ক্যাটেগরিঃ স্যাটায়ার

ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক মন্দা , অভাব , দ্রব্য-মূল্যের উর্ধ্বগতি , শেয়ার কেলেঙ্কারি সব মিলিয়ে দেশের জনগণের ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি ‘ অবস্থা । না এই টুকু অংশ পড়ে কেও মনে করবেন না যে আমি সরকারের বিষোদগার করতে নেমেছি । ও যা বলছিলাম , তো এই অর্থনৈতিক করুণ অবস্থায় সবাই চিন্তা করে ‘ইশ! যদি দুই পয়সা বেশি আয় করা যেত তবে খুব ভাল হতো’
তাদের কথা ভেবেই আজ আমি অর্থ উপার্জনের কিছু ফ্রি টিপস দিব ভাবছি । কেউ আবার আমাকে ডান হাত-বাম হাতের লোক ভেবে বসবেন না । ফ্রি টিপসগুলো দেয়ার আগে আপনাদের জানান উচিত কোথা হতে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি এই ফ্রি টিপসগুলো বের করেছি ।

বেশ কয়েক বছর ধরে আমাদের দেশে একটা বিষয় নিয়ে খুব হই-চৈ হয়েছিল সেটি হচ্ছে সুন্দরবনকে প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের একটি বানানোর জন্য ভোট সংগ্রহ ।
যেহেতু অনেক ভোটের প্রয়োজন ছিল সেহেতু ভোট সংগ্রহে নামে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন এবং কোম্পানি। কিন্তু তারপরও যখন আশানুরূপ ভোট পাওয়া যাচ্ছিল না তখন দেশের প্রতি চরম ভালবাসার টানে মাঠে নামে দেশের সবগুলো মুঠোফোন কোম্পানী।

যদিও যখন সুন্দরবনের বাঘ, হরিণ নির্বিশেষে নিধন করা হয় কিংবা সুন্দরবনের বিভিন্ন সম্পদ লুট করা হয় তখন তাদের ভালোবাসা কোন গর্তে লুকায় সেটি আমার এখনকার আলোচনা না । কিংবা মানুষের সহজ-সরল ভালোবাসাকে পুঁজি করে কত কোটি-কোটি টাকা তারা হাতিয়ে নিয়েছে সেই আলোচনা করেও আমি কারো বারা ভাতে ছাই দিতে চাই না ।

এবার আসল প্রসঙ্গে আসি : অর্থ উপার্জনের উপায় ।

আমার যেটা চিন্তা যারা আমরা খুব দ্রুত কিছু টাকা-পয়সা কামাতে চাই তারা ‘প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের’ আদলে মানুষ সপ্তাশ্চার্য নির্বাচনের জন্য বিশ্ব ব্যাপি ভোট ব্যবসা চালাতে পারি।
এই প্রতিযোগিতায় বিশ্ব ব্যাপি আশ্চর্য তম কিছু লোকদের পুরস্কার দেয়ার জন্য আমরা সবার কাছে ভোট চাইতে পারি ।

যেমন এই লিস্টের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে আমরা একজন বিশ্ব বেহায়াকে বেছে নিতে পারি । যিনি শুধুমাত্র তার বেহায়াপনার জন্য এই সম্মানের দাবিদার হবে না , দাবিদার হবে তার একাধারে কাব্য প্রতিভা , রমণী পটান প্রতিভা কিংবা রাজনৈতিক পলটিবাজি প্রতিভার জন্য ।
তার জন্য আমরা ভোট চেতে পারি :

‘ একজন কবিকে ভোট দিয়ে সকল কবির মান-সম্মান বাঁচান’ কিংবা ‘ আপনার একটি ভোট ই পারে একজন বেহায়ার মর্যাদা বাড়াতে ‘ অথবা ‘ হাটুতে বুদ্ধিওলারা এগিয়ে আসুন আপনাদের সমগোত্রীয় একজন ভাইকে নির্বাচিত করতে’ সহ আরও বিভিন্ন ব্যানার এ ।

এরপর আমরা ২ এবং ৩ নং স্থান দুটি দুইজন নারীর জন্য বরাদ্দ রাখতে পারি , কারণ তাদের দুইজনই ২ নং স্থানটি পাওয়ার জন্য উদগ্রীব থাকবে সুতরাং আমরা এই সুযোগে আরেকটি ব্যবসা চালু করতে পারি ।

