ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

**কে এম ওবায়দুর রহমান – একসময়ের বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট এবং আওয়ামীলীগের শীর্ষ সারির অন্যতম এক নেতা। ৭৫ এর পর মোশতাক-জিয়ার মন্ত্রী।হতে পেরেছিলেন বি এন পি’ র স্বল্পকালীন মহাসচিব ও। শেষ জীবনে হয়েছেন বি এন পি’র অবজ্ঞা-অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার। বেঈমানী না করে আওয়ামীগে থাকলেও,অবশ্যই তিনি এর চেয়ে কম কিছু হতেননা বা পেতেননা।

** ফজলুর রহমান পটল – রাজশাহী বিশ্ববিদ্বালয়ের তুখোড় ছাত্রলীগ নেতা। ছিলেন রাকসুর জি এস ও। অনলবর্ষী বক্তা ও চরম মুজিব বাদি এই নেতা,বিএনপি’ তে ডীগবাজি দিয়ে ,আওয়ামীলীগ এবং বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে এমন হীন ও কঠোর ভাষা ব্যবহার করতে থাকেন,যা কিনা বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগের চরম শ্ত্রুর কন্ঠে ও কোনদিন উচ্চারিত হতে শুনা যায়নি। বিনিময়ে দুই দুইবারের ক্ষমাতাকালেও, কেবলমাত্র তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ন এক মন্ত্রনালয়ের প্রতি মন্ত্রীর গন্ডিই তিনি পার হতে পারেননি। উত্তরাঞ্চলের উদিয়মান একদার এই আওয়ামীলীগ নেতা, দলীয় রাজনীতিতেও (স্থানীয় এবং জাতীয়) ছিটকে রয়েছেন তার তুলনায় কোথাকার কোন ‘দুলু-ভুলু’ র পিছনের অবস্থানে। ডিগবাজী না দিয়ে বরং আওয়ামীলীগে থাকলেই এতোদিনে এই নেতা হয়তো হতে পারতেন, উত্তরাঞ্চলের এক অবিসংবাদিত আওয়ামীলীগ নেতা। পুরা মন্ত্রীও হয়ে যেতেন কবেই। আর রাজনীতিতে সন্মানেও থাকতেন অনেক শীর্ষে।

**শাহজাহান সিরাজ – মহান স্বাধীনতার ইশ্তেহার পাঠক (মূল্যায়নে যা কি না মেজর জিয়ার বহুল কথিত সেই বেতার ঘোষনা পাঠের চেয়েও সামনের সারির,অনেক গুরুত্বপূর্ন ও বড় মাপের ব্যাপার), স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে বহুল আলোচিত ‘চার খলিফা’ খ্যাত এক খলিফা,মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা কারী সরকারের ১৩ নং ক্রম-সংখার ব্যক্তিত্ব (জনাব লতিফ সিদ্দিকীর এক লেখা থেকে পাওয়া),যার অবস্থান বিএনপি’র স্রষ্টা জেঃ জিয়ার ও উপরে। সেই শাহজাহান সিরাজ খালেদা জিয়ার আঁচল ধরে বিএনপি তে ডিগবাজি দিলেন, নামকাওয়াস্তে এক প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিয়ে।(পাঠক চলুন বলি -সেইম,সেইম)। এর পর তিনি নিজের বৌ-ছলে-মেয়েএবং মেয়ে জামাই সহ,গলার রগ ফুলিয়ে শুরু করেন বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামীলীগের কঠোর সমালোচনা। বিনিময়ে পদোন্নতি পান,বন বা মৎসের মতো পূর্ন মন্ত্রীত্বে। এহেন শাহজাহান সিরাজ এখন বেগম জিয়ার দলে টিকে আছেন অপাংতেয় হয়ে কোন রকমে,কোথাকার কোন মির্জা আব্বাস এবং গয়েশ্বর রায়ের (একদার শাহজাহান সিরাজের তুলনায় ‘কোথাকার কোন’ই তো বটে) ধমক হজম করে।এই শাহজাহান সিরাজ যদি আওয়ামীলীগে থাকতেন বা তার নীতি ও আদর্শের সাথে অবিচল ও থাকতেন,তাহলে মন্ত্রী-প্রেসিডিয়াম তো বটেই,না হলেও জনমানূষের কাছে থাকতেন ‘রাজ্জাক-তোফায়েল-মেনন’ প্রমূখদের মতো কিংবদন্তীর আসনে আসীন।

