ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

হয়তবা আমাদের ঈদ হবে নানা আয়োজনে, আর ওদের দিনটা কাটবে পথে পথে ঘুরে। আমরা কী পারিনা ওদেরকে নিয়ে ভাবতে? আনন্দময় একটি ঈদ উপহার দিতে?

ঈদ মানে খুশি। শুধু খুশি নয়, মহাখুশির উৎসব। সেই ঈদে মানুষ সামর্থ্য অনুযায়ী প্রাণ খুলে কেনাকাটা করবে, এটাই স্বাভাবিক। না করাটাই বরং দুঃসংবাদ। প্রতিবারের মত এবারের ঈদেও আনন্দ-উৎসব না করারও দুঃসংবাদ আছে।

বড়দের তুলনায় ছোট শিশুরাই এই দিনে নতুন পোশাক পরে বেশি আনন্দ পায়। জামাকাপড় পাওয়া, কে কটা পেল, সেসব লুকিয়ে রাখা, কত যে প্রস্তুতি তাদের। ঈদের রাতটা যখন বেড়ে যেতে থাকে, তখন তারাই দুঃখ পায় সবচেয়ে বেশি, ইস, ঈদটা চলে গেল। বেশিরভাগই দেখা যায়, ধনী পরিবারের শিশুরা ঈদের দুই থেকে তিন সেট পোশাক কিনে। নতুন পোশাক পরে ঈদের সকালে আনন্দে মেতে ওঠে। অথচ তাদেরই অনেক প্রতিবেশী গরিব, এতিম, শ্রমিক শিশুরা নতুন জামা তো দূরের কথা বরং ছেঁড়া পোশাক পরে অতি দুঃখে ঈদের দিনটা কাটায়। এদের দিকে কেউ একটু দয়ার দৃষ্টি দেয় না। এটা ঠিক নয়, এদেরও তো আমাদের মতো ঈদের আনন্দ উপভোগ করার অধিকার আছে। কিন্তু তারা এই অধিকার পেয়েও অধিকারকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছে না। কারন তারা সমাজে দুর্বল, অনাথ, এতিম। কোথায় পাবে নতুন পোশাক কেনার অর্থ এসব শিশু তারাতো অর্থনৈতিক দিক থেকে একেবারে নিঃস্ব। তাই আমাদের কর্তব্য হলো নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী তাদেরকে সাহায্য করা। নিজেদের শিশুদের জন্য পোশাক কেনার সময় অল্প কিছু অর্থ বাঁচিয়ে প্রতিবেশী গরিব শিশুদের জন্যও কিনে তাদের মলিন মুখে হাসি ফোটানো। যেন তারাও সকলের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে ঈদ উৎসবে সাড়া দিতে পারে।

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত ও আনুগত্যের উজ্জ্বল মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগ ও খুশির বার্তা নিয়ে আসা মুসলমানদের দ্বিতীয় এই বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব। অনাথ, গরিব, শ্রমজীবি এই দুখী শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর কথা স্মরণ রাখার উদ্দেশ্যেই এই পোস্ট। ঈদ বয়ে আনুক সাম্য, শান্তির বার্তা আমদের সকলের জীবনে – এই কামনায়।