ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

যে কোন ব্যাপারে আগ বাড়িয়ে কথা বলে শেখ হাসিনা স্বয়ং নিজেকেই বিতর্কের মাঝে জড়িয়ে ফেলেন,যার আর কোন শেষ থাকে না।নিজের অবস্থান চিন্তা না করে সব কিছু নিয়ে,স্বয়ং শেখ হাসিনার ‘এই কথা বলা এবং জড়িয়ে পড়া’ নিয়ে বৎসরের পর বৎসর ধরে,অনেক কথা বলা হয়েছে,কিন্ত এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার মাঝে তেমন কোন পরিবর্তন হয় নাই।

সর্বশেষ তত্তাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গেও, স্বয়ং তিনি নিজে এমন ভাবে কিছু না বলে,ব্যাপারটি যদি,এ প্রাসঙ্গিক সংসদীয় কমিটি এবং সংসদের দিকে ঠেলে দিতেন,তাহলে এই বিতর্ক এই মুহুর্তে এতো তীব্র আকার ধারন করতো না।আর করলেও,এখন তিনি (শেখ হসিনা) সুপ্রিম বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ন হতে পারতেন এবং অবিভাবক সুলভ মন্তব্যে,এমন করে যদি বলতেন যে-“ তত্ববাধায়ক সরকার নিয়ে আমরা অতীতে এবং বর্তমানে,কে কি করেছি-বলেছি এবং করছি-বলছি,তা বড় কথা নয়-এখন বড় কথা হয়ে দাঁড়িয়েছে,এই মর্মে মাননীয় উচ্চ আদালতের রায়ের ব্যাপারটি,যার বাইরে যাওয়ার কোন সুযোগ আমাদের নাই।এখন এই রায় পর্যালোচনা করে,সকলের গ্রহনযোগ্য কিছু কতে হলে,তা করার একমাত্র জায়গা হলো সংসদ”।এই বলে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি’র প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলতে পারতেন-“এ কারনে আপনারা সংসদে আসুন, এ প্রাসঙ্গিক কমিটিতে বসুন,ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করুন এবং আপনাদের সুচিন্তিত মতামত দিন।চলুন এ প্রসঙ্গে আমরা একটা গ্রহনযোগ্য ঐক্যমতে পৌঁছাই।এখন আপনারা যদি তা না করেন,তাহলে সরকার তো আর বসে থাকতে পারেনা,সরকারের একটাকিছু করতেই হবে। সে ক্ষেত্রে সরকার যা কিছুই করুক না কেন,তাতেও আপনারা একমত হবেন না-ইহাও খুব ভালো করেই জানা আছে, তথাপিও এই মর্মে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া সরকারের আর কি -ই বা করার আছে”

এই মর্মে এমন ভূমিকা,প্রধান মন্ত্রী হিসাবে শেখ হাসিনার শুভবোধ ও বিচক্ষণতার সাক্ষর বহন করতো,রাজনৈতিক ভাঙ্গে আওয়ামীলীগ লাভবান হতো এবং অন্য দিকে বিএনপি’কে বেকায়দায় ফেলা সম্ভব হতো।এমন সুন্দর এবং রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকার জন্য সমগ্র জাতি শেখ হাসিনার পাশে দাঁড়াতো।

তা না করে তড়িঘড়ি করে এই মর্মে স্বয়ং প্রধান মন্ত্রীর শক্ত অবস্থান,”অন্যসব গণতান্ত্রিক দেশে যে ভাবে নির্বাচন হয়-আমাদের দেশেও সেভাবেই হবে” এমনতর কথাবার্তা, দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাত-সহিংসতার আশংকাকেই তরান্বিত করেছে।

পরের দিন প্রধানমন্ত্রী এই মর্মে কিছুটা ইতিবাচক কথাবার্তা বললেও, সাথে সাথেই তা পাতলা করে ফেলেছেন তিনি একই প্রসঙ্গে তার চরম নেতিবাচক কিছু কথাবার্তায়।যেমন-“তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারনেই এক-এগারো সৃষ্টি হয়েছিলো।তখন রাজনৈতিক সরকার থাকলে এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না,তখন জামায়াতে ইসলামীর কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার মানুষের কাছে আতংক(?),বাঘের কাছে ছাগল পাহারা দেওয়া যায়না(?),তারা কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অত্যাচারের কথা ভুলে গেছেন?”।যা শুধু এই মর্মে তার ইতিবাচকতা বিরুদ্ধ ও স্ববিরোধী নয়-তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে তার (শেখ হাসিনার) অতীত ভূমিকা,আন্দোলন-সংগ্রাম এবং বক্তব্য-মন্তব্যের সাথেও চরমভাবে সাংঘর্ষিক। যা তাকে দেশের মানুষের কাছে চরমভাবে হালকা ও প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

এমনই যদি হয়ে থাকে তাহলে তিনি এবং তার দল ১/১১ পূর্ববর্তী আগের সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নিলেই তো পারতেন।মনে রাখা দরকার ১/১১ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয়েছিলো বলেই তিনি এবং তার দল এখন ক্ষমতায়।আর জামায়াতে ইসলামীর নেতারা যুদ্ধাপরাধী ও বিতর্কিত-এ কথা ঠিক,তবে তারা বিগত ক্ষমতাসীন দল গুলির অনেক নেতাদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত ও কলুষিত বোধহয় নয় এবং এ কারনেই ১/১১ পরবর্তিতে তাদের কাউকেই গ্রেফতার করা হয় নাই। অধিকন্তু এখানে ব্যাপারটি অপ্রাসঙ্গিক।

আরো মনে রাখা দরকার ভবিষ্যতে কোন না কোন দিন তিনি বিরোধী দলে থাকবেন,তখন তার এই কথাগুলোই তার জন্য বুমেরাং হয়ে দেখা দিবে। কেননা বিএনপি’র খালেদা জিয়ার সরকারের অধীনে, কোন নির্বাচনে তিনি কোনোদিনই ক্ষমতায় যাবেন-এমন আশা সুদূর পরাহত।কারন এসব ব্যাপারে খালেদা জিয়া,শেখ হাসিনার চেয়ে অনেক অনেক বেশি দৃঢ় ও শক্ত মনের মানুষ।যার জন্য এ দেশে “তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি আজীবনের জন্য” এমন ব্যবস্থা সংবিধানে পাকাপোক্ত করা দরকার।আমাদের জন্যই সংবিধান,সংবিধানের জন্য আমরা নই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমাদের বাস্তবতা। যারা “তত্ত্বাবধায়ক সরকার অসাংবিধানিক,অগনতান্ত্রিক” ইত্যাদি নানান তাত্ত্বিক কথাবার্তা বলেন তদের ব্যাপারটি ভেবে দেখা দরকার।