ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, রাজনীতি

সদ্য বিদায়ী প্রধান বিচার পতি জনাব খায়রুল হককে নিয়ে কথা। তার আমলে কতগুলি মামলার যুগান্তকারী রায় দেয়া হয়েছে।এমনতর মামলাগুলোতে আগে দেখা গেছে,অনেক বিচারপতিরাই যথাযথ সৎসাহস ও দৃঢ়তার সাক্ষর রাখতে চরম ভাবে ব্যর্থ হয়েছেন এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সামরিক শাসকদের হালাল করেই রায় দিয়েছেন বা অনেক ক্ষেত্রে বিব্রতবোধ করে পাশ কাটিয়ে গিয়েছেন। জনাব খায়রুল হকই একমাত্র ব্যতিক্রম,যিনি কারো মূখের দিকে না তাকিয়ে,দেশের সংবিধান,আইন ও ন্যায়নীতি মোতাবেক যা হওয়া উচিৎ,অসীম সৎসাহস ও দৃঢ়তার সহিত তাই রায় হিসাবে ঘোষনা করেছেন। এতে করেই যাদের গায়ে আঁচ লেগেছে এবং তাদের কাতারের চিহ্নিত কিছু পন্ডিত জনেরাও,বিদায়ী প্রধান বিচারপতিকে কেন্দ্র করে “দলীয় বিচারপতি,দলীয় নির্দেশে রায় দিয়েছেন,দেশকে সংকটের মূখে ঠেলে দিয়েছেন,দলীয় বিচারপতির রায় দেশের মানূষ মানতে বাধ্য নয়”ইত্যাদি নানান ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে চলেছেন। প্রশ্ন জাগে-পঞ্চম সংশোধনীর রায়তো হয়েছে বিগত সরকারের আমলে আর সে রায়ও তার একার নয়,বেঞ্চে আরো বিচারপতি ছিলেন,যে রায় এই আমলে আপিল বিভাগে বহাল রাখা হয়েছে মাত্র।আপিল বিভাগেও তার একার মতামতে কিন্ত এই রায় হয় নাই।আপিল বিভাগের সকল মাননীয় বিচারপতিদের মতামতেই তা হয়েছে।

বলা হচ্ছে আদালত সংবিধান সংশোধন করতে পারেনা,কিন্ত আদালত তো সংবিধানের কোন সংশোধন করেন নাই,সংবিধানিক ক্ষমতাবলে অবৈধ সংশোধনী বাতিল ঘোষনা করেছে মাত্র।এখন সংসদ কি করবে,কিভাবে এই বাতিলকে সংবিধানে রূপ দেবে তা সংসদের ব্যাপার। বলা হচ্ছে ৭৪ এর ৪র্থ সংশোধনী সমন্ধে তিনি কিছুই বলেন নাই। কিন্ত ভূলে যাওয়া হচ্ছে ৫ম সংশোধনী আর ৪র্থ সংশোধনী এক জিনিষ নয়। ৪র্থ সংশোধনী হয়েছিলো জনগনের ভোটে নির্বাচিত বৈধ সংসদে,সম্পূর্ন সাংবিধানিক রীতি নীতি অনুসরন করে।তা নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে,বিতর্ক থাকতে পারে কিন্ত তাতে হাত লাগানোর কোন ক্ষমতা আদালতের নাই।আর তা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ ও কেউ হয়নি।হলে মাননীয় আদালত অবশ্যই এর ব্যাখ্যা দি্তেন বা দিবেন। মওদুদ আহমেদ সাহেবরা অগ্রীম বলে চলেছেন সাবেক এই বিচারপতিকে,সামনের নির্বাচনে তত্ববাধায়ক সরকার প্রধান হিসাবে জাতি মেনে নিবে না।মওদুদ সাহেবরা না হয় না মানতে পারেন,তারা তাদের নিজেদের কথা নাহয় বলতে পারেন,কিন্ত জাতির কথা,সাড়া দেশের মানূষের কথা তারা বলেন কি করে? দেশের মানূষ এমনভাবে বলার রায় তাদেরকে কখন এবং কিভাবে দিলো? বলা হচ্ছে সংবিধান সংশোধনে গণভোটের কথা,গণপরিষদের কথা!মনে রাখা দরকার,সংবিধান রচনা কিন্ত হচ্ছেনা-হচ্ছে সংবিধান সংশোধন এবং সংবিধান সংশোধনের দরকার হলে,তা কিভাবে করতে হবে,তা সংবিধানেই পরিষ্কারভাবে বর্ণিত আছে।এই মওদুদ সাহেবরা তো ইতিপূর্বে বহুবার সংবিধান সংশোধন করেছেন-এক ব্যক্তির (বিচারপতি সাত্তার) নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্যও করেছেন,কোন গণভোট বা গণপরিষদ কি তারা কোনদিন করেছিলেন?

***
মোঃ হাসেম
mdhashem@gmail.com

***
ফিচার ছবি: বাংলাদেশ নিউজ ২৪x৭ ডট কম