ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে যে সকল বীর বাঙ্গালী সরাসরি বা বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছিল তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে দুই একটি প্রাসঙ্গিক কথার অবতারণা করতে চাই। আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি অনেক ত্যাগের মাধ্যমে। সেই সময়ে এদেশের জনগণ যেভাবে নিজের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিল তাদের কোন প্রশংসায় হয়ত আমার দ্বারা প্রকাশ পাইলে তা ধৃষ্টতা ছাড়া আর কিছুই না। কেননা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জন্ম নেওয়া কোন মানুষের পক্ষে প্রশংসা করার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বা প্রশংসার প্রাপ্তিতে ঘাটতি থাকতে পারে। প্রবীণদের কাছ থেকে এবং ইতিহাস পড়ে যতটুকু জানা যায় তার উপর পুঁজি করেই বর্তমান প্রজন্ম গর্ব অনুভব করেন। আমার ধারনা মতে অনেক দেরিতে হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে। এখনকার মানুষের গড় আয়ু যেখানে ৬৫ বছর সেখানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ৪০ বছর পরে করা ঢের বেশী বৈকী ! আমাদের অহংকার মুক্তিযোদ্ধাদের একান্ত ইচ্ছা ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং শাস্তি দেখে যাওয়া। আমরা সেটা করতে পারেনি। বর্তমানে যেসব সময়ের যোগ্য সন্তান জীবিত আছেন তারাও দেখে যেতে পারবেন কিনা সে বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে ! যেভাবে সেই কুলাঙ্গারদের বাঁচানোর প্রক্রিয়া চলছে তাতেই আমার এই সন্দেহ। আমাদের দেশের বর্তমান রাজনীতিতে যেসকল রাজনৈতিক দল ছিল তার প্রায় সবগুলোই স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিল। তবে একটি দলের ঐ সময়ের সব নেতৃত্ব বা পুরা দলটিই স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল দেশে কিংবা বিদেশে, স্ব-শরীরে বা অন্য কোন মাধ্যমে । আজ তাদের বিচার করা হচ্ছে যারা নাকি নিজ দেশের ভাইবোনদেরকে তুলে দিত পাক-হানাদার বাহিনীর হাতে। মা-বোনদেরকে হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হতো ভোগের সামগ্রী হিসাবে । আজ আবার তাদের মুখেই ইসলামের বাণী খৈইয়ের মত ফুটতে দেখা যায়। বোধদয়টা আগে হলে কি ভাল হতো না ? যাহোক অন্যায় তো করেছেন। তার শাস্তি আপনাদের পেতেই হবে। বর্তমান বড় দুইটি রাজনৈতিক দলেরই স্বাধীনতার যুদ্ধে স্বরণীয় ভূমিকা ছিল। কেউ বা একটু বেশী ভূমিকা রেখেছে কেউ একটু কম। এটায় নিয়ম কেননা সবাই সর্বোচ্চ নেতার আসন তো একটিই হয়। এখানে দুইজনকে বসানোর কোন সুযোগ নেই। আসলে সেই সময়ের নেতৃত্ব সময়ের সন্তান। সেদিনে যদি শেখ মজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান না থাকত তাহলে বিধাতা হয়ত তাঁদের মতই কাউকে প্রেরণ করত অবহেলিত জাতীকে উর্ধ্বার করার জন্য। এ সুযোগটা বিধাতায় উনাদেরকে দিয়েছিলেন। আজ এটাকে পুঁজি করেও আমরা নোংরা রাজনীতিতে মত্ত। বর্তমানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে সামনে রেখে যে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে তা হয়ত কোন বিদেশী কুচক্রী মহলের চাপে পড়ে বা দেশের মধ্যে কিছু সুবিধাভোগীরাই এ কর্ম সাধন করছে। যখনই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হওয়ার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হলো তখনই পিলখানার ঘটনা, তখনই বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে অরাজকতা, পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তুষ্টি, কিছু বিপথগামী সেনা সদস্যদের সাথে নিয়ে সামরিক অভ্যূত্থানের চেষ্টা, হত্যা-গুম,রাজপথ রক্তাক্তকরণ,সাংবাদিক হত্যা, বিদেশীদের কাছে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশকে পরিচিত করার অপপ্রয়াস ইত্যাদি আরও কত কিছু।
আজ আমার বড় দুই দলের নেতৃত্বর কাছে প্রশ্ন- ভেবে দেখুন দেশ যদি স্বাধীন না হতো রাষ্ট্রদ্রোহীতার দ্বায়ে বর্তমান প্রধান দুই দলের প্রবক্তাদের কি হতো। আমার মনে হয় আর কারও কিছু না হলে উনাদের দুই জনকেই ফাঁসি দেওয়া হতো । আর তখন আপনারা ও গর্ব ভরে তাঁদের স্বরণ করতে পারতেন না বা তাঁদেরকে পুঁজি করে রাজনীতিও করতে পারতেন না। তাদের নিয়ে আপনারা যে রাজনীতি করেন তাতে আমার মনে হয় তাঁদের আত্মা কষ্টই পাই বটে। তাঁরা আপনাদেরই আপন জন এটা ভাববেন না, তাঁরা বাংলাদেশের সমস্ত দেশপ্রেমিক জনগনের আপনজন। জনগনের অধিকার আছে তাদের নেতাদের সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত রাখার ! আপনাদের ব্যক্তিগত অর্জন দিয়ে জনগনের দ্বারে জান। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কোন সরকারের আমলে শুরু হলো,কে করল তা মুখ্য নয়। মুখ্য হলো দেশের মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের উপযুক্ত বিচার দেখতে চাই। বিচারের রায় কার্যকর হোক তাও দেখতে চাই । দুইজন ইতিহাসের মহানায়কের আত্মা শান্তি পাবে। শান্তি পাবে সেই সব শহীদ ভাই ও বোনেরা, শান্তি পাবে জীবিত সব মুক্তিযোদ্ধাগণ, শান্তি পাবে দেশপ্রেমিক জনগণ।একটি কাল ইতিহাসের সমাপ্তি হবে। তা না হলে কাল সাপের ছোবল জনগণকে আবার গ্রাস করবে যার নমুনা কিছুটা হলেও বর্তমানে পরিলক্ষিত হয় ।

আসুন সব রাজনৈতিক দল, দেশের সকল জনগণ, বিদেশী বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রসমূহ – সকলের সার্বিক সহযোগিতায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সুষ্ঠভাবে সম্পূর্ণ হোক এই হোক আমাদের অঙ্গিকার ।