ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

কিছুদিন ধরেই মনে হচ্ছিল কিছু লিখব। যতোই স্পর্শকাতর হোক এই বিষয়টি নিয়ে আমাকে কিছু লিখতেই হবে। একজন ব্লগারের উস্কানিতে লেখাটি লিখতেই হলো।
তার আগে সলিমুল্লাহ খানের একটা কবিতাপাঠ করা যাক-

যে যুদ্ধ করেছিল সে মুক্তিযোদ্ধা
যে যুদ্ধ করে নাই সেও মুক্তিযোদ্ধা

ওসমানির কাগজ পেয়েছিল যে সে মুক্তিযোদ্ধা
যে সই দিয়েছিল নিজের কাগজে সেও মুক্তিযোদ্ধা

যে ভেবেছিল যুদ্ধ হবে দীর্ঘস্থায়ী সে মুক্তিযোদ্ধা
আমেরিকা এসে যাবে ধরে নিয়েছিল যে সেও মুক্তিযোদ্ধা

এক পাও উড়ে গিয়েছিল যার কামালপূরে সে মুক্তিযোদ্ধা
খঞ্জের গলায় কষেছে ফাসির রজ্জু যে সেও মুক্তিযোদ্ধা

নয় মাস দৈনিক লিখেছে পাকিস্তানে যে সে মুক্তিযোদ্ধা
রায়ের বাজার গড়ে লাশের পর লাশ ফেলেছে যে সেও মুক্তিযোদ্ধা

শুনি বাংলাদেশ (ব্রিটিশ) তামাক কোম্পানী
সিঙ্গার সেলাইকল সত্যি শুনি বিশ্বব্যাংক সেও মুক্তিযোদ্ধা

একদিন শুনব জেনারেল এহিয়া
ছিল ছদ্মবেশে সেও মুক্তিযোদ্ধা

আমি আর বিষ্মিত হব না।

সত্যি আমি আর বিস্মিত হবো না। আর বিস্মিত হই না।
দেখছি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে মানুষ ব্যবসা করছে। রাজনীতিবিদরা তাদের দাবার গুটি চালছে মুক্তিযুদ্ধকে অবলম্বন করে। আর এই রাজনীতিবিদদের কে ঘিরে থাকে হালূয়া ভোগীরা মনগড়া ইতিহাস বানিয়েই যাচ্ছে একের পর এক। কোন বাস্তবতার ছোঁয়া নেই, সত্যের প্রখরতা নেই, যুক্তির ধার নেই। শুধু আছে প্রহসন আর প্রবঞ্ছনা। হ্যা, আমি প্রবঞ্ছনাই বলব। নতুন প্রজন্মের সাথে এইসব প্রবঞ্চনাই বটে।

অতি অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের কাছে এক মহান অর্জন। আমাদের নিরীহ ছা পোষা পূর্বপুরুষগণ মুক্তিযুদ্ধে যে বীরত্ব দেখিয়েছেন তা কি কখনো ভোলা যায়। এই ছা পোষা মানুষরাই স্টেনগান হাতে সশস্ত্র পাকিদের সাথে প্রবল বিক্রমে যুদ্ধ করে যে বীরত্ম দেখিয়েছিলেন তা এককথায় অনন্য। স্বদেশপ্রেমের এমন বিরল দৃষ্টান্ত অন্য কোন জাতি দেখাতে পেরেছে কিনা আমার জানা নেই। এই মহান পূর্বপুরুষদের প্রতি তাদের এক উত্তরীয়ের অন্তরের অন্তস্থল থেকে অবনত চিত্তের শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। স্বদেশের জন্য তাদের এই সর্বোচ্চ ত্যাগ-তিতীক্ষার কারণেই আজ আমরা কলম ধরতে পারছি, স্বাধীনভাবে আমাদের মত প্রকাশ করতে পারছি।

দেশের প্রতি অসীম মমতাময়ী এই পূর্বপূরূষগণ কি বৈষয়িক স্বার্থের আশায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন? মুক্তিযুদ্ধের ফলাফল কারা ভোগ করেছিল? এখন কারা ভোগ করছে? যদিও সমগ্র জাতিই প্রশ্নগুলো’র উত্তর জানে বলেই আমার বিশ্বাস।

