ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

১) বিগত নির্বাচনের পর একদিনের জন্যও সেই নির্বাচনের গন রায় আপনারা মেনে নিতে পারেন নাই।যে কোন কথা-বক্তব্য আরম্ভ করেন “এই সরকার মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিনের ষড়যন্ত্রের নির্বাচনের অবৈধ সরকার” এই বলে।জন গনের ভোটের প্রতি যাদের এমনতর অমর্যাদাশীল এবং বিদ্বেষী মনমানসিকতা,তাদের সাথে এই”অবৈধ?”সরকার কোন প্রকার সহযোগিতা করে কি করে?

২) কথায় কথায় আপনারা কেবল ‘মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন’ এই দুই ‘উদ্দিন’ এর কথা বলেন,আর এক ‘উদ্দিন’কে বাদ দেয়া হয় কেন?

৩) মইনুদ্দিন জিয়া হতে চেয়েছিলেন-কথাটা একদম ঠিক।মইনুদ্দিন হতে চেয়েছিলেন এ দেশের তিন নম্বর সেনাপতি শাসক,কিন্ত হতে চাইলেই তো আর হওয়া যায়না।অবৈধ কোন কিছু বার বার হজম করানো যায়না।এ দিক দিয়ে জিয়া ছিলেন ভাগ্যবান।প্রথমবার বলে তিনি যা হজম করাতে পেরেছেন,দ্বিতীয়বারে এরশাদ ততটুকু পারেন নাই।মইনুদ্দিন একেবারেই পারেন নাই।

৪) আওয়ামীলীগ ১৯৮৬ এর নির্বাচনে অংশ নিয়ে কেবল এরশাদের অবৈধ সরকারকেই স্বীকৃতি দেয় নাই,১৯৭৯ এর একইরকম নির্বাচনে অংশ নিয়ে একইভাবে সামরিক শাসক জিয়ার একইরকম সরকারকেও স্বীকৃতি দিয়েছিলো।ইহা হয়তো্বা আওয়ামীলীগের অপরিণামদর্শিতা,অথবা আওয়ামীলীগ সব সময়েই একটি নির্বাচনমুখী দল-এ কারনে।

৫) মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি: যে যে কারনে আপনাদের এই মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি-এসব কারনে যদি একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে হয়,তাহলে এদেশে আর কোনোকালেই কোন সরকারই তাদের মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবেনা-একথা নির্দ্বিধায় বলে দেয়া যায়।কেননা এগুলি এই সমস্যাসংকুল দেশের অনেকটাই চির কালীন সমস্যা।আপনাদের কথিত এসব সমস্যা,আপনাদের বিগত আমলেও ছিলো(মতান্তরে অনেক কিছুই আরো প্রকটতর ছিলো) এবং বলা যায় ভবিষ্যতে আপনারা ক্ষমতায় গেলেও থাকবে।

তাই দেশ ও জাতীর স্বার্থে, বি এন পি’র মতো এমন একটি বড় দলের দলীয় প্রধানের চিন্তাধারা,বক্তব্য-মন্তব্য যথাযথ দায়িত্বশীল, চিন্তাশীল ও গঠন মূলক হওয়াই বাঞ্ছনীয়।

***
খবর সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ১৬ মে ২০১১