ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে মাননীয় উচ্চ আদালতের দেয়া রায়ের বাইরে যদি নাই যেতে চান,ব্যাপারটি সংসদের কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে,দৃশ্যত হলেও,শেখ হাসিনা অনেকটাই বিতর্কমুক্ত থাকতে পারতেন।তা না করে বিগত কয়েকদিন ধরে তিনি একাই তার মতো করে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নানান ধরনের ত্রুটি এবং ফাঁকফোকর বর্ণনা করতে অতি উৎসাহিত হয়ে পড়েছেন।বিগত কয়েক দিনের তার(শেখ হাসিনার)এ প্রাসঙ্গিক অতি উৎসাহিত(বেসামাল ও বলা চলে)কিছু বক্তব্য-মন্তব্য উল্লেখ করছিঃ-

## তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারনেই এক-এগারো সৃষ্টি হয়েছিলো।তখন রাজনৈতিক সরকার থাকলে এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
## তত্ত্বাবধায়ক সরকার মানুষের কাছে আতংক(?),
## বাঘের কাছে ছাগল পাহারা দেওয়া যায়না(?)।
## তারা(বিএনপি) কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অত্যাচারের কথা ভুলে গেছেন?
## অনির্বাচিত ব্যক্তিরা ক্ষমতায় এসে আর যেন রাজনীতিবিদদের হেয়প্রতিপন্ন না করতে পারে ——
## সেই পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে তারা (তত্ত্বাবধায়ক সরকার)ক্ষমতায় এসে রাজনীতিবিদদের চোর বানাবে-দুর্নীতিবাজ বানাবে-এ সুযোগ কেন তাদের দেবো ?
## খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওনার দুই ছেলেকে উত্তম-মধ্যম(?) দিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে,উনি আর আমি জেল খেটেছি——-
## তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সুযোগে অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করা যায়।সুতরাং এই ব্যবস্থার ফাঁক দিয়ে জনগনের ওপর অবৈধ সরকার চেপে বসার সুযোগ করে দেয়া যায়না, ইত্যাদি ইত্যাদি
এতে করে দেশের মানূষ এই তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে ,৯৫-৯৬ এবং ২০০৬ এর শেখ হাসিনার সাথে, এখনকার এই শেখ হাসিনাকে কিছুতেই মিলাতে পারছেননা। প্রশ্ন জাগছে-শেখ হাসিনার অবস্থানের মানুষেরা,প্রকাশ্যে এমনতর উল্টোমুখী হয়ে যান কি করে? তিনি যদি আজকের এই অবস্থায়, বিরোধী আসনে থাকতেন, তাহলে কি করতেন? “তাহলে কি এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে তিনি এমন করে বলতেন?এর পর এ প্রসঙ্গে আলোচনায় বসার আহবান জানানোর আর কি মানে হতে পারে ?শেখ বুঝতে পারছেননা তার এসব কথাবার্তার কারনে এ প্রসঙ্গে তিনি তার দলের কিছু জন ভিত্তিহীন চাটুকার ছাড়া,দেশের সকল শ্রেনী-পেশার মানুষের কাছে কতটুকু বিতর্কিত ও হালকা হয়ে পড়ছেন,এ প্রসঙ্গে দেশের সকল অস্থিরতার দায় এককভাবে নিজের ঘাড়ে তুলে নিচ্ছেন।

প্রাসঙ্গিক না হলেও আরো একটি ব্যাপার এখানে না বলে পারছিনা।তা হলো- এক হোটেলে সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রীর “বাজেট প্রস্তাবনা”র প্রেক্ষিতে,প্রধানমন্ত্রী বলেন-তিনি(বিরোধী দলীয় নেত্রী)তার এই প্রস্তাবনা সংসদে এসে বলতে পারতেন।“আসলে ওনার সংসদ থেকে হোটেলেই হয়তো বেশি ভালো লাগে”।

আহ্! মাননীয় প্রধান মন্ত্রী-শেষের বাক্যটি না বললে কি হতো না!!