অত্যন্ত পরিতাপের সাথে লক্ষ্য করছি আমাদের এই গর্বের মুক্তিযুদ্ধকে প্রতিনিয়ত অসম্মান করা হচ্ছে। বিকৃতভাবে ইতিহাস উপস্থাপন করা হচ্ছে, দলীয় স্বার্থ রক্ষার্থে দলের মর্জিমত ইতিহাস বিকৃত করা করা হচ্ছে।

কিছু উদাহারণ দেয়া যাক,

৭ই মার্চ শেখ মুজিব ঘোষণা করেন, “এ বারের সংগ্রাম আমার মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম”।
কেউ কেউ দাবী করেন ওটাই ছিলো স্বাধীনতার ঘোষণা। কিন্তু দেশ স্বাধীন হবার পরে ডেভিড ফ্রষ্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মুজিব এ দাবীকে নাকচ করে বলেছেন, ৭ মার্চ তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি। ঐ ভাষণের শেষে তিনি বলেছিলেন, জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান। “জয় পাকিস্তান” বলে তিনি আলোচনার পথ খোলা রেখেছিলেন। সে আলোচনাই চলে ইয়াহিয়ার সাথে ২৫ মার্চ পর্যন্ত। এমনকি সকলের অনুরোধ সত্তে¦ও আলোচনার দুয়ার ও সমঝোতার পথ খোলা রাখার জন্যেই তিনি সেই বিভীষিকাময় রাতে নিজের বাসভবন ছেড়ে কোথাও যাননি। ২৫ মার্চ রাতে পাক বাহিনীর হাতে আটক হবার পূর্বে তিনি বাংলাদেশকে স্বাধীন বলে ঘোষণা করেছেন, এমন প্রচারণার পক্ষে কোনো প্রমান বা সাক্ষ্য নেই।

আহমদ ছফাও তার মহাসিন্ধুর কল্লোল নিবন্ধে মুজিবের “জিয়ে পাকিস্তান” বলার কথাটি উল্লেখ করে গেছেন।

অতঃপর আসা যাক ২৫শে মার্চ গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে তিনি নাকি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, ওয়াজেদ মিয়ার উদ্বৃতি দিয়ে থাকেন কেউ কেউ। আমি ড ওয়াজেদ মিয়ার বইটি পড়েছি কোথাও কোন প্রমাণ পাই নি। তিনি একটি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন মাত্র।

২৫শে মার্চ আটক হওয়া পর্যন্ত মুজিবের সাথে ছিলেন তার পত্নী ফজিলাতুন্নেসা। ১৯৭৩ সালে বেগম মুজিব এক সাক্ষাৎকারে সে দিনের ঘটনা সবিস্তারে বর্ননা করেছেন। ফজিলাতুন্নেসা মুজিব বলেন, “রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে তারা (পাক সেনারা) গুলি ছুড়তে ছুড়তে উপরে এলো।তারপর মাথাটা নিচু রেখে নেমে গেলেন তিনি নিচের তলায়। মাত্র কয়েক মুহূর্ত। আবার উঠে এলেন উপরে। মেঝো ছেলে জামাল এগিয়ে দিল তার হাতঘড়ি ও মানিব্যাগ, পাইপ আর তামাক হাতে নিয়েই বেরিয়ে গেলেন তিনি ওদের সাথে” (দৈনিক বাংলা, ২৬ মার্চ, ১৯৭২)।

আসলে ঐদিন রাত্রে মুজিব কি করেছিলেন? কেন নেতাকর্মীদের প্রবল চাপ থাকার পরও তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যাননি?

