ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

বর্তমান সময়ের কিন্ডারগার্টেন আর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের ছাত্র-ছাত্রী পড়ানোর পদ্ধতি র ভিতর খুব একটা পার্থক্য আছে বলে আমার কাছে মনে হয়না। কারণ কিন্ডারগার্টেন এর বাচ্চাদের সাধারনত কিছু পড়া দেওয়া হয় এবং মুখস্থ করতে বলা হয় এবং সর্বশেষ পরীক্ষায় তা লিখতে দেওয়া হয়। এরপর পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় কার কতটা মুখস্থ শক্তি ভাল । বর্তমানে বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের শীট নির্ভর পড়াশুনা আমার কাছে এর থেকে কোনভাবেই উন্নত মনে হয়না। আর এই শীট নির্ভর পড়াশুনা ছাত্র-ছাত্রীদের করছে বই বিমুখ । এর জন্য যতটা না দোষ ছাত্র-ছাত্রীদের তার থেকে বেশি দোষ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের, কারণ তারাই ছাত্র-ছাত্রীদের অমুক-তমুক শীট সরবরাহ করে। এর থেকেও বড় কথা নতুন প্রজন্ম এর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যোগ্যতা এবং আন্তরিকতা অনেক বেশি প্রশ্নবিদ্ধ। এক্ষেত্রে অবশ্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দিকেই তীরটা বেশি ঘুরান।

যেহেতু সূত্র ছাড়া প্রতিবেদন মলমূত্র ছাড়া আর কিছুই নয়, তাই ‘ম’ আদ্যক্ষরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এর pharmacy বিভাগের কিছু অনিয়মের খন্ড চিত্র তুলে ধরছি :
ল্যাব রুমের সংকট :

U.G.C. এর নিয়ম অনুযায়ী যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় এর pharmacy বিভাগের জন্য কমপক্ষে চারটি ল্যাব রুম থাকা আবশ্যক, সেখানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাব রুম আছে মাত্র দুইটি । মাঝে-মাঝে দেখা যায় এক রুমে 40-45 জন ছাত্র-ছাত্রীকে একসাথে ল্যাব এ কাজ করতে হয় । তারপরতো যন্ত্রপাতির সল্পতা আছেই। এরফলে দেখা যায় ওই 40-45 জন ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে হয়তবা দুই-তিনজন কাজ করছে আর বাকি সবাই দর্শক। তারথেকেও অবাক করা বিষয় বিশ্ববিদ্যালয় এর 600 ছাত্র-ছাত্রীর জন্য মাত্র একজন ল্যাব শিক্ষক।

দক্ষ(?) টিচার-ফ্যাকাল্টি :
এরপর আসি আসল আলোচনায় এই বিশ্ববিদ্যালয় এর বেশির ভাগ শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ ছাত্র-ছাত্রীদের শীট নির্ভর করে তুলেন প্রথম সেমিস্টার থেকেই । কিভাবে? বলছি:
এই বিশ্ববিদ্যালয় এর একজন শিক্ষিকার পড়ানোর ধরণ হচ্ছে , তিনি শ্রেণীকক্ষে ঢুকবেন হাতে একটি শীট নিয়ে এবং সেটি রীডিং পড়ে শুনাবেন এরপর শীট এর ভিতর ব্যবহৃত কমা,ফুলস্টপ এর মহাগুরুত্ব(!) বুঝাবেন এক ঘণ্টা ধরে । তারপর তিনি পরীক্ষায় ওই দুই -তিন পৃষ্ঠার শীট এর উপর ছাত্র-ছাত্রীদের মুখস্থ শক্তি যাচাই করেন কই দিন পরপর।
শুধুমাত্র এই শিক্ষিকাই না এ বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রায় সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ এই ধাঁচের।

আর তাদের জ্ঞান এর পরিধি আরও হাস্যকর: কেউ হয়তোবা saliva তে HCl খুজে পায় , কেওবা DNA এর translation কে Transcription বলে চালিয়ে দেন ।
আমি কোনভাবেই কোনও প্রতিষ্ঠানকে আঘাত করতে চাইনি , কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের করুণ অবস্থা তুলে ধরতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতীকী ছবি আকারে এখানে উল্লেখ করেছি । তবে এটা ঠিক বাংলাদেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় এর চিত্র এর থেকে খারাপ বৈকি ভাল নয়।