ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

আমি একজন প্রবাসী বাংলাদেশী।বিগত বিশ বছর ধরে বিদেশে চাকুরী করে দেশের জন্য মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার যোগান দিচ্ছি।

ছাত্র জীবন থেকেই মুজিব আদর্শ লালন করে আসছি।বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও রয়েছে ছাত্র রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত থাকার ইতিহাস। বর্তমান স্বরাস্ট্র প্রতি মন্ত্রী টুকু ভাই, বিএনপি আমলের প্রতি মন্ত্রী পটল ভাই ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আমাদের সামনের সারির নেতা।চাকুরী জীবনেও রাজনীতির ধ্যান ধারনা তথা অন্তরে প্রোথিত মুজিব আদর্শের প্রভাবে আওয়ামীলীগের ভালো-মন্দে চরম ভাবে আলোরিত হই। যার প্রকাশ রয়েছে,দুই যুগের ও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় আমার লেখালেখিতে।সাপ্তাহিক সন্দীপ, পূর্বাভাষ, যায়যায়দিন, চলতি পত্র, মৃদুভাষণ, এরপর গত কয়েক বছর ধরে লিখছি আজকের সূর্যোদয়ে।দৈনিক প্রথম আলো, যুগান্তর এবং জনকণ্ঠে ও মাঝে মধ্যে ছোট খাটো কিছু লেখার দৃষ্টান্ত ও আমার আছে।বর্তমানে আজকের সূর্যোদয়ের প্রিন্টার্স লাইনে নিয়মিত এবং বিশিষ্ট কলাম লেখক হিসেবে আমার নাম থাকে। বিগত প্রায় বিশ বছর যাবৎ লিবিয়া প্রবাসী হয়েও দেশের টানে লেখালেখির এ প্রয়াস অব্যাহত আছে।

সরাসরি রাজনীতিতে থাকলে, নিঃসন্দেহে আমার অবস্থান হয়ত হতে পারত,টুকু ভাই, পটল ভাই, মান্না ভাই প্রমুখদের সারিতে বা অন্তত তাদের পরের কাতারে। আত্মপ্রচার অর্থ্যাৎ নিজের ঢোল নিজেই পিটালাম বাস্তবিক কিছু চরম হতাশা ও বেদনার কারনে।এখন তাই বলছি;

ঢাকার মিরপুরে আমার বাসস্থান। ক্রয় সূত্রে চার তলা একটি বাড়ির জমিসহ একচতুর্থাংশের মালিক।এই বাড়ির জমিটি হাউজিং এন্ড সেটেলম্যান্ট থেকে ১৯৮০ সনে, গ্রুপ প্লট হিসেবে চার জনের নামে বরাদ্ধকৃত। মোট জমির পরিমান ৪৩৩.৩৩ বর্গগজ, যা সাফ কবলা দলিলে পরিস্কার ভাবে উল্লেখিত। পজিশন হস্তান্তর পত্রেও দৈর্ঘ – প্রস্থ {১/২(৮৫’৬”x৭০’৬”)x ৫০”} মাপ সহ,মোট জমির পরিমান ৪৩৩.৩৩ বর্গ গজ, সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখিত।

