ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে সকল বইতে তাঁর বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাগুলো লিপিবদ্ধ করে গেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ” রাশিয়ার চিঠি ” (১৯৩১) | রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সোভিয়েত সরকারের আমন্ত্রণে ১৯৩০ সালের সেপ্টেম্বরে রাশিয়া গিয়েছিলেন | সেখানকার অবস্থা দেখে যে চিঠিপত্র তিনি লিখেছিলেন সেগুলোই তার রাশিয়ার চিঠি নামে পরিচিত |

১৯১৩ সালের আগে রাশিয়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম বলতে গেলে কারোরই জানা ছিল না | কিন্তু ১৯১৩ সালে বাঙালী এই কবির নোবেল পুরস্কার পাওয়াতেই অবস্থা যারপরনাই পাল্টে যায় | প্রায় রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | ১৯১৩ সালেই গীতাঞ্জলির ইংরেজি অনুবাদ রুশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিল |

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রাশিয়ার চিঠিগুলোতে ১৯৩০ সালে অর্থাৎ বিপ্লবের মাত্র তের বছর পর সেখানকার অবস্থা দেখে অভিভূত হয়েছিলেন | সেই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার কিছু প্রশংসা ও সমালোচনাও করেছিলেন | ১৯৩০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মস্কো ত্যাগের আগে ইজভেস্তিয়া (খবর) নামের রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্রের এক সাংবাদিকের কাছে সাক্ষাৎকার দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর | অন্যান্য বিষয়ের ভেতর তিনি বলেন, ” যেখানে মন উন্মুক্ত, সেখানে মতভিন্নতা থাকতে পারে | শক্তি প্রয়োগ করে আমাদের সবার চিন্তাধারাকে এক রকম করে ফেললে সেটা যান্ত্রিক নিয়মতন্ত্রের কেবল কৌতূহলহীনই নয়, বরং বন্ধ্যা জগতে পরিণত হবে | আপনাদের যদি গোটা মানবজাতিকে নিয়ে কোনো মিশন থাকে, সেই জীবিত মানবজাতির স্বার্থেই মতের ভিন্নতার অস্তিত্ব মেনে নিতে হবে | মতামত সারাক্ষণ বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তির অবাধ প্রবাহ ও নৈতিক তাগিদের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে চলেছে | সহিংসতা শুধু সহিংসতা ও অন্ধ নির্বুদ্ধিতারই জন্ম দেয় | সত্যকে স্বাগত জানাতেই মনের স্বাধীনতা প্রয়োজন, ত্রাস তাকে অসহায়ের মতো হত্যা করে ” |

প্রথম চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “আমাদের সকল সমস্যার সবচেয়ে বড় রাস্তা হচ্ছে শিক্ষা | এতকাল সমাজের অধিকাংশ লোক শিক্ষার পূর্ণ সুযোগ থেকে বঞ্চিত, ভারতবর্ষ তো প্রায় সম্পূর্ণই বঞ্চিত | এখানে এই শিক্ষা যে কী আশ্চর্য উদ্যমে সমাজের সর্বত্র ব্যাপ্ত হচ্ছে তা দেখলে বিস্মিত হতে হয় | শিক্ষার পরিমাণ শুধু সংখ্যায় নয়, তার সম্পূর্ণতায়, তার প্রবলতায় | কোন মানুষই যাতে নিঃসহায় ও নিষ্কর্মা হয়ে না থাকে, এজন্য কী প্রচুর আয়োজন ও কী বিপুল উদ্যম | ওই শ্বেত রাশিয়ার জন্য নয়, মধ্য এশিয়ার অর্ধসভ্য জাতের মধ্যেও এরা বন্যার মতো বেগে শিক্ষা বিস্তার করে চলেছে; সায়েন্সের শেষ ফলন পর্যন্ত যাতে তারা পায় এজন্য প্রয়াসের অন্ত নেই | এখানে থিয়েটারে ভালো ভালো অপেরা ও বড় নাটকের অভিনয়ে বিষম ভিড়, কিন্তু যারা দেখছে তারা কৃষি ও কর্মীদের দলের | কোথাও এদের আবাসন নেই | ইতিমধ্যে এদের যে দুই-একটা প্রতিষ্ঠান দেখলুম সর্বত্রই লক্ষ্য করেছি, এদের চিত্তের জাগরণ এবং আত্মমর্যাদার আনন্দ “|

মোট ১৩টি চিঠি এবং উপসংহারে তিনি রাশিয়া সম্পর্কে তাদের অর্থনৈতিক নির্মাণ, মানবিকতা, সাম্যচিত্ত জাগিয়ে তোলার নানা শিক্ষাগত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অনেক কিছু লিখেছিলেন, যা দারুণভাবে পাঠযোগ্য |

” রাশিয়ার চিঠি ” পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সোভিয়েত রাশিয়া সফরকালীন তাঁর কয়েকটি চিত্র :

আজ ২২শে শ্রাবণ | প্রকৃতি ও বিশ্বকে কাঁদিয়ে কবি গুরুর চলে যাওয়াতে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম শ্রদ্ধা জানিয়েছিলে তাঁর স্বকন্ঠে আবৃত্তিতে :-