাধ্যমে বাংলার সচতন অংশকে সচেতন করে দিয়েছেন। সত্যের যে সংগ্রাম তিনি শুরু করেছিলেন তার সে সংগ্রামে তিনি এখন একা নন। তাই ঐসব লেখকরা স্বাভাবিকভাবেই চরমভাবে প্রতিবাদের স্বীকার হয়েছেন।

তাদের প্রপাগান্ডা ছিল, “জনাব নজরুল বলেছেন সাইদী যুদ্ধপরাধী নন”
তারা এর স্বপক্ষে একটি ভিডিও উপস্থাপন করেছিল,

পাঠকরা একটু খেয়াল করে দেখুন ভিডিওটি খুব চালাকি করে করা হয়েছে। দেখুন তার কথাটা সম্পুর্ণ হয় নি তার আগেই ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে।

সম্মানিত পাঠকের অবগতির জন্য ড. আসিফ নজরুল সেদিন টক শো তে কী বলেছিলেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো:

“বেসরকারি টেলিভিশন ‘বাংলাভিশন’-এর সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান ‘ফ্রন্ট লাইন’-এ এক দর্শকের প্রশ্নের জবাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন- ধরেন জামায়াতে ইসলামীদের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। এটা ভাই, আপনার সাথে আমি একটু দ্বিমত পোষণ করি। কারণ আমরা যতটুকু জানি, ওই সময়ে যে, বিভিন্ন বাহিনী গঠন করা হয়েছিল, সেটার সাথে জামায়াতের শীর্ষ স্থানীয় কিছু লিডার জড়িত ছিল। এখন অনেক তরুণ লিডার আছে, যারা ওই সময়ে অবশ্যই জড়িত ছিল না। কিন্তু যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের সম্পর্কে তো একমাত্র দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ছাড়া- আমার জানা মতে আর বাকি সবারই, যতটুকু আমি পড়াশোনা করেছি, ইনভলমেন্ট ছিল। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবের কি ইনভলমেন্ট ছিল? উনি তখন জামায়াত লিডারও ছিলেন না, উনি কোন বিখ্যাত লোকও ছিলেন না, যুদ্ধাপরাধ করার মতো ক্ষমতাও উনার ছিল না। উনাকে কেনই জড়ানো হয়েছে তা আমি জানি না, ওটা আদালতের রায় বের হলে বুঝতে পারবো।”

জনাব আসিফ নজরুল এই তথ্যটি তে সমর্থন করেন। এবং ভিডিও’র সুত্র ধরে পাঠক মাত্রই বুঝতে পারবেন তিনি কি বলেছিলেন।

আসিফ নজরূল জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত যুদ্ধপরাধীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করেন এবং তাকে তদন্তাধীন বিষয়ে রিপোর্ট লেখার দায়িত্ব দেয়া হয়। সুতরাং তিনি বলতেই পারেন তিনি তার তদন্তে সাইদী’র সংশ্লিষ্টতা পান নি। এই সত্য বলা যদি অপরাধ হয়ে থাকে তবে স্বাধীন বাংলার নাগরিক হয়ে লাভ কি পাঠকরাই বলুন?

এরকমই এক ভন্ড এক মিথ্যাচার করেছেন এই বলে যে, আসিফের বইয়ের ৩৭ পৃষ্ঠার প্রথম প্যারার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, এইসব সক,অপরাধীদের বিরুদ্ধে সকল অপরাধের তথ্য অল্প-বেশী তথ্য তারা সংগ্রহ করেছিলো এবং রিপোর্ট তৈরী হচ্ছিলো তার উপর ভিত্তি করেই যার মধ্যে সাঈদীর বিরুদ্ধে রিপোর্টও ছিলো।

অথচ প্রকৃত তথ্যটি ছিল এরুপ,আসিফ নজরুল তার যুদ্ধপরাধী’র বিচার জাহানারা ইমামের চিঠি’র ৩৭ পৃষ্ঠা’র ৩ নং লাইনে বলেছেন,

বইপত্র ঘেটে আমরা পাচজনের (আব্বাস আলী খান, নিজামী, কামরুজ্জামান, কাদের মোল্লা, মাওলানা মান্নান) যুদ্ধপরধের অভিযোগ সম্পর্কে তথ্য পেয়েছিলাম। সেরকম পর্যাপ্ত তথ্য পাই নি অন্য তিনজনের (দেলোয়ার হসেন সাঈদী, আবদুল আলীম, আনোয়ার জাহিদ) এর ক্ষেত্রে।

সুতরাং জনাব নজরুল তার অবস্থান থেকে মোটেও নডেন নি। বরং প্রতিক্রিয়াশীল রা তার সত্যবাদীতায় ভয় পেয়ে এবং প্রকৃত যুদ্ধপরাধীদের কে আডাল করতেই আসিফ নজরুল কে দোষ দিচ্ছেন। কেননা আসিফ নজরুল হচ্ছেন সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক তিনি যা সত্য তাই বলেন। তদুপরি আসিফ নজরুল যদি যুদ্ধপরাধ ইস্যুটি কে আবার নির্বাচনী ইস্যু করার প্রতিবাদ করেন তাই তথাকথিত প্রতিক্রিয়াশীল সভ্য সুশীল দের এই মিথ্যাচার।