চারতলা দালান বাদে জায়গাটির উত্তরাংশে (৮০ ফুট রোড সংলগ্ন) সোয়া এক কাঠার মতো জায়গা খালি রাখা হয় ভবিষ্যতে গ্যারেজ করার জন্য। এই খালি জায়গাটিতে আমরা-বর্তমান মালিকেরা,২০০০ সালের দিকে আপাতত কয়েকটি টিনশেড দোকান ঘরের নির্মান কাজ আরাম্ভ করলে, এলাকার রাজনৈতিক আশ্রিত কিছু লোক আমাদের কাজে বাধা দিয়ে তা বন্ধ করে দেয়। উদ্দেশ্য চাঁদা আদায়। তাদের কথা ‘এই জমি নাকি আমাদের না। আমাদের হলে, তা খালি রাখা হলো কেন?’ একদিন তারা এলাকার তখনকার সরকারি দল আওয়ামীলীগের স্থানীয় নেতা দের (যাদের মধ্যে একজন ছিলেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা, প্রয়াত সমর মজুমদার)নিয়ে ঘটনা স্থলে হাজির হয়। আমরা আমাদের সাফ কবলা দলিল এবং সংশ্লিস্ট সরকারি অন্যান্য কাগজ পত্র দেখাই। যদিও এটা সরকারি হাউজিং এন্ড সেটেলম্যান্ট এর জায়গা, এর দলিল পত্রাদি দেখার অধিকার কেবল মাত্র সরকারি এই দপ্তরের, কোন ব্যক্তি বিশেষের নয়। সরকারি জায়গায় বরাদ্দের বাইরে, কোন জায়গা থাকলে,সেটাও দেখবার বিষয় সরকারের। এ প্রসঙ্গে কারো কিছু বলার থাকলেও বলতে হবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরেই।তারা এসব মানেন না, বলে ‘এমন দলিল এবং কাগজ পত্রাদি নাকি অনেক বানানো যায়। এই জায়গা আমাদের হলে, তা দালানের বাহিরে খালি রাখা হলো কেন ?’ আমাদের বৈধ জায়গা, আমরা খালি রাখলাম, কি ভরা রাখলাম, সেতো আমাদের ব্যপার।আর আমাদের দলিলে জমির পরিমান সাফ কবলা দলিলে দৈর্ঘ-প্রস্ত মাপ সহ উল্লেখিত।খালি জায়গাটুকু এর বাইরে কিনা ইহাই দেখার বিষয়।এসব কিছুই তাদের বুঝানো গেলনা।তাদের একই কথা বড় অংকের টাকা দিতে হবে,অন্যথায় নির্মান কাজ করা যাবেনা।

আমাদের একজন পার্টনার জনাব আব্দুল লতিফ খান,একজন মুক্তিযোদ্ধা।যিনি ছিলেন মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারি সমিতির চেয়ারম্যান।পরিতাপের বিষয় বয়স্ক এই মক্তিযোদ্ধা মানুষটিকে যৎসামান্য সন্মান দেখানো তো দূরের কথা বরং সকলের সামনে “লাল বান্দর”(তার চেহারা ফর্সা বলে) বলে উপহাস-তিরস্কার ও করা হয়।

কাজ বন্ধ করে দিলাম। এরপর তত্তাবধায়ক সরকারের আমল।কিন্ত আমল তত্ত্বাবধায়কের হলেও ইতিমধ্যেই মাঠের দখল বিএনপি র লেবাস ধারীদের।আবারো কাজে বাধা।কারন একই।তবে এবার নেতা বদল আর পিছনের সবাই মোটামোটি আগের ওরাই।কি আর করা।একান্ত বাধ্য হয়েই নেতাকে তার লোকদের মিষ্টি খাওয়ার নামে দেয়া হল ১০,০০০ টাকা এবং পাওয়া গেল কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি। পরের দিন আবার আর এক দল,দিলাম আরো ৫০০০।নির্বিঘ্নে কাজ প্রায় ৮০ ভাগ শেষ।এমন পর্যায়ে হাজির হলো আর এক দল।তবে একটু ভিন্ন কায়দায়।ভূয়া কিছু কাগজ পত্র বানিয়ে এবং নানান মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে,আমাদের নামে মামলা দায়ের করে,থানা থেকে পুলিশ সাথে করে নিয়ে।পুলিশের নির্দেশ শান্তি রক্ষার্থে কাজ বন্ধ এবং আদালত থেকেও স্থিতাবস্তা।এরপর চলতে থাকল আদালতে মামলা।ওদের তৈরী করা কাগজপত্র ভূয়া ও ভিত্তিহীন প্রমানিত হওয়ায় আদালত কর্তৃক স্থিতাবস্তা প্রত্যাহার এবং আরো পরে মামলা খারিজ।খারিজ মামালার আবার রিভিশন দায়ের।রিভিশান মামলাতেও ওদের বক্তব্য এবং কাগজপত্রাদি ভূয়া ও ভিত্তিহীন এবং আমাদের দলিলপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রাদি সঠিক এবং বৈধ প্রমানিত হয় এবং মাননীয় আদালত ওদের রিভিশন খারিজ করে দিয়ে আমাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন।

