ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক বাহক ৭২’এর সংবিধান।সে সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্য মাননীয় উচ্চ আদালতের রায় রয়েছে।দেশের ধর্মান্ধ গোষ্ঠী এবং হীন রাজনৈতিক মতলবে তাদের (ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর) সমর্থক চিহ্নিত একটি মহল ছাড়া,দেশের প্রগতিশীল কাতারের এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল মানুষের চাওয়া,আদালতের রায় মোতাবেক ৭২’এর সংবিধানের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। কিন্ত সরকারি দল বিশেষ করে,সর্বময় ক্ষমতার অধিকারি দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কথা-বার্তায় মনে হয়,সংশোধিত সংবিধানেও,“বিসমিল্লাহ্,রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি”-এই ব্যাপারগুলো যথারীতি রেখে দেয়াই হবে।

আসলে বর্তমান সার্বিক অনুকুল পরিস্থিতি ও সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ৭২’এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্য যে সাহস, ও ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তার দরকার,তা শেখ হাসিনার মধ্যে নাই।কোনদিন ছিলনা। রাজনীতিতে শেখ হাসিনা বরাবরই মনে হয় কিছুটা দুর্বল, দোদুল্যমানতা এবং আপোষকামী মনের মানুষ। অতীত কিন্ত তাই বলে।আমার অবজারভেশন থেকে কিছু উদাহরন তুলে ধরছিঃ-

১) আগের দিন-“যারা এরশাদ স্বৈরাচারের দেয়া নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে,তারা জাতীয় বেঈমান”-এমন কথা বলে পরের দিনই তিনি একই (১৯৮৬’র) নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষনা করলেন।

২) ১৯৯৬’র তত্ববাধায়ক সরকারের আন্দোলনে,জামায়াতে ইসলামীর সমান্তরাল কর্মসূচীতে হয়তোবা দোষের কিছু ছিলনা,কিন্ত ঘৃণিত এই রাজাকারদের তার(শেখ হাসিনার) আন্দোলন সহযোগী-টেবিল পার্টনার হিসাবে স্থান দেয়া,দেশের মানুষ ভালো চোখে দেখে নাই।

৩) ১৯৯৬-২০০১ আমলে সিলেটের শাহজালাল ইউনিভার্সিটিতে,নির্মিত কতগুলি ছাত্রাবাসের নামকরণ হয়-শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সহ,স্বাধীনতার পক্ষের কয়েকজন শীর্ষ বরেন্যদের নামে। ক্ষমতায় থেকেও শেখ হাসিনার সরকার সেই নামকরণগুলো কার্যকর করতে পারেন নাই।

৪) ২০০৭ নির্বাচন পূর্বে তিনি,নির্বাচনে লাভবান হওয়ার কৌশল(নাকি অপকৌশল) হিসাবে,ধর্মান্ধ-তালেবানগোষ্ঠীর একাংশের কাছে সারেন্ডার করেন এবং চরম বিতর্কিত এক চুক্তিতে আবদ্ধ হন।

৫) ২২ ফেব্রুয়ারি’ ২০০৮ এর নির্বাচনে তিনি একই মতলবে সেই ধর্মান্ধ-তালেবানগোষ্ঠীর সাথে জোট বদ্ধ হন এবং আওয়ামীলীগের ত্যাগী এবং পরীক্ষিত অনেক নেতাদের বলী দিয়ে,দলীয় প্রতীক নৌকা তুলে দেন-নড়াইলের মুফতি শহীদুল ইসলাম এবং সিলেটের মাওলানা হাবিবুর রহমানের মতো চিহ্নিত এবং আত্মস্বীকৃত তালেবানদের হাতে।

এগুলি আর যাই হোক রাজনীতিতে শেখ হাসিনার যথাযথ সাহস, বিচক্ষণতা ও দৃঢ়তার পরিচয় বহন করেনা।সুতরাং এ মুহুর্তে ৭২’এর সংবিধানে ফিরে যাওয়া প্রসঙ্গেও শেখ হাসিনা তার সেই আপোষকামীতার স্বাক্ষর রাখবেন বলেই মনে হয়।আর শেখ হাসিনা যা চাইবেন না,তা যে হবেনা,তাতো দিবালোকের মতোই পরিস্কার।