সেটি হল এই দুইজন নারীকে নিয়ে মিরপুর জাতীয় স্টেডিয়াম এ ‘wwe women wrestle mania championship’ এর আয়োজন করা । টিকেটের মূল্য রাখা যেতে পারে ৫০০ টাকা । এত সস্তা দামে এত বড় মজা উপভোগের সুযোগ কেউ হাত ছাড়া করবে বলে আমার মনে হয় না ।
তাদের ভিতর যে জিতবে তাকেই দেওয়া হবে অতি-কাঙ্খিত সেই ২ নং স্থানটি।

অবশ্য প্রতিযোগিতাকে আরও উপভোগ্য করতে ওই দুই মহিলার স্বামী কিংবা বাবার বিভিন্ন ভাল কার্যাবলী এবং তাদের গালাগালির বিশেষ যোগ্যতা , পুরস্কার জেতার পূর্ব শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে । এরপর বাকি ৪, ৫, ৬, ৭ স্থান গুলো নির্বাচনের জন্য আমরা একটু ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করতে পারি । আমরা সাধারনত দেখি যে যেই সকল লোকজন বিভিন্ন পশু-পাখির ডাক নকল করতে পারে তাদের আমরা বড় মানের শিল্পী হিসেবে বিবেচনা করি । তেমনিভাবে কোনও ব্যক্তি যদি কোনও পশু, জানোয়ার , কিট-পতঙ্গের চরিত্র হুবহু নকল করতে পারে তবে আমরা তাদেরকে এই ৪, ৫,৬ , ৭ স্থান গুলোর জন্য নির্বাচিত করতে পারি । যেমন কোনও ব্যক্তি যদি হায়েনার হিংস্রতা কিংবা কেও যদি কুকুরের গু(প্রতীকী ) খাওয়ার অভ্যাস অথবা কেও যদি জোকের মত নীরবে রক্ত চোষার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে তবে তাদেরকে পুরস্কৃত করা যেতে পারে ।

এবং তাদেরকে নির্বাচিত করার জন্য আমরা ভোট ব্যবসা চালাতে পারি , যেমন : ‘ আপনার একটি ভোটই পারে আমাদের হায়েনা বাবাকে সম্মানিত করতে ‘ এই টাইপের বহু আবেদন পত্রের নামের আড়ালে ।
এখানে একটা প্রশ্ন অনেকের মনে আসতে পারে হায়েনার সাথে বাবা শব্দটি কেন যোগ করা হয়েছে?

এটাও করা হয়েছে একটি ব্যবসা এর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে । সেটি হচ্ছে : আমরা সাধারনত দেখি আমাদের কিছু ভাই-বোন সামাজিক , অর্থনৈতিক ভাবে নির্যাতিত হয়ে, যখন মানুষিক ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তা-ঘাটে জামা-কাপড় ছাড়া চলা-ফেরা করে তখন আমরা তাদেরকে বিভিন্ন বাজে নামে ডাকি ।

অন্যদিকে সম্পূর্ণ বিবেকবান লোকজন যখন উলঙ্গ হয়ে ‘উলঙ্গ বাবা’ কিংবা ‘লেংটা বাবা’ নাম ধারণ করে তখন , কারি কারি টাকা-পয়সা নিয়ে সমাজের সর্বোচ্চ বিবেকবান লোকজন তাদের পায়ের নিকট বসে থাকে ।

সুতরাং আমার বিশ্বাস ‘হায়েনা বাবা’ অথবা ‘জোক বাবা’ নামগুলো অর্থ উপার্জনে ভাল প্রভাব রাখতে পারে ।
সর্বশেষ কিছু ব্যক্তিবর্গের কাছে ক্ষমা চেয়ে অর্থ উপার্জনের ফ্রি টিপস পর্ব এখানেই শেষ করছি :

১) ডান হাত-বাম হাত তত্ত্বের অনুসারীদের কাছে ।
২) বিশ্ব পশু-পাখি প্রেমিকদের কাছে ।
৩) রেসলিং কর্তৃপক্ষ এর কাছে ।

এবং অর্থনৈতিক কষ্টে থাকা মানুষদের সাথে এরকম আজাইরা ফাজলামো করার জন্য ।