ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

সুলেখক কবি সোহরাব হাসানের উল্লিখিত শিরোনামে একটি লেখা,আজকের(১৮-৬-১১)প্রথম আলোর উপসম্পাদকীয়তে প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে তিনি,পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী নিয়ে মাননীয় উচ্চ আদালতের রায় এবং সে আলোকে সংবিধান সংশোধনে আওয়ামীলীগের প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থানকে “জিয়া ও এরশাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আপসরফা!” বলে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।এ প্রসঙ্গে কিছু কথাঃ-

জনাব সোহরাব হাসান – আপনার সুন্দর লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।শুধু জিয়া ও এরশাদের সঙ্গেই নয় – যথাযথ দূরদর্শিতা ও দৃঢ়তার অভাবে, নানান সময়ে, ৭১ এর পরাজিত শক্তি ঘৃ্নিত রাজাকার-আলবদর এবং মৌলবাদী তালেবান জঙ্গিদের সাথেও, আওয়ামীলীগের এমনতর আপত্তিকর আপসরফার দৃষ্টান্তও আছে।

উল্টোদিকে স্বাধীনতার শীর্ষ কাতারের স্বনামধন্য বরেন্য ব্যক্তিত্বদের এমনকি দলীয় নিবেদিতপ্রাণ,বলিষ্ট এবং ত্যাগী নেতা-হিতাকাঙ্ক্ষীদের অনেককে অপমানিত,অবমানিত এবং বলী দেয়ার দুঃখজনক দৃষ্টান্ত ও আওয়ামীলীগের আছে।

জনাব সোহরাব হাসানের লেখা প্রসঙ্গে মন্তব্যে, জনৈক আব্দুল হামিদ এবং আরো কেউ কেউ,’পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনীর সাথে চতুর্থ সংশোধনীর কেন উল্লেখ করা হলোনা’ এই মর্মে প্রস্ন রেখেছেন।এ প্রসঙ্গেও কিছু কথা –

জনাব হামিদ এবং অন্যদেরকে, শ্রদ্ধেয় লেখক সোহরাব হাসানের পক্ষ হয়ে বলছি- পঞ্চম,সপ্তম আর চতুর্থ সংশোধনী কিন্ত এক জিনিষ নয়। চতুর্থ সংশোধনী নিয়ে ভিন্নমত থাকতে পারে,বিতর্ক থাকতে পারে এবং আছেও।কিন্ত ভূলে গেলে চলবে না, তা (৪র্থ সংশোধনী) হয়েছিলো, জনগনের নির্বাচিত বৈধ সংসদে-জনগনের নির্বাচিত সাংসদ দের দ্বারা, সম্পূর্ন সাংবিধানিক বিধি-বিধান মতে, স্বাধীনতা উত্তর জাতির সেই ক্রান্তিকালে, তখনকার সকল দল,মত ও পেশার মানুষের ঐক্যমত এবং সমন্বয়ে।

পরবর্তিতে সুযোগে এবং খোলামাঠে ‘একদলীয়’ বলে বহুল কথিত,প্রচারিত এবং চিত্রিত সেই ‘বাকশাল পদ্ধতি’ ছিলো-তখনকার সময়ের দাবিতে, সকল দল ও মতের সমন্বয়ে একটি প্লাটফরম। যার প্রতি একমত পোষন করে ও সমর্থন জানিয়ে, সেই প্লাটফরমে যোগদান করেছিলেন, তখনকার বরেন্য রাজনীতিক সর্বজনাব মজলুম জননেতা মাওলানা ভাষানী, আতাউর রহমান খান, মনি সিংহ ,অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ প্রমূখ এবং তাদের দল। সদল বলে যোগদান করেছিলেন তখনকার সাংবাদিক সমাজ সহ বিভিন্ন পেশা-শ্রেনীর মানুষেরাও। এমনকি পরবর্তিতে বিএনপির জন্মদাতা এবং তখনকার সেনা উপ-প্রধান মেঃ জেঃ জিয়াউর রহমান ও প্রণীত সেই ব্যবস্থার উচ্ছসিত প্রশংসা করে, ইহাতে তার নাম ও লিপিবদ্ধ করিয়েছিলেন।

প্রণীত সেই ব্যবস্থার বিরোধীতা এবং সমালোচনাও ছিলো।তখনকার অনেক আওয়ামীলীগ দলীয় সাংসদ (জেঃ ওসমানী,ব্যারিষ্টার মইনূল হোসেন,নূরে আলম সিদ্দিকী প্রমূখ) সহ, বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার আরো অনেকেই, ইহার বিরোধীতা করেছেন,সমালোচনা করেছেন এবং ইহাতে যোগদান করা থেকে বিরতও থেকেছেন।যা স্বাভাবিক এবং সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক রীতি-নীতিরই পরিচায়ক।

সুতরাং সেই চতুর্থ সংশোধনীকে, অবৈধ এবং জঙ্গী সামরিক শাসকদের জারি করা বিধি-বিধান, ‘পঞ্চম-সপ্তম’ সংশোধনীর সাথে এক কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়ার অবকাশ কোথায়?