ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মামলার রায় প্রসঙ্গে,কোকোর পক্ষে এ সরকারের সময়ে আপিল করা হচ্ছে না। কারন তাঁর আইনজীবীদের দাবি, এ আমলে কোকো ন্যায়বিচার পাবেন না। কেন তাদের এমন আশংকা? কেন এই আমলে আপিল নয়?আসলে বিএনপি সব কিছুর মধ্যেই কেবল,তাদের অতীতের পংকিল চেহারাটাই দেখতে পায়।

মনে রাখা দরকার,আদালতে কোন মামলা উপস্থাপিত হলে,আদালত কারো মূখের দিকে না তাকিয়ে,আইনি বিধি-বিধান মোতাবেক,যা হওয়া দরকার,দৃঢ়তার সহিত সে রায়ই দিয়ে থাকে। অতীতে আমরা জঙ্গী-অবৈধ সামরিক শাসনকে বৈধতা দেয়ার এবং বিব্রতবোধকরে বিচার কাজ এড়িয়ে যাওয়ার মতো,বিচারপতিদের নতজানু এবং দৃঢ়তা হীন কর্মকান্ড যেমন দেখেছি, ঠিক তেমনি স্বয়ং সকারের প্রধানমন্ত্রীকে “Wrong Headed” বলার এবং সরকারকে জরিমানা করার মতো সাহসী দৃঢ়চেতা আদালতের রায়ও আমাদের অভিজ্ঞতায় আছে।

এখন আদালত যদি বিচারে যথাযথ সাহসী ও দৃঢ়তার সাক্ষর রাখে, এবং আদালতের রায় কারো বিপক্ষে গেলেই বা মনঃপুত না হলেই-“এই রায় সরকারের প্রভাবিত, পূর্বনির্ধারিত, রায় দেয়া বিচারপতি দল বিশেষের লোক, পক্ষপাতিত্বমূলক রায়, সরকারি হস্তক্ষেপে রায়” ইত্যাদি অজুহাত খাড়া করে,আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ শুরু করা, কোন ভালো লক্ষন নয়।আদালতের মাননীয় বিচারপতিরা কোন দল বিশেষের লোক,কোন দলের বা সরকারের মুখের দিকে তাকিয়ে, তারা বিচার কাজ করছেন,বিচারের রায় দিচ্ছেন-ঢালাওভাবে এমন অভিযোগ,জাতির জন্য একটি ক্ষতিকর প্রবনতা।

আদালত এবং আদালতের রায় নিয়ে সাম্প্রতিক এমনতর প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে মাননীয় আদালতের দৃষ্টি আকর্ষিত হওয়া দরকার এবং আদালতের তরফ থেকে এই মর্মে যথাযথ ব্যাখ্যা দরকার। অন্যথায়, আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এমনতর অবস্থান,অনাস্থা,বিষোদগার,দেশে নৈরাজ্যকর অবস্থার সৃষ্টি করবে।