ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

নতুন ছয়টি বেসরকারি ব্যাংক অনুমোদন পেয়েছে। যার সবগুলোর সঙ্গেই সরকারি দলের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে খবরে প্রকাশ। নতুন অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলো হচ্ছে- ইউনিয়ন ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ফারমার্স ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংক।

ইউনিয়ন ব্যাংকের সঙ্গে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যমের খবর। তবে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নাম রয়েছে শহিদুল আলমের। ব্যাংকটির উদ্যোক্তার তালিকায় রয়েছেন গোলাম মসি, যিনি জাতীয় পার্টির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

ঢাকা-১২ আসনের সরকার-দলীয় সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপসের মধুমতি ব্যাংকে চেয়ারম্যান হিসেবে নাম রয়েছে হুমায়ুন কবীরের।

ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আয়কর উপদেষ্টা এম মনিরুজ্জামান খন্দকার মিডল্যান্ড ব্যাংকের প্রস্তাবক।

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান এস এম আমজাদ হোসেন। উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির নেতা আব্দুল মান্নান চৌধুরী।

মেঘনা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হচ্ছেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (রংপুর-৫) এইচ এন আশিকুর রহমান। আর পরিচালকের তালিকায় রয়েছেন সরকার-দলীয় সংসদ সদস্য (ঢাকা-৩) নসরুল হামিদ।

উল্লেখ্য, আবেদন করার ক্ষেত্রে- ৪০০ কোটি টাকার মূলধন, একজন উদ্যোক্তার ১০ শতাংশ শেয়ারের অধিকারী হওয়া, পরিচালনা পর্ষদে সর্বাধিক ১৩ সদস্য রাখা সহ আরো বেশ কিছু শর্ত বেধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সুত্রঃ বিডি নিউজ ২৪ ডটকম

পরিচালনা পর্ষদে যদি সর্বোচ্চ ১৩ জন সদস্য থাকে তাহলে ব্যাংক গঠনের জন্য প্রত্যেক সদস্যের ৪০০/১৩= ৩০ কোটি ৭৬ লক্ষাধিক টাকা যোগান দিতে হবে। তার উপর উদ্যোক্তা পরিচালকদের ১০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে।

এখন দেখা যাক এই ব্যাংকগুলো’র সাথে সম্পৃক্ত রাজনৈতিক নেতাদের বটি বাটি মিলিয়ে সকল আয় এবং সম্পদের বিবরণী। এই অনুসন্ধানে আশ্রয় নেয়া হয়েছে নেতাদের বিগত নির্বাচনী হলফ-নামার।

ইউনিয়ন ব্যাংক এর সাথে সংশ্লিষ্ট জনাব হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের বিগত নির্বাচনী হলফ-নামা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, তার সর্বমোট সম্পদের পরিমাণ হচ্ছে ৫ কোটি টাকা তার মধ্যে আবার ঋণ আছে প্রায় সাত কোটি টাকার । তার বাৎসরিক আয় হচ্ছে ৩৮ লক্ষ টাকা, ব্যয় ১১ লক্ষ টাকা। এত ঋণাভারে নুয়ে পড়া জনাব এরশাদ ব্যাংক গঠনে তার প্রদেয় অংশ প্রদানে অন্য কোন ব্যাংক থেকে ঋণ নেবেন নাকি গোপন অন্য কোন আয়ের উৎস বের করেছেন তাও জানার বিষয়।

মধুমতি ব্যাংক এর মালিক ফজলে নূর তাপসের বিগত নির্বাচনে দাখিল-কৃত হলফ-নামায় দেখা যায়,নগদ ও জমা-কৃত টাকা, শেয়ারে বিনিয়োগ-কৃত টাকা, সঞ্চয়পত্র, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য অলংকার, বাসার ব্যবহার্য ইলেকট্রিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র, গাড়ি, অকৃষি জমি সব মিলিয়ে তার সম্পদের পরিমাণ হচ্ছে ২ কোটি ১২ লক্ষ ২৭হাজার ১৯২ টাকা। জনাব তাপসের বাৎসরিক আয় হচ্ছে, ২১ লক্ষ ৮৯ হাজার ২৭৫ টাকা মাত্র।