সভ্যরুপী ভন্ড মিথ্যুক আবার বলেছেন, এই বইয়ের ৩৩ পৃষ্ঠায় আমরা জাহানারা ইমামের একটি চিরকুট এবং আসিফের নিজের কথায় জানতে পারি যে এই গনতদন্ত কমিশনের যে সেক্রেটারিয়েট হচ্ছে সেখানে আসিফ নজরুলের নাম ছিলো। এবং এই কমিশনের কাজে তার সর্বপোরি সংশ্লিষ্ঠতা ছিলো।

আমার প্রশ্ন, আসিফ নজরুল কি কখনো অস্বীকার করেছেন যে তিনি যুদ্ধপরাধ বিরোধী আন্দোলনের সাথে জডিত ছিলেন না?

সভ্যরুপী ভন্ডের আরেকটি মিথ্যাচার ছিল এরুপ,
এই বইয়ের ৫০ পাতার ২য় প্যারাতেই আমরা জানতে পারি যে, জাহানারা ইমামের তদারকি ও অনুপ্রেরণায় শেষ পর্যন্ত ৯৪ সালের ২৬ শে মার্চ সাঈদী সহ অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে লিখিত গণ তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট টি প্রকাশ করা হয়।

সত্য হচ্ছে, আসিফ নজরুল এর উক্ত বইয়ের ৫০ পৃষ্ঠার ২য় প্যারায় অর্থাৎ ১১ লাইনে আসিফ নজরুল লিখেছেন,

মুলত আম্মার সার্বক্ষণিক তদারকি’র ফলে গণতদন্ত কমিশনের রিপোর্ট আমরা নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে সমর্থ হই। তবে খরচ ও বিতরণের কথা ভেবে ২৬ শে মার্চ রিপোর্টের শুধু সংক্ষিপ্তসার প্রকাশ করা হয়। মুল রিপোর্ট টি আয়তনে বিশাল এবং অমূল্য তথ্য সমৃদ্ধ।

এখন দেখি ঐ ভন্ড আমাদের মাথায় কি ঢূকাবার চেষ্টা করতে চায়?
এখন এই লাইনটি মাথায় থাকতে থাকতে আসুন আমরা আসিফের বইটির ৩২ নাম্বার পাতায় চলে যাই। কি লেখা রয়েছে সেখানে? সেখানে লেখা রয়েছে যে-
“৯৩ এর ২৬ শে মার্চ গণ আদালতের এক বছর পূর্তি দিন কমিটির নতুন কর্মসূচি ঘোষনা করা হয়। এদিন সোহ্‌রোয়ার্দি উদ্যানে আয়োজিত গণ সমাবেশে পুলিশ বি ডি আর হামলা চালিয়ে পন্ড করে দেয়। জাহানারা ইমাম ফুটপাতে দাঁড়িয়ে নতুন কর্মসূচির অংশ হিসেবে একাত্তরের ৮ জন ঘাতক দালালের কৃতকর্ম অনুসন্ধানের জন্য গণতদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষনা দেন। এই আটজন যুদ্ধাপরাধী ছিলোঃ আব্বাস আলী খান (বর্তমানে প্রয়াত), মতিউর রহমান নিজামী (জামায়াত নেতা), মোঃ কামারুজ্জামান (জামায়াত নেতা), আব্দুল আলীম, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী (জামায়াত নেতা), মোওলানা আব্দুল মান্নান (বর্তমানে প্রয়াত), আনোয়ার জাহিদ (বর্তমানে প্রয়াত) এবং আব্দুল কাদের মোল্লা (জামায়াত নেতা)

আমার প্রSSSSSSশ্নঃ জনাব নজরুল কি কখনো বলেছেন তারা জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধপরাধীদের যে তালিকা তারা করেছিলেন তাতে সাইদী’র নাম ছিল না?

এইভাবে আরো আসংখ্য মিথ্যাচার তারা জনাব নজরুলের নামে করেছেন। পাঠকদের কাছে আমার অনুরোধ সুত্রের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে কোন কিছু বিশ্বাস করবেন না।

পাঠকদের কি জানতে ইচ্ছে করছে ভন্ডটি কে, এই ভন্ড হচ্ছে,একজন সাংবাদিক যার নাম নিঝুম মজুমদার। তার সম্পর্কে একজন পাঠকের মূল্যায়ন,
ওয়ান ইলেভেন এর সময় আসিফ নজরুল নূরুল কবির রা কথা বলে গেছেন নির্ভীক ভাবে, আপনাদের মত লেজুরভিত্তিক সাংবাদিক রা তখন দিন কে দিন এবং রাত কে রাত বলার সাহস দেখান নাই , কিন্তু তারা দেখিয়েছেন।

ধন্যবাদ। সব্বাইকে। এভাবে সত্যের উম্মোচন অব্যাহত থাকবে।