ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আজকের (২০-৬-১১) প্রথম আলোতে জনাব মিজানুর রহমান খান “দুই নেত্রীর ‘তত্ত্বাবধায়ক বাতিল’ ভাবনা” শীর্ষক নিবন্ধে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে উচ্চ আদালতের রায় এবং আমাদের সংবিধান নিয়ে যৌক্তিক কিছু আলোচনা করেছেন। আইনি মার-প্যাঁচ এবং সাংবিধানিক ব্যাখ্যা নিয়ে এতো গুরুগম্ভীর কথা বার্তা,আমাদের মতো সাধারন মানুষের মাথায় ঢুকে না। তবে জনাব মিজানুর রহমান খানের উল্লেখিত নিবন্ধে, এ প্রাসঙ্গিক তার কিছু কথা বা যুক্তি আমার মতো এদেশের লক্ষ কোটি মানুষ বুঝে এবং এর সাথে সহমত পোষন করে।যেমন:-

“বর্তমানে এক-দশমাংশ অনির্বাচিত ব্যক্তির বিধানটি মূলত সামরিক শাসনের ফসল।অনির্বাচিত ব্যক্তিরা (শফিক আহমেদ,দিলিপ বড়ূয়া প্রমূখ) এখন মন্ত্রিত্ব করছেন,যারা জেনারেল জিয়ার ৫ম (উচ্চ আদালতের রায়ে যা অবৈধ এবং বাতিল)সংশোধনীর ডিজাইনের বেনিফিশিয়ারি। মাননীয় শেখ হাসিনা এটা মেনে নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন, এনিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলছেন না। এটা যদি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে আঘাত না করে,তাহলে ৯০ দিনের জন্য অনির্বাচিত ব্যক্তির মন্ত্রিত্ব মানা যাবেনা কেন?

এখন নির্বাচিত ব্যক্তিতে যদি আমাদের নতুন করে ভক্তি আসে,ক্ষতি নেই।তবে ক্ষমতাসীন দলকে সর্বাগ্রে তার নীতিগত অবস্থান পরিস্কার করতে হবে।অনির্বাচিত ব্যক্তিদের আমরা পাঁচ বছরের জন্য মন্ত্রী মানবো, আর ‘নির্বাচিত’ ধুয়া তুলে অনির্বাচিতদের ৯০ দিন বা একটা নির্বাচন করা পর্যন্ত মানবো না-এই দুই অবস্থান দ্বন্দ্বপূর্ণ এবং সুবিধাবাদিতার পরিচায়ক।

নির্বাচিতদের জন্য হঠাৎ দরদ উথলে ওঠা সরকারি দলের,এই মর্মেও একটি ঘোষনা দিতে হবে যে,মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া সাবেক নির্বাচিতদের দিয়ে গঠিত নির্বাচন কালীন অন্তর্বতী সরকারের প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন? বিদায়ী(সাবেক)প্রধান মন্ত্রী যদি এই পদে থাকতে চান, তাহলে তিনি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিবেন কি না বা নিতে পারবেন কি না? তিনি যদি নির্বাচন করতে চান-সেক্ষেত্রে তার দলের অন্য কোন ‘সাবেক’ কে অন্তবর্তী প্রধানমন্ত্রী করতে হবে,যিনি আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেবেন না”।

এর সাথে বোধ হয় আরো একটি ব্যপার যোগ করা যায়।তা হলো:

সাংবিধানিক মেয়াদ শেষে সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার পর, সবাইতো ‘সাবেক’ হয়ে গেলেন-যাদের কে ‘নির্বাচিত’ বলার আর কোনো সুযোগ নাই। তখন এই ‘সাবেক’ আর অনির্বাচিতদের মধ্যে তফাৎটা কোথায়?এই অনির্বাচিত ‘সাবেক’রা তত্ত্বাবাধায়ক সরকারের মন্ত্রী হতে পারলে অন্যেরা হতে পারবেনা কেন?

জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বা কল্যানে জনগনের নির্বাচিত বৈধ সংসদে যদি কোনো ধারা বা বিধি-বিধান পাশ করা হয়,তাহলে তা আবার অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক হয় কি করে?

এর সাথে বোধ হয় আরো একটি ব্যপার যোগ করা যায়।তা হোলো:

সাংবিধানিক মেয়াদ শেষে সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার পর, সবাইতো ‘সাবেক’ হয়ে গেলেন,যাদের কে ‘নির্বাচিত’ বলার আর কোনো সুযোগ নাই। তখন এই ‘সাবেক’ আর অনির্বাচিতদের মধ্যে তফাৎটা কোথায়?এই অনির্বাচিত ‘সাবেক’রা তত্ত্ববধায়ক সরকারের মন্ত্রী হতে পারলে অন্যেরা হতে পারবেনা কেন?

জাতির বৃহত্তর স্বার্থে বা কল্যানে জনগনের নির্বাচিত বৈধ সংসদে যদি কোনো ধারা বা বিধি-বিধান পাশ করা হয়,তাহলে তা আবার অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক হয় কি করে?