ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

গতকাল এক বড় ভাইয়ের কাছ থেকে ‘Place- Non place’ নামক একটি তত্ত্ব জানতে পারলাম । আমরা সাধারনত আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন কিছু স্থানে যাই বা অবস্থান করি সাময়িক সময়ের জন্য , আবার এমন কিছু স্থান আছে যেখানে আমরা নির্দিষ্ট একটি সময়ে ফিরে আসি বা আসতে বাধ্য হই । যেমন ধরেন , আপনি যেখানে চাকুরী করেন সেখানে দিনের একটি সময় ব্যয় করেন আবার চাকুরী শেষ করে আপনি অবশ্ই বাসায় ফিরে আসতে বাধ্য হন ।

‘Place- Non place’ তত্ত্ব বলছে , আমরা যে সকল স্থানে সাময়িকভাবে অবস্থান করি ( যেমন আমাদের অফিস) সে সকল স্থান সমূহ হচ্ছে Non place , আর আমরা যে সকল স্থানে মনের টানে ফিরে আসতে বাধ্য হই ( যেমন আমাদের বাসা ) সে সকল স্থান সমূহ হচ্ছে Place ।

‘Place- Non place’ তত্ত্ব বলে আসলে কিছু আছে কিনা বা থাকলেও এই তত্ত্বর গভীরতা কতটুকু কিংবা থাকলে ও আমি যেমনি ভাবে উপরে উল্লেখ করেছি আদৌতে এর সাথে কোন প্রকার মিল আছে কিনা তা আমার মত কম জানাশুনা ‘কুয়োর ব্যাং ‘ এর পক্ষে আপনাদের জানান সম্ভব নয় ।

আমার যদি ধরে নেই যে উপরেল্লিখিত এই রূপেই ‘Place- Non place’ তত্ত্ব বলে কিছু একটা আছে তাহলে আমার জন্য পরবর্তী আলোচনা করা সুবিধাজনক হবে ।
আমি আমার আলোচনায় যে বিষয়টি দেখাতে চাই তা হল , আমাদের জীবনে Non place সমূহের গুরুত্ব কতটুকু।

যেমন ধরুন আপনি আপনার Place বাসায় ফিরে এই কোলাহলময় জীবনে একটু সসতির শ্বাস ফেলতে পারেন কিন্তু আপনি যদি আপনার Non place চাকুরীস্থানে সঠিক ভাবে যুদ্ধ না করেন তবে আপনার Place বাসা আর শান্তির স্থান হিসেবে বেশি দিন থাকবে বলে আমার মনে হয় না ।

‘Place- Non place’ তত্ত্বর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক আমার কাছে মনে হয় :আমাদের Place সমূহে ফিরার তীব্র বাসনা ।

উদাহরণ হিসেবে দেখুন , আমাদের দুই জাতীয় নেত্রীর তাদের Place ‘সরকার’ নামক যায়গায় ফিরার তীব্র কামনা ।
তত্ত্ব অনুযায়ী জন নেত্রী খালেদা জিয়া এখন Non place এ অবস্থান করছেন এবং অতি শান্তির স্থান ‘ সরকার ‘ নামক Place এ প্রবেশের জন্য জীবন বাজি রেখে চলছেন ।
আমরা যেমন আমাদের Non place চাকুরীস্থান থেকে place বাসায় আসতে রিক্সা , বাস কিংবা প্রাইভেট কারের সহযোগিতা নেই তেমনি ভাবে খালেদা জিয়া ও তার Place এ প্রবেশের জন্য কিছুদিন পরে আমাদের সাহায্যের জন্য ধর্ণা দিবেন ।

একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি আরো একটু পরিষ্কার করা যেতে পারে :
ধরুন আপনি আপনার বাসায় একটি কুকুর পালেন , কুকুরটি সবসময় আপনার বাসায় থাকে , মানে হল আপনার বাসাটি আপনার কুকুরটির জন্য Place , আপনিই কুকুরটিকে সবসময় খাবার দেন যে কারণে আপনার এই কুকুরটিকে খাবারের সন্ধানে Non place মানে বাইরে যেতে হয়না ।

একদিন হয়তবা আপনি খুব জরুরী কোন এক কাজে বাসার বাইরে বেশ কিছু সময়ের জন্য বের হলেন এবং ব্যস্ততার কারণে আপনার এই কুকুরটিকে খাবার দেওয়ার কথা ভুলে গেলেন , তখন আপনার এই কুকুরটি কি করবে ?

