ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

 

মা আমার মা। সুন্দর এই পৃথিবীটাকে দেখাতে যিনি দশ মাস দ্শদিন গর্ভে ধারণ করেছিলেন!

মায়ের প্রতি আজ আমরা উদাসিনী। কর্ম ব্যস্ততার অজুহাতে আমরা মাকে একটি বার ও স্মরণ করি না। মায়ের কাছ থেকে দুরে দুরে থাকি। আবার বাসায় জায়গা ছোট, মা থাকলে জায়গা কমে যাবে বলে মাকে রেখে আসি বাড়িতে। দেখতে যাইতো নাই-ই, দিনে না হোক মাসে একবার মাকে ফোন পর্যন্ত করি না। মা কষ্টে আছে না সুখে আছে তা না জানলেও শাশুড়ি মাকে নিয়ে ব্যস্ত সময় তো কাটাতেই হয়। নইলে কি আর রক্ষা আছে? তবুও মা আমাকে দোয়া করেন, আমার সন্তান যেন ভাল থাকে! সুখে থাকে। ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে আমাদের দেশে। বেশ কিছুদিন আগে সাবেক বন বিভাগের মহাপরিচালক যখন অর্থ কেলেংকারিতে অভিযুক্ত হয়ে জেল খানায় ছিলেন তখন তার মা (অভাগী) যিনি কিনা সন্তানের মুখ বছরে একবার দর্শন করতে পারেননি, ছেলের বাসায় যাওয়া নিষেধ ছিল, খাবার জোগাড়ের জন্য মেহনত করতে হত তিনি ছেলের অবস্থার কথা মানুষের মুখে শুনে ছুটে গিয়েছিলেন জেল খানায় নাড়ি ছেঁড়া ধন সন্তানকে দেখতে। মায়ের ছেঁড়া ব্লাউজ তখন ও শোভা পাচ্ছিল। আর ঐ মায়ের সন্তানের বাসায় চাউলের ড্রামে ১৭ লক্ষ টাকা পাওয়া যায়। সম্ভবত সর্বমোট ৮৩ লক্ষ টাকা নগদ বাসায়ই পাওয়া যায়! – মা তুমি শুনে রেখ তোমার সন্তানের অর্জিত অর্থ আসলেই তোমার দরকার ছিল না তা হয়ত বিধাতা জানতেন! আর তাই হয়ত তোমাকে মেহনত করে এখনও খাইতে হয়!

অনেক উদাহরণ তো আছে। কিন্তু উদাহরণকে উদাহরণ হিসাবে শিকায় তুলে না রেখে আজ ভাববার সময় এসেছে । আজ বিশ্ব পরিবার দিবস পালন করা হয়! কেন হয়? দরকার কি ছিল? আমার মনে হয় ছিল না। ধর্মীয় বলেন বা মানবিক দায়বদ্ধতায় বলেন যদি আমি বা আমরা যদি আমাদের মা বাবাকে নাই-ই দেখলাম তাহলে কি হবে? আমার সন্তান, বউ, শাশুড়ির পরিবার কি আমাকে উদ্ধার করবে? মনে হয় না, করবে না। উদাহরণ পাইতে হলে জাদু ঘরে গেলেও পাব না।

আমাদের দায়বদ্ধতাকে আমরা এড়িয়ে যেতে চাইনা। মাকে মা বলে দিনে একটি বার হলে ও ডাকতে চাই। মা তুমি কেমন আছ ? তোমার কোন কষ্ট হচ্ছে না তো ! তোমাকে আমার কাছে না রাখতে পারলে ও তোমার অভাব যে আমি বোধ করি তা মাকে বোঝাতে হবে। আমাদের অনেকেরই সামর্থ্য হয়ে ওঠে না মাকে নিজের কাছে কাছে রাখা । তো মোবাইল বা টেলিফোনে মাকে খোঁজ নিব। সব মা-ই আমার মা। সব মাকেই শ্রদ্ধা করি। তোমাকে ছেঁড়ে যেখানেই আছি তুমি আমার সাথেই আছ, থাকবে সব সময়।