ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

আজ লিখতে বসলাম এক বুক কষ্ট নিয়ে। তার পূর্বেও যে এই কষ্টের শিকার হই নাই তা কিন্তু নয়। ইতি পূর্বে  বহুবার এই হয়রানির শিকার হয়ে থাকলেও চা খাওয়ার অধিকারটা ছিল।কিন্তু আজ আবার অবসর এর শেষ সম্বল, মানে আমার প্রিয় বন্ধুদের সাথে বসে চা খাওয়ার অধিকারটা পুলিশ কেড়ে নিলো। জানি না কেন, আমার-ই বা কী অপরাধ বা ঐ মানুষ-দের-এই বা কী অপরাধ। আরে বাবা! আপনাদের ক্ষমতার লড়াইয়ে, আমরা আম-জনতা আমার কী করলাম? আপনাদের রোষানলের আগুনে বা না পাওয়ার বেদনায় আমাদের কেন কষ্ট পেতে হচ্ছে?

যখন বাহিরে ছিলাম তখন পুলিশ প্রায় পাসপোর্ট চেক করত ভিসার মেয়াদ আছে কিনা এটা জানতে। আমার প্রথম দিন, কাম্পাস এ  গিয়ে ছিলাম পাসপোর্ট ছাড়া, তখন পুলিশ বলে ছিলও এটা নিজের দেশ না; যখন –ই বাহিরে আসবে পাসপোর্ট বা তার ভিসা কপি সাথে রাখবে, সেই সাথে স্টুডেন্ট আইডি, কিছু প্রশ্ন শেষে। তখন, মনে মনে  বলে ছিলাম, হায়রে বিদেশ! কত পরাধীন আমি এখানে। যাই হোক তার পর থেকে আর ভুল হয় নাই, যত বারই পুলিশ চেক করেছে ভিসা ও প্রশ্নের উত্তর  ঠিক ছিলও। আর যাদের ভিসা ঠিক ছিল না তাদের ধরে নিয়ে যেত বা ইউনিভার্সিটিতে ফোন করত। যাই হোক এটার না হয় একটা কারণ ছিলও বিদেশি বলে, কিন্তু আমার দেশে এটা কী হচ্ছে? রাস্তায় বের হওয়াই মুশকিল। এক দিকে অবরোধ অন্য দিকে পুলিশের হয়রানি চেক করার নামে। এই সেদিন আমি আর আমার মামা অফিস এ যাচ্ছি রিক্সায় করে কারণ হরতাল, মাজ পথে পুলিশের বাঁধা, হয়রানি করলো চেক করার নামে। তার আগেও বহু বার আমি এই হয়রানির শিকার হয়েছি, আমার এলাকা শনির –আখড়ায়। তখন চা খেতে খেতে বন্ধুদের বলে ছিলাম, এই কথা তখন তাড়া বলে চিলাম সাবধান থাকিস, কারণ পুলিশ তোর পকেট এ বাবা দিয়ে তোকেই ফাসাবে টাকার জন্য। যদিও প্রথম বুজতে কষ্ট হলও ওদের কথা কারণ আট বছর দেশে ছিলাম না। কিছুক্ষণ পর ঘোর কাটল, তখন বুজলাম ওদের কথার অর্থ। কী ভয়ানক !

আজ বিকালে যেটা হলও, প্রতিদিন যেখানে আমরা বসে আড্ডা দেই আর চা খাই, সেই এলাকা মানে শনির আখড়ায়, পুলিশ চেক করার নামে, অনেক নিরিহ মানুষ কে দরে নিয়ে গেল। তাদের অপরাধ কী, কেউ জানে না। আমার সামনে ঘটনা মানুষ যাচ্ছে আর পুলিশ তাদেরকে দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন করছে, কথায় না মিললে গাড়িতে নিয়ে যাচ্ছে। কিছুই বুঝলাম না, হয়ত আমার বোঝার বাহিরে ঐ বাবার মতো। বিনিময়ে যেটা হল, আমার ফ্যামিলি লাল বাতি জ্বালল আমার বাহিরে গিয়ে  বন্ধুদের সাথে চা খাওয়ার ব্যাপারে, এই কাহিনি শোনার পর।

আমি জানি আমার এই ক্ষুদ্র লেখা সরকার বা পুলিশ প্রশাসনের কেউ পরবে না, তারপরও বলছি। আমি কি জানতে পারি কেন আমি এই স্বাধীন দেশে স্বাধীন ভাবে চলার বা বেঁচে থাকার  এই নুন্যতম অধিকার টুকু হারালাম? আর কত লাশ পরলে বা মানুষ পুড়লে  আপনারা আমাদের মতো সাধারন মানুষকে নিয়ে খেলা করা বন্ধ করবেন?

পরিশেষে একটা কথা বলতে চাই, জানি আপনাদের তাতে কিছু যায় আসে না, তারপর ও বলবো সাধারণ জনগণ আপনাদের ক্ষমতা দেয় নাই, দিয়েছে দায়িত্ব আর সেটা সঠিক  ভাবে পালন করুণ।