বাধ্যগত হয়েই কুকুরটি তার পেটের জ্বালা মিটানোর জন্য Non place সমূহে অর্থাত্‍ বাসার বাইরে খাবারের সন্ধানে বের হবে । Non place এ এসেই হয়তবা খাবে অন্য কুকুরদের দৌরানি ( যারা হয়তবা তাদের place বাসা থেকে খেয়ে-দেয়ে এসে Non place এ মাস্তানি করছে )।

আপনার কুকুরটি এমতাঅবস্থায় আবার হয়তবা তার Place অর্থাত্‍ আপনার বাসায় ফিরে আসবে ,আপনি এরই মধ্যে বাসায় ফিরে এসেছেন এই আশায় । আর আপনি যদি সত্যই এরই মধ্যে বাসায় ফিরে আসেন এবং আপনার কুকুরের এই অবস্থা দেখেন তখন আপনি যারপরনাই আপনার এই অভুক্ত কুকুরটিকে খাওয়ানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পরবেন ।

তেমনি ভাবে আমাদের জন নেত্রী খালেদা জিয়া এবং তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা যেহুত বহুদিন Non place এ থেকে অভুক্ত অবস্থায় আছে তাই দেশের প্রতিটি জনগণের ফরজে আইন হয়ে পরেছে তাদের স-সম্মানে তাদের Place ‘সরকার’ এ প্রবেশ করিয়ে দেওয়া ।

এখন হয়তবা অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে place যদি এত শান্তির স্থান হয় তবে সরকারদলীয় দেশ নেত্রী শেখ হাসিনা কেন অতি শীঘ্র Non place এ যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন?
আসলে শেখ হাসিনা বাধ্য হয়ে এ কাজ করছেন ।

উদাহরণ হিসেবে ধরুন আপনি হঠাৎ চিন্তা করলেন যে আপনি অনেকদিন আপনার place ‘বাসায়’ আরামে থাকবেন , এবং এই কয়েকদিন Non place এ বের হবেন না । যেহেতু আপনি আরামে দিন কাটাতে চান সুতরাং আপনার প্রচুর টাকা-পয়সার প্রয়োজন , তাই আপনি খুব দ্রুত Non place এ আন্দোলন-সংগ্রাম করে বহু টাকা-পয়সা উপার্জন করলেন ।

এবার আপনি ধরেন আপনার place এ আরামের অবকাশ জীবন-যাপন শুরু করলেন ।

এখন আপনার যেহুতু হাতে অনেক টাকা-পয়সা সেহুতু আপনি হয়তবা সুন্নতের প্রতি পূর্ণ আস্থা দেখিয়ে এক হালি বিয়ে করলেন , অথবা আপনার বাথরুমকে লর্ডসের ক্রিকেট পীচ বানিয়ে ফেললেন ।
তাহলে আপনিই আমাকে বলেন আপনার পক্ষে কতদিন এই place এ টিকে থাকা সম্ভব ?

ঠিক তেমনি ভাবে বর্তমানে ‘সরকার ‘ নামক place এ থাকা শেখ হাসিনা এবং তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের ভাল ধরনের ‘কুড়কুড়ানির’ অসুখে ধরেছে যে কারণে তারা এখন শেয়ার কেলেঙ্কারিতে ব্যস্ত , খুন-ধর্ষণে ব্যস্ত , ব্যস্ত সিন্ডিকেট ব্যবসায় । এই কারণেই আমার বিশ্বাস , তারা হয়তবা বেশ কিছু দিনের ভিতরেই Non place এর চেহারা দেখতে যাচ্ছে ।

আর আমাদের জনগনদের কাজ হচ্ছে বি.এন. পি. – আওয়ামীলীগের এই place-Non place এ যাতায়াত দেখা এবং তাদেরকে এই যাতায়াত এর কাজে সর্বাধিক সাহায্য-সহযোগিতা করা ।
বি. দ্র . জন নেত্রী-দেশ নেত্রী উল্টা-পাল্টা করে ফেলেছি কিনা বলতে পারবো না ।