তাহলে মধুমতি ব্যাংক গঠনে অন্যূন ৩১ কোটি টাকা এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কে জনমনে প্রশ্ন জাগা কি স্বাভাবিক নয়? জনাব তাপস নিশ্চয় এই ব্যাংক স্থাপন করতে গিয়ে তার ঘরবাড়ি সহ তার সকল সম্পত্তি বিক্রয় করে দেন নি। যদি বিক্রি করে দেনও তাহলে এই সমুদয় সম্পত্তির বিক্রয়মূল্য সাড়ে ৩ বছর আগে ওনার দেয়া ভাষ্যমতে ২ কোটি ১৩ লক্ষ টাকার অধিক নয়। তাহলে মধুব্যাংক গঠনে বাকি টাকা আসল কোত্থেকে গরীবের সরকার আওয়ামী লীগের কাছ থেকে জানতে চাই।

মেঘনা ব্যাংক এর চেয়ারম্যান জনাব আশিকুর রহমানের নির্বাচনী হলফ-নামা থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী জানা যায়, কৃষি সম্পত্তি, গৃহ সম্পত্তি ও অন্যান্য সম্পত্তি মিলিয়ে ওনার সমূদয় সম্পত্তির বাজারমূল্য হচ্ছে, ১ কোটি ৪৪ লক্ষ ৭০৫ টাকা। তার উপর পূবালী ব্যাংকে ওনার ঋণ রয়েছে ৩৬ লাখ ৬০ হাজার ২৯২ টাকার। জনাব আশিকের বাৎসরিক আয় হচ্ছে ৯ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা। ব্যয় আছে ৫ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা। এইসব হিসেবের বিপরীতে জনাব আশিক তার প্রদেয় ৩১ কোটি টাকা এবং শেয়ারের ১০ শতাংশ কিভাবে ধারণ করের তা প্রশ্ন-সাপেক্ষ বলে প্রতীয়মান হয়।

মেঘনা ব্যাংকের আরেক পরিচালক সংসদ সদস্য জনাব নসরুল হামিদের বাৎসরিক আয় সর্বসাকুল্যে, ৮ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪৬৩ টাকা। নগদ-টাকা, ব্যাংকে জমা-কৃত টাকা, শেয়ার, সঞ্চয়পত্র,স্বর্ণালংকার, বাসার ব্যবহার্য জিনিসপত্র, কৃষি জমি এবং স্ত্রী’র নামে বাডির মূল্য সহ সমূদয় সম্পত্তির বাজারমূল্য হচ্ছে ৬২ লক্ষ ৭২ হাজার ৯০০ টাকা। জনাব নসরুল হামিদের দুরবস্থা দেখে আমার অন্তর ডুকরে কেঁদে উঠে। তিনি কিভাবে যে তার ভাগের ৩১ কোটি টাকা প্রদান করবেন?

ফারমার্স ব্যাংকের চেয়ারম্যান জনাব মহিউদ্দিন খান আলমগীরের নির্বাচনী হলফ-নামায় দেখা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে অধিকাংশ সম্পদ হিমায়িত হওয়া এই সাবেক প্রতিমন্ত্রী’র হিমায়িত হওয়া সম্পদ, স্ত্রীর নামে লিখিত সম্পদ সহ সমূদয় সম্পদের আর্থিক মূল্য ১ কোটি ৫৪ লক্ষ ৬০ হাজার ২৮৬ টাকা। জনাব আলমগীরের বাৎসরিক আয় হচ্ছে ৫ লক্ষ ৬ হাজার ৯৪০টাকা। এই আয় দিয়ে তিনি কিভাবে ফারমার্স ব্যাংক পরিচালনা করেন, কিংবা আদৌ এই আয় দিয়ে তিনি ফারমার্স ব্যাংক পরিচালনা করেন কিনা তা দেখার বিষয়।

সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের অন্যতম উদ্যোক্তা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক জনাব আবদুল মান্নান চৌধুরী। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক হওয়ার আর্থিক সামর্থ্য থাকা কতটুকু যৌক্তিক, সচেতন মহলের কাছে প্রশ্ন রইল। নাকি আমাদের গাঢীভূত সন্দেহই বাস্তবে রুপ নিচ্ছে, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’কে ব্যাক্তিগত উদ্দেশ্য সিদ্ধিতে ব্যাবহার করা হচ্ছে?

(লেখাটি উৎসর্গ করলাম ব্যরিষ্টার আন্দালিব পার্থ কে, যিনি ভরা সংসদে দাডিয়ে স্রোতের বিপরীত উচ্চারণ করেছেন এবং এই ব্যাংকগুলো’র মালিক দের বটি বাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন)