ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

“ভবিষ্যতে জনগণের সরকার ক্ষমতায় এলে এই (বর্তমান) সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেওয়া হবে। কেননা, এটা কোনো সংবিধান নয়, এটা আওয়ামী লীগের দলীয় ইশতেহার”। বিএনপির গণ-অনশন কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে এই কথা গুলি বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া(সূত্র প্রথম আলো ১৩-৭-১১)।

প্রশ্ন জাগে,সংবিধানের কিছু কিছু সংশোধনী নিয়ে,মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রীর ভিন্নমত থাকতেই পারে,তারা ক্ষমতায় গেলে যেগুলি নিয়ে নতুন করে চিন্তা-ভাবনাও করতেই পারেন।ইহা খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার।কেননা সংবিধান কোরানের কোন বাণী নয়। সময় সময়ে বাস্তবতার দাবিতে ইহার সংশোধন-সংযোজন হতেই পারে।কিন্ত “ভবিষ্যতে ক্ষমতায় এলে পুরো সংবিধানটাই ছূঁড়ে ফেলে দেয়া হবে”-এটা কেমন কথা?

বেগম জিয়ার এমন স্পর্ধিত উচ্চারণে মনে করিয়ে দেয়,বেগম জিয়ার প্রয়াত স্বামী,বিএনপি নামক দলটির জন্মদাতা এ দেশের এক নম্বর সেনাপতি শাসক জ়েঃ জিয়াউর রহমানের কথা।তিনিও (জ়েঃজিয়া)আইয়ূব খান স্টাইলে ক্ষমতা দখল করেই,এই সংবিধান ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন।আবার ক্ষমতায় গিয়ে বেগম জিয়াও কি তাই করবেন?

আরো কথা হলো,এর আগেও বহুবার এই সংবিধানের সংশোধন করা হয়েছে।সেনাপতি শাসকরা,তাদের নীল নকশার অবৈধ সংসদে,তাদের সকল অবৈধ কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়ার জন্য এবং নিজেদের রাজনৈতিক অভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য,এমনকি এক ব্যক্তির নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য ও এই সংবিধান সংশোধান করেছেন।ইচ্ছামাফিক এসব মতলবি সংশোধনীর ব্যাপারে অনেক প্রশ্নের অবতারণা হলেও,‘পুরো সংবিধান কোন চক্র বা দল বিশেষের হাতিয়ার বা ইশতেহার,ক্ষমতায় গিয়ে এই সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেয়া হবে’ এমন দাম্ভিক উচ্চারণ কিন্ত আর কেউ কোনদিন করে নাই এবং ছুঁড়ে ফেলেও দেয়নাই।

এবার যা করা হয়েছে,তা করা হয়েছে,মাননীয় আদালতের যুগান্তকারী এক রায়ের আলোকে এবং ৫ম সংশোধনী বাতিলের আদালতের এই রায়টি কিন্ত হয়েছেও বেগম জিয়ার বিগত শাসনামলেই,যা এই আমলে বহাল রাখা হয়েছে মাত্র।

আর জনগনের সরকার বলতে বেগম জিয়া কি বুঝাতে চাচ্ছেন?দেশের মানূষের ভোটে নির্বাচিত সরকার যদি জনগনের সরকার না হয়,জনগনের সরকার তাহলে কি জিনিষ?পরিতাপের বিষয় এই যে,জনগনের ভোট এবং জনগনের রায়ের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা ও বেগম জিয়ারা পোষন করেন না,একদিনের জন্য ও তারা জনগনের দেয়া ভোটের ফলাফল মেনে নেয়ার,তথা এই সরকারকে স্বীকৃতি দেয়ার মতো উদার হতে পারেন নাই।এই যদি হয় অবস্থা,তাহলে তাদের সাথে (যারা তাদের যে কোন কথা শুরুই করেন এই সরকাকে, ‘এক উদ্দিন’ বাদ দিয়ে ‘দুই উদ্দিনের’ ষড়যন্ত্রের সরকার বলে)এই সরকার কোন সহযোগিতা-সমঝোতা করে কি করে?আর আমরা দেশের মানূষ যে ভোট দিলাম,এর মধ্যে তাদের বহুল কথিত এই ‘দুই উদ্দিন’এর ষড়যন্ত্র(?)আবিস্কার করা হয় কি করে?