ড কামাল হোসেনের ভাষ্যমতে, ২৫ মার্চ সন্ধ্যা থেকেই বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বত্রিশ নম্বরে এসে মুজিবকে সম্ভাব্য আক্রমনের কথা জানিয়েছিলেন। সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, এইচ এম কামরুজ্জামান, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, কামাল হোসেন, পাকিস্তানী সাংবাদিক তারিক আলী, ক্যাপ্টেন রহমান, আঃ রাজ্জাক, সিরাজুল আলম খান, আ স ম আব্দুর রব, শাহজাহান সিরাজ একে একে দেখা করে মুজিবকে অনুরোধ করেও স্বেচ্ছায় কারাবরন রোধ করতে পারেন নি, বরং তিনি গ্রেফতার বরণের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। রাত নয়টায় ড. কামাল হোসেন দেখা করলে মুজিব জানতে চান ইয়াহিয়ার প্রতিনিধি জেনারেল পীরজাদার কাঙ্খিত ফোনটি এসেছিলো কি না। কামালের নেতিবাচক জবাবে মুজিব হতাশ হয়ে পড়েন। এ সম্পর্কে ড. কামাল হোসেন লিখেছেন, “এমনকি ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ আমি যখন শেখ মুজিবের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিলাম তখনও শেখ মুজিব আমার কাছে জানতে চাইলেন, আমি ঐ টেলিফোন পেয়েছি কিনা। আমি তাঁকে জানালাম যে, আমি তা পাইনি। এ রাতেই পাকিস্তানী সৈন্যরা বাঙ্গালী জনগণের ওপর আক্রমন চালাল এবং গণহত্যা ও রক্তের হোলিখেলা শুরু হল, যা এড়ানোই ছিল আলাপ-আলোচনা চালানো ও দর কষাকষির মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক মীমাংসায় পৌঁছানোর এখানে প্রধান লক্ষ্য।” (সূত্রঃ ‘মুক্তিযুদ্ধ কেন অনিবার্য ছিল’, ডঃ কামাল হোসেন, মাওলা ব্রাদার্স, ঢাকা পৃষ্ঠা ৭৬-৭৭)।

কি ছিল সেই সমঝোতায় আলোচনা হবে আরেক দিন।

সেদিনের ঘটনা প্রসংগে মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ সহকারী মঈদুল হাসান, মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি এয়ার কমোডর এ কে খোন্দকার এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গঠিত যুবশিবিরের মহা পরিচালক এস আর মির্জার উপস্থিতিতে এক সাক্ষাতকারে বলেন,

“রাত আটটার দিকে দলীয় সাধারন সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমদ একটি টেপরেকর্ডার এবং ছোট্ট একটি খসড়া ঘোষণা শেখ মুজিবকে এগিয়ে দিয়ে সেটা তাকে পড়তে বলেন – তা ছিলো স্বাধীনতার ঘোষণা এবং লড়াইয়ের আহবান। কিন্তু মুজিব তা প্রত্যাখ্যান করলেন। তার ভয় ছিলো, এ কাজ করলে পাকিস্তানীরা এটি তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করবে। এখান থেকে দু’টি বিষয় পাওয়া যায়, মুজিব স্বেচ্ছায় গ্রেফতার বরন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তিনি পাকিস্তান ভাঙ্গার দায়ে অভিযুক্ত হতে চান না। তাজউদ্দিন সাহেব যুদ্ধের পরে তার বিশেষ সহকারী মঈদুল হাসানকে এ ঘটনাটি বলেছিলেন। ঐ ঘটনার প্রতক্ষ্যদর্শী আওয়ামীলীগের অন্যতম নেতা প্রচার সম্পাদক আবদুল মোমিনও পরবর্তীকালে এ বিষয়টি মঈদুল হাসানকে নিশ্চিত করেছেন” (‘মুক্তিযুদ্ধের পূর্বাপর কথোপকথন’ প্রথমা প্রকাশনী ২০১০)।
যা ড কামাল হোসেনের উক্তিকে সমর্থন করে।

“মূলধারা ৭১” বইটিতেও তিনি একই কথা উল্লেখ করেছেন।

সুতরাং এটি নিশ্চিত যে ২৫শে মার্চের কালরাত্রিতে মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি।

অবশ্য আতিউর রহমান সাহেবের অনির্ভরযোগ্য উক্তি যদি কেউ বিশ্বাস করতে চায় সে ভিন্ন কথা অথবা আদালত কতৃক ঘোষিত কাউয়ার্ড কে এম শফিউল্লাহ’র উক্তি ও আপনারা যারা চান ধার্তব্যে আনতে পারেন। অথবা গৃহপালিত শাওহরিয়ার কবির অথবা মুনতাসীর মামুনদের রেফারেন্স যদি কেউ টানতে চান আমার বলার কিছুই নেই। তাদের মতে মুজিব একটা ঘোষণা দিয়েছিলেন এরূপ –

“This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh– wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved”.

