ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

বর্তমান দেশের পরিস্থিতি নিয়ে মোটামুটি সবাই খুব চিন্তিত । সবাই প্রচন্ড ব্যস্ত বর্তমান সময়ের বিভিন্ন ‘হট কেক’ নিয়ে আলোচনা -সমালোচনায় । সবাই মহা ব্যস্ত এই সকল ‘হট কেক’ নিয়ে লেখা-লেখিতেও। সব মিলিয়ে সবাই এখন ভীষণ ব্যস্ত ‘হরতাল’ , ‘ইলিয়াছ আলী’ , ‘বাসে আগুন ‘ , ‘সুরঞ্জিত বাবু’ , ‘সাগর-রুনি’ সহ বহু ‘মুভির’ (লিঙ্ক) দৃষ্টিনন্দন উপস্থাপনা নিয়ে যুক্তি নির্ভর আলোচনা- সমালোচনায়।

আমার মতো হয়ত বা অনেকেই এই একই রঙ্গ-মঞ্চের ( লিঙ্ক) নাটক ( যদিও নায়ক-নায়িকার নিয়মিত পরিবর্তন আছে ) দেখতে দেখতে ক্লান্ত-শ্রান্ত ।

আজকে তাদের জন্য একটি চমৎকার কাজের সন্ধান দিচ্ছি । তার আগে কাজের আইডিয়াটা কোথা থেকে পেলাম তা একটু করে জানাচ্ছি। গত ২১ এপ্রিল ব্লগার সিয়াম সারোয়ার জামিল এর এই লিখাটি পড়ছিলাম। [লিঙ্ক]

দেখলাম বহু জন তার এই পোস্টে মন্তব্য করে বুঝাতে চেয়েছেন যে তারা বর্তমান তরুণ সমাজের এহেন অবক্ষয়ে যারপরনাই চিন্তিত, অনেকে অনেক চমৎকার (!) সব সমাধানের কথা ও বলেছেন, খুবই চমৎকার সমাজ-সচেতনতা!

আমার কাছে সমাধানগুলো পড়ার পড়ে মনে হয়েছে ‘কোন গাছের পাতায় রোগ হলে গাছের গোড়ার সমস্যা না দেখে গাছের ওই পাতা নিয়ে মাতামাতি করার’ মত অবস্থা। আমি লেখককে একটি পরামর্শ দিতে চাই, সেটি হল: ভাই সারোয়ার আপনি ”বাচ্চারা পর্ণ ছাড়া ভাত খেতে চায় না” এই নামে আরেকটি পোস্ট অদূর ভবিষ্যৎ এ লিখার জন্য প্রস্তুতি নেন ।

কারণ বর্তমান সমাজের বাবা-মায়েরা ‘পুঁজিবাদ’ নামক দৈত্যটির ক্ষুধা মেটাতে এতটাই ব্যস্ত যে , না তাদের নিজেদের মধ্যে ভাল ভাবে দেখা-সাক্ষাত হয় না তারা তাদের বাচ্চাদের ঠিকভাবে সময় দিতে পারে ।

অন্যদিকে প্রতিদিনই সবুজ মাঠ ধ্বংস করে গড়ে উঠান হচ্ছে বিশাল- বিশাল দালান-কোঠা। সুতরাং দেখা যাচ্ছে আমাদের এই প্রজন্মের বাচ্চাদের বিনোদনের শেষ আশ্রয় স্থল হচ্ছে সেই জাদুর বাক্স ‘কম্পিউটার’ সাথে ইন্টারনেট কানেকশন ।

তারা না পাচ্ছে তাদের মা-বাবাকে কাছে না পাচ্ছে মুক্ত বাতাসে সবুজ মাঠে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ , এবং এরই ফলশ্রুতিতে এই সকল বাচ্চারা বিভিন্ন অসুস্থ সংস্কৃতিতে আগ্রহী হয়ে উঠছে ।

হ্যাঁ! অনেকেই হয়তবা বলবেন সপ্তাহে একদিন মা-বাবার তাদের বাচ্চাদের নিয়ে বিভিন্ন ‘কিংডম’ এ যাওয়ার কথা অথবা দামী দামী ‘Day care’ সেন্টার এ বাচ্চাদের রাখা (এখন তো এইটা আবার সামাজিক মূল্যায়নের ও একটি উপায় হয়ে পরেছে ) ।

আমি এই সকল বিনোদনকে তুলনা করব চিড়িয়াখানায় বাঘকে খাচায় আটকিয়ে রেখে তাকে ভাল ভাল খাবার-দাবার দেওয়ার সাথে ।

আমার জন্ম খুব বেশি দিন আগে নয়, ৮৯’এ । তবু ও আমি আমার ছোটবেলায় মুক্ত বাতাসের স্পর্শ পেয়েছি, সারা সকাল-বিকাল সবুজ মাঠে দাবড়িয়ে বেরিয়েছি আবার রাতে মায়ের কাছে শুনতে পেরেছি বিভিন্ন রূপকথার গল্প ।

আর এখনকার দিনে রূপকথা? ভাবা ও মুশকিলের বিষয় ।

আস্তে আস্তে রূপকথার গল্পগুলো ও সব হারিয়ে যাচ্ছে ( ‘old school’ এর ‘আজ রাতে কোন রূপকথা নেই’ গানটির মত )

এখন আসি আমার সেই চমৎকার কাজের কথায়। কাজটি হচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাচ্চাদের জন্য কিছু রূপকথার গল্প সংগ্রহ করা।আপনাদের বলার আগে আমি নিজেই যেমন সংগ্রহের উদ্দেশে কিছু জনপ্রিয় রূপকথার গল্প লিখা শুরু করেছি তার কিছু নমুনা ছবি নিচে শেয়ার করলাম:

আজকের মত এইটুকু আজাইরা ফাজলামো করেই পালাচ্ছি ।