**মুনিরুল হক চৌধুরী- ছাত্রলীগের একসময়ের ডাক সাইটে ও অন্যতম শীর্ষ নেতা। আওয়ামীলীগের ও প্রভাবশালী একজন। হটাৎ হয়ে গেলেন দুই নং সামরিক শাসক এরশাদের সহচর।পরের ডিগবাজীতে বেগম জিয়ার আঁচলের নীচে। “কাউকে জাতির পিতা বানানোর জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি-দেশ স্বাধীন করিনি”-হতবাক হওয়ার মতো এমন ভয়ানক কথাও বলেও তিনি বড়জোর একজন হুইপ পর্যন্ত হতে পেরেছেন।দলের মধ্যেও তার অবস্থান হাজার পাওয়ারের বাত্তি জ্বালায়েও খুজে পাওয়া কঠিন। আওয়ামীলীগে থাকলেই বরং একাদার এই ডাকসাইটে নেতার স্থান হতো দলের প্রভাবশালী নেতা-মন্ত্রী -প্রেসিডিয়ামে। জায়গা করে নিতেন কুমিল্লা অঞ্চলের অবিসংবাদিত আওয়ামীলীগ নেতার আসনেও।

আমদের একশ্রেনীর ‘বাম’ রা চিরকালই আওয়ামীলীগ বিদ্বেষী। নিজের দুটো চোখের বিনিময়ে হলেও,আওয়ামীলীগের অন্তত একটা চোখ নষ্ট হোক-এমনটিই তাদের আজন্ম চাওয়া। তাই এরা পঁচলে,টুপি মাথায় দিয়ে মৌলভী ও চরম প্রতিক্রিয়াশীল হয়। জনভিত্তিহীনতার কারনে ক্ষমতাদখলকারী সামরিকশাসক সহ,নানান অপশক্তির তল্পিবাহক হয়ে ক্ষমতার স্বাদ নেয়। ক্ষমতা দখলকারী অপশক্তি আওয়ামীবিরোধিতার কাজে ব্যবহার করার জন্য এদেরকে লুফেও নেয়। আমাদের রাজনীতিতে এমন দৃষ্টান্ত অনেক। কিন্তু আওয়ামী ঘরানার অতি জনপ্রিয়,বলিষ্ট স্মরনীয় এক সংগ্রামী ঐতিহ্যের অধিকারী এবং প্রতিশ্রুতিশীল এইসব নেতাদের,নিজের পায়ে কুড়াল মারার এমন মতিগতি হলো কি করে!!! বাঙ্গালির সংগ্রাম-ঐতিহ্যের উজ্জ্বল তারকাতুল্য এইসব নেতাদের জন্য সত্যিই দুঃখ হয়,করুনা হয় !! যে কোন দলেই,যে কোন অবস্থাতেই থাকুননা কেন দেশের মানূষ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের এইসব শীর্ষ সূর্য-সন্তানদের প্রতি যথাযথ সন্মান ও শ্রদ্ধা পোষন করতে চায়,করা উচিত ও। কিন্তু কথা হলো সন্মান ও শ্রদ্ধা অর্জন করার পর তা ধারন করার এবং অর্জিত সন্মানকে হেফাজত করার ও যোগ্যতা দরকার। এতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন এবং নিজেদের ঐতিহ্য,অর্জিত উচ্চাসন নিজেরাই ধূলোয় মিশিয়ে দিয়াছেন।

এদেশের প্রথম সেনাপতি শাসক জেঃ জিয়াউর রহমান,আইয়ূব খান স্টাইলে দখল করে, নিজের অবৈধ ক্ষমতাকে হালাল ও আরো পাকাপোক্ত করার মতলবে, ক্ষমতা দখলকারী দুনিয়ার তাবৎ সামরিক শাসকদের চিরাচরিত কায়দায়,রাজনীতির মঞ্চে পদার্পন করেন। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও অর্থের অপব্যবহারে সারাদেশব্যাপী চষে বেড়িয়ে,ঘাপটি মেরে থাকা ৭১ এর পরাজিত শক্তি-রাজাকার,আলবদর,কুখ্যাত শান্তি কমিটির লোকজন তথা ডান-বাম নির্বিশেষে সকল আওয়ামীবিরোধী মহলকে একত্রিত করেন এবং ক্ষমতার অভিলাষ চরিতার্থে,এদের সমন্বয়ে,আওয়ামী বিরোধিতাকে পুঁজি ও মূল আদর্শ করে, স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানি মুসলীমলীগের প্রেতাত্না হিসাবে জন্ম দেন বি এন পি নামক এই দলটির। একজন বীর মুক্তি যুদ্ধা হয়েও পরিনত হন,আওয়ামীলীগ তথা স্বাধীনতা বিরোধী দেশী-বিদেশী চক্রের একজন নির্ভরযোগ্য এবং সফল ক্রীড়নকে।

কালের চক্রে পরবর্তিতে নানান কারনে,নানান সমীকরনে,নানান সময়ে,অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের লোক সহ,নানান মত ও পথের লোকের সমাবেশ এই দলটিতে ঘটলেও, দলটির মূল ধারা ও চাবি-কাঠি ছিল,আছে এবং থাকবেও,দেশী-বিদেশী ৭১ এর পরাজিত শক্তি এবং তাদের দোসর ও বংশবদদের হাতে। এর উপর চরম একক কতৃত্ববাদী এই দলটির উত্তরাধিকার সূত্রে বর্তুমান কর্ণধার বেগম জিয়ার শিরায় শিরায় প্রবাহিত পাকিস্তানি ধারার রক্ত এবং এই উত্তরাধিকারের বলেই ঘোষিত এর পরবর্তি মালিক ইতিমধ্যেই নিজেকে ঘোষনাই করেছেন স্বাধীনতা বিরোধী চরম প্রতিক্রিয়াশীল চক্র জামায়াত-শিবিরের ‘এক মায়ের পেটের’ ভাই বলে।

সুতরাং বাইরে যাই দেখাক না কেন,আর এই শাহজাহান সিরাজ-পটল-মুনিরুল হক,রা যত দালালিই এবং যত স্তাবকতাই করুন না কেন,তাদের কে ব্যবহার করা হবে কিন্তু এই দলটির অন্দরের টিকিট তাদের কোন দিনই মিলবেনা।মিলেনাই ও।কেননা আর যাই হোক না কেন তাদের গায়ে রয়েছে আওয়ামী তথা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের রক্ত। অনেকে বলে থাকেন ‘বি এন পি তে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছে,স্বাধীনতার পক্ষের অনেক মানূষ আছে’। হ্যাঁ আছে।অনেক শীর্ষ মুক্তিযোদ্ধা ও আছে। কিন্তু এতেই বি এন পি একটি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বা দল হয়ে যায়নাই এবং হবেওনা। যেমন ভারতের বি জে পি তেও অনেক মুসলমান আছে এবং ছিলো ও। চরম হিন্দুত্ববাদী এবং মুসলমান বিদ্বেষী এই দলটির অনেক মুসলমান ভোটার ও আছে। কিন্তু তাই বলে ‘শিবসেনা-ভজরং-সেবক সংঘের এক মায়ের পেটের ভাই’,আদভানী-মোদী-উমা ভারতীর এই বি জে পি কোনদিনই মুসলমান বান্ধব বা মুসলমান পক্ষের দল হয়নাই এবং হবেওনা।