যা পরবর্তীতে স্বাধীনতার দলিলপত্রের তৃতীয় খণ্ডে সংযুক্ত করা হয়েছে।

আমি যতটুকু জেনেছি , এটি হচ্ছে তাজউদ্দিন আহমেদ কর্তৃক লিখিত সেই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের খসড়ার অংশবিশেষ যাতে মুজিব রাষ্ট্রদ্রোহিতার ভয়ে কিংবা তথাকথিত আলোচনার সুযোগ রাখার নিমিত্তে সই করেননি।

অতঃপর আসছি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা প্রসঙ্গে, বাংলাদেশে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কতজন সে সম্পর্কে কি কারো কোন ধারণা আছে? কতজন মুক্তিযোদ্ধাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল আপনার কি কেউ জানেন?
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হামিদুল হোসাইন তারেক বীর বিক্রম এই সম্পর্কে একটি টক শোতে উল্লেখ করেন,

সামরিক ও বেসামরিক মিলিয়ে মোট ৫৭ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে তালিকাভূক্ত করা হয়। অতঃপর জিয়া সরকার এসে মোট মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা করলেন ৯০ হাজার, এরশাদ এসে আরো ৪০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যোগ করলেন।এরপরের সরকার এসে সর্বমোট মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা করলেন দুই লাখ ২০ হাজার। এবং এখনো মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নিত্য নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে। ঐদিন দেখলাম ৪৮ বছর বয়সী একজনের কাছে মুক্তিযোদ্ধা সনদ। সেদিন দূরে নয় অনাগত প্রজন্ম মায়ের গর্ভের ভেতরেই কিংবা আসহাবে কোহকাফে ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা দেখবে।

এখন সার্টিফিকেটধারী মুক্তিযোদ্ধা’র সংখ্যা কত তা সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জানে কিনা আমার সন্দেহ হয়। কেননা আমি উক্ত মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট তন্ন তন্ন করে খুঁজেও মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা সম্পর্কিত কোন সংখ্যা দেখতে পাইনি।

কি জাদুমন্ত্র বলে মুক্তিযুদ্ধের পরে প্রত্যকটি সরকার আসার সাথে সাথে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা শনৈ শনৈ বৃদ্ধি পায় তা সচেতন জনতা মাত্রই জানে। আমজনতা জানে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এখন ভালো ব্যাবসা হয়। শুধুমাত্র বিশেষ একটি পক্ষের নজরে পড়তে পারলেই হলো। মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট মিলে যাবে বিনা কষ্টে। এবং এই সার্টিফিকেট নিয়ে ব্যাবসা করা যাবে তামাম। নিজে তো নিজেই, পরের তিন প্রজন্ম ও এই সার্টিফিকেট বেচে খেতে পারবে। সুতরাং চলুক মিথ্যা ইতিহাস চর্চা, শুধু ক্ষমতাসীন পক্ষকে একটু তেলমর্দন করতে পারলেই হল। তার উপর আরেকটি পক্ষ তো মুক্তিযুদ্ধকে লীজ নিয়ে বসে আছে। উহারা আবার সুযোগমত মুক্তিযুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করে দেন। টাইম মেশিনে চড়ে অতীত পরিবর্তন করার কৌশল জানা না থাকলেও কলমের খোঁচায় অতীত পরিবর্তন করার সূক্ষ্ম জাদুকরী কৌশল ওনাদের গৃহপালিত ঐতিহাসিকদের এবং তাদের চ্যালা চামুন্ডাদের ভালোই আছে বলে প্রতীয়মান হয়।

(শর্ত সাপেক্ষে চলবে)