ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

ব্লগার আমীন কাদীর এর ‘ক্লাব-কমিউনিস্টদের ক্ষমতা দখল‘ পোস্টটি এইমাত্র পড়া শেষ করলাম। চমৎকার প্রকাশভঙ্গি, অসম্ভব শক্তিশালী একটি লেখা । মানুষের ভাষা এত চমৎকার হতে পারে? আমার খুব চমৎকার ভাষায় কিছু লিখতে ইচ্ছে করে, বলতে ইচ্ছে করে ।

আমাকে প্রায় আমার এক বড় ভাই বলে :’মেনন! ভাষা হচ্ছে সেকেন্ড গড, ভাষার শক্তি যে কত বেশি তুমি কল্পনাও করতে পারবেনা ‘ আমার মাঝেমাঝে এই শক্তিকে নিজের করতে ইচ্ছে করে , একে বুকে জড়িয়ে নিতে ইচ্ছে করে, আর ও কত কী যে ইচ্ছে করে বলে প্রকাশ করতে পারবো না।

আমার বাবা মাঝে-মাঝে গল্প করে সেই ৫২ থেকে ৭১ সময়ের মাঝে বিভিন্ন জাতীয় নেতৃবৃন্দের ভাষার জাদুতে (বক্তব্যে )মুগ্ধ হয়ে এই দেশের মানুষ কিভাবে বিভিন্ন আন্দোলন -সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
দেশের মানুষের সেই সারিতে ছিল এই দেশের চাষা-ভুষা লোকেরা। যারা ঠিকমত কথা বলতে পারত না , না পারত মানুষকে ভাষার মন্ত্র জালে আটকাতে । নেতারা এই সকল চাষা-ভুষা লোকদের বৈষম্যহীন , নিপীড়নহিন , স্বাধীন দেশের সপ্ন দেখিয়েছে , সবই এই শক্তিশালী ভাষা দিয়ে। ইশ! আমার যদি থাকতো এই ভাষার শক্তি ।

শুধুই কী তাদের ভাষার যোগ্যতা , কত দিন তারা ঘুমান নি , ঠিক মত খান নি , শুধুমাত্র দেশের চাষা-ভুষা লোকদেরকে বৈষম্যহীন একটি নতুন সমাজের লাল সূর্য উপহার দেয়ার জন্য। চাষাভুষারা জীবন দিয়েছে যুগের পর যুগ , কারণ তাদের ছিলনা সেই ভাষার শক্তি । আর যাদের ভাষার শক্তি আছে তারা যুগের পর যুগ বাহারি শব্দের জাদুকরি ব্যবহার এর মাধ্যম এ শোষণমুক্ত , নির্লোভ , জনগণের শাসনের রাষ্ট্রের সপ্ন দেখিয়ে যাচ্ছেন।

খুব ইচ্ছে করে বাহারি শব্দের জাদুকরি ব্যবহার শিখতে । খুব ইচ্ছে করে এই শক্তিশালী ভাষাকে পায়ের নিচে রেখে পিষে মারতে ,যখন দেখি লাল সূর্যর সপ্ন দেখানো লোকগুলো লাথি খাওয়া কুকুরের খাবারের লোভে মনিবের কাছে ফিরে আসার মত ক্ষমতার জন্য সিংহাসনের আশে পাশে ঘুর-ঘুর করে। খুব ইচ্ছে করে এই শক্তিশালী ভাষাকে মাটি চাপা দিতে যখন দেখি লাল সূর্যের সপ্ন দেখানো, লোক দেখান সাধা-সিধা জীবন-যাপন কারি নপুংসকদের একবার সাদা শাড়ি আর একবার রঙ্গীন শাড়ির আচলে আশ্রয় নিতে। খুব ইচ্ছে করে এই শক্তিশালী ভাষাকে পটাশিয়াম সায়ানাইড খাইয়ে মেরে ফেলতে যখন দেখি লাল সূর্যের সপ্ন দেখানো লোকগুলোকে কলম-হাতুড়ে নিয়ে শিক্ষার বিপ্লবের নামে স্কুলে -স্কুলে লটারি সিস্টেম করে টাকার বিছানায় ঘুমাতে।

খুব ইচ্ছে করে ভাষা শক্তির অপব্যবহার না জানা একজন চাষা-ভুষা হতে ।