এরপর নির্মানকাজ মোটামুটি শেষ করে,আমরা দোকানঘরগুলো তালাবদ্ধ করে রাখি এবং ইতিমধ্যেই আমাদের দালানটি অতি পুরাতন হয়ে যাওয়ায়,তা ভেঙ্গে ফেলে,পুরা জায়গাটিতে কোন ডেভেলপারকে দিয়ে নতুন করে নির্মানের জন্য অপেক্ষা করতে থাকি।

এমতাবস্তায় গত ২০/০৪/১১ তারিখে আগের সেই হামলাকারীরা আমাদের তালাগুলি ভেঙ্গে ফেলে ভিতরে প্রবেশ করে।সাথে সাথেই মিরপুর থানায় জিডি করি(জিডি নং ১৫০১)।পুলিশ আসে এবং ওদের সাথে কথা বলে।ওদের সেই পুরানো কথা যা ইতিমধ্যেই আদালতে ভূ্য়া ও ভিত্তিহীন ঘোষিত।পুলিশ তালাবদ্ধ করে চাবি নিয়ে যায় এবং উভয় পক্ষকে কাগজপত্রাদি নিয়ে থানায় যেতে বলে।থানায় গিয়ে ওরা আদালত কর্তৃক খারিজ করে দেয়া আগের সেই কাগজপত্রাদি দিয়েই পুলিশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।পুলিশ আমাদের কথাও শুনে।প্রশ্ন হলো যে বানানো কথা এবং কাগজপত্রাদি আদালত কর্তৃক ভূয়া ও ভিত্তিহীন প্রমানিত,সেসব নিয়ে আবার কথা বলার সুযোগ দেয়ার অবকাশ কোথায়?

উল্ল্যেখ্য,সেই ২০০০ সাল থেকে আরম্ব করে এ প্রসঙ্গে থানায় কতবার যে জিডি করা হয়েছে,স্থানীয় প্রায় সব রাজনৈতিক নেতা সহ কতজনের কাছে যে ধর্ণা দেয়া হয়েছে এর কোন ইয়ত্তা নাই।কিন্ত কোথাও এর শেষ পাইনি। যেখানেই যার কাছেই গিয়েছি ভাবখানা এমন যে”বিপদে যখন পড়েছ,মালপানি ঢাল”।এব্যাপারে আর কোথায় যাব,আর কার কাছে যাব?

নিজেদের অবস্থান,ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রগত কারনে অনেক জায়গাতেই যেতে পারিনা,অনেক কিছুই করতে পারিনা।মালপানি,ঘুষ ইত্যাদি অন্যায় পথে পা বাড়াতেও বিবেক বাধা দেয়।অগত্যা বাধ্য হলেও যথাসময়ে,যথাস্থানে,যথাযথভাবে পারিনা।তাই দুঃখ বেদনা ও হতাশার পীড়নে জর্জরিত হই।নিজেকে খুবই অসহায় মনে হয়।মনে হয়-“এ কোন দেশে বাস করছি আমরা।দেশটা কি মগের মুল্লুক হয়ে গেল না কি”।আমাদের বৈধ সম্পত্তিতে একদল লোক আমাদেরকে বৎসরের পর বৎসর অন্যায়ভাবে এরকম হয়রানির পর হয়রানি করে যাচ্ছে,আর আমরা কিছুই করতে পারছিনা,তাই হতাশায়,বেদনায় ইচ্ছা হয় এ দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাই।

***
এম আবুল হাসেম
২/সি,৫/১২,মিরপুর,ঢাকা-১২১৬
mdhashem@gmail.com
মোবাইলঃ- +৮৮০-১৯১৫৭